• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বুধবার, ১৪ এপ্রিল ২০২১, ১ বৈশাখ ১৪২৮ ১ রমজান ১৪৪২

তরুণদের পছন্দ গল্প কবিতা, উপন্যাস

সংবাদ :
  • আবদুল্লাহ আল জোবায়ের

| ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২০

image

শামীমা নাজনীন। পড়ছেন রাজধানীর একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ইতিহাস ও দর্শন বিভাগে। এবারের অমর একুশে গ্রন্থমেলায় প্রথমবারের মতো এসেই কিনেছেন ৫টি বই। যার সবকটিই উপন্যাস ও কাব্যগ্রন্থ। এরমধ্যে তরুণ লেখক সাদত হোসেনের দুইটি অন্যগুলোর দুটি হুমায়ুন আহমেদ ও একটি আনিসুল হকের। হাতে থাকা বইয়ের তালিকায়ও তার কোন তাত্ত্বিক বই নেই। সবকটাই গল্প, কবিতা, উপন্যাসের। কাকলী প্রকাশনীর সামনে কথা হয় শামীমা নাজনীনের সঙ্গে। আগ্রহের কথা জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রতিবারই মেলায় এসে বই সংগ্রহ করি। যার বেশিরভাগই থাকে উপন্যাসের। অন্য বইও পড়ি, তবে এতে ঝোঁক বেশি। তালিকায় কোন মৌলিক বইয়ের নাম না থাকার বিষয়ে বলেন, আসলে মৌলিক বইগুলো নিয়ে ওভাবে পরিকল্পনা করিনি। তবে সামনে ভালো বই পড়লে কিনে নেব। শুধু শামীমা নয়, অধিকাংশ তরুণদেরই পছন্দের তালিকায় শীর্ষে গল্প, কবিতা, উপন্যাস। মেলায় এসব বইয়ের কাটতিও বেশ ভালো বলে জানান প্রকাশকরা। বই প্রকাশের দিক থেকেও শীর্ষে কবিতার বই। তালিকায় এরপরই আছে গল্প ও উপন্যাস। অন্য তাত্ত্বিক বই এ তুলনায় কম।

সময় প্রকাশনী থেকে আনিসুল হকের ‘মা’ উপন্যাসটি কিনেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থী ইব্রাহিম। জানতে চাইলে তিনিও জানান উপন্যাসের প্রতি আগ্রহের কথা। বলেন, অন্য বইও পড়ি তবে গল্প, উপন্যাসের প্রতি ঝোঁক একটু বেশিই। রাজধানীর বদরুন্নেসা মহিলা কলেজের ছাত্রী সালমা আক্তার বলেন, আমার প্রিয় লেখক হুমায়ুন আহমেদ স্যার। প্রতিবারই গ্রন্থমেলায় এসে স্যারের দু’একটি বই কেনার চেষ্টা করি। এছাড়াও গল্প, কবিতার বই পড়ারও অভ্যাস রয়েছে।

কথা প্রকাশের সামনে কথা হয় আইয়ুব আলী নামের বাংলাদেশ প্রকৌশলী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে। তিনি বলেন, আসলে সারাবছরই বইমেলার জন্য অপেক্ষায় থাকি। এ সময় বাজারে আসা নতুন বই থেকে বাছাই করে কিছু কিনে থাকি। আবার অনেক সময় পুরাতন বইগুলোও এখানে পাওয়া যায়। সব মিলিয়ে বই সংগ্রহের জন্য বইমেলার ওপরই অনেকটা নির্ভরশীল আমরা। তিনি এবারের মেলা থেকে তিনি মোট ৮টি বই কিনেছেন, যার মধ্যে গল্প ও উপন্যাসের বই বেশি।

কাকলী প্রকাশনীর স্বত্ত্বাধিকারী নাসির উদ্দিন সেলিম বলেন, আমাদের প্রকাশনীতে গল্প, উপন্যাস ও কবিতার বই বেশি। পাঠকও এসব বইয়ের বেশি। বরাবরের মতো এবারও এসব বইয়ের কাটতি সব থেকে বেশি। আর এসব বই সব থেকে বেশি কিনছেন তরুণরা। অন্য প্রকাশের জনসংযোগ বিভাগের কর্মকর্তা আলা উদ্দিন টিপু বলেন, বইমেলায় বিক্রির দিক থেকে উপন্যাস শীর্ষে। এছাড়া গল্প, কবিতা ও উপন্যাসও ভালো চলছে। স্টুডেন্ট ওয়েজের প্রকাশক মো. লিয়াকত উল্যাহ বলেন, তরুণদের পছন্দের শীর্ষে উপন্যাসের বই। বরাবরের মতো এবারও এসব বই বেশি বিক্রি হচ্ছে।

বইমেলায় রকিব হাসানের ‘ভূতুরে শিয়াল’ :

ছোটবেলা থেকে রকিব হাসানের লেখা ‘তিন গোয়েন্দা’ পড়েনি কিংবা তার কিশোর মুসা ও রবিনকে চেনে না এমন মানুষ খুব কম পাওয়া যাবে। জনপ্রিয় এই গোয়েন্দা লেখকের কয়েকটি বই এবারের বইমেলায় এসেছে। এরমধ্যে তার ভৌতিক বই ‘ভূতুরে শিয়াল’ অন্যতম। বইটি প্রকাশ করেছে প্রকাশনা সংস্থা ‘কালো’। বইটির মূল্য ১২০ টাকা। রকিব হাসানের তৈরি কিশোর, মুসা আর রবিন চরিত্র পাতায় পাতায় নানা রহস্য আর রোমাঞ্চের মুখোমুখি হয়। কিন্তু এই গল্পটা রকিব হাসানের নিজের সঙ্গে ঘটে যাওয়া সত্য একটি রোমাঞ্চকর ভৌতিক কাহিনী নিয়ে। গল্পটা তার ছোটবেলার। প্রিয় লেখকের নিজের সত্য কাহিনী নির্ভর বইয়ের খবর পেয়ে ইতোমধ্যে রকিব হাসান ভক্তদের ভিড় জমেছে ‘কালো’র ২১৭ নম্বর স্টলে। ‘ভূতুরে শিয়াল’ এর বিক্রিতে রীতিমতো কাঁপছে বইমেলা। বইটি প্রসঙ্গে ‘কালো’র প্রকাশক আহমদ আমিন বলেন, যখন থেকে ঘোষণা করা হয়েছে ‘কালো’ প্রকাশনী থেকে রকিব হাসানের বইটি প্রকাশিত হবে তখন থেকেই বইটি নিয়ে পাঠকদের আগ্রহ ছিল অনেক বেশি। বইটির বিক্রিতে এর প্রমাণ পেয়েছি আমরা।

মেলায় নতুন বই :

গতকাল মেলায় নতুন বই এসেছে ১১৬টি। এর মধ্যে গল্পগ্রন্থ এসেছে ১২টি, উপন্যাস ১৯টি, প্রবন্ধ ৮টি, কবিতার বই ৪০টি, গবেষণা বিষয়ক গ্রন্থ ২টি, শিশুসাহিত্য ৫টি, জীবনীগ্রন্থ ১টি, মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বই ৪টি, বিজ্ঞান বিষয়ক গ্রন্থ ৫টি, ইতিহাসের বই ৫টি, বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে লেখা বই ৪টি, রম্য/ধাঁধা ৪টি, অনুবাদের বই ১টি, অভিধান ২টি, সায়েন্স ফিকশন ২টি এবং অন্য গ্রন্থ এসেছে ২টি। এদিকে গতকাল বিকেলে মেলার সোহরাওয়ার্দী উদ্যান প্রাঙ্গণে দিপালি দুলি, সালমা রেখা ও খুরশিদা তানজিরের লেখা গল্প ও প্রবন্ধের বই ‘পঞ্চাশের অরুনপ্রাতে’ বইটির মোড়ক উন্মোচন করেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি।

গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চের অনুষ্ঠান :

গতকাল অমর একুশে গ্রন্থমেলার ১৮তম দিনে মেলা চলে বিকেল ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত। বিকেল ৪টায় গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় জালাল ফিরোজ রচিত বঙ্গবন্ধু গণপরিষদ সংবিধান শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মুজতবা আহমেদ মুরশেদ। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন ডালেম চন্দ্র বর্মণ, মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন এবং সাব্বীর আহমেদ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইতিহাসবিদ অধ্যাপক সৈয়দ আনোয়ার হোসেন।

প্রাবন্ধিক বলেন, বঙ্গবন্ধু বলেছেন, ‘শাসনতন্ত্রহীন জাতি নোঙর-বিহীন নৌকার মতো।’ এ উপলব্ধি থেকেই যুদ্ধবিধ্বস্ত একটি নবীন রাষ্ট্রের জন্য একটি সংবিধান প্রণয়নে তিনি জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। বঙ্গবন্ধু বলেছেন, ‘রক্তের অক্ষরে এই সংবিধান রচিত’। গণপরিষদ গঠন, এর বিন্যাস এবং সংবিধানের মূল রূপরেখার ওপর বঙ্গবন্ধু সেসব সিদ্ধান্তধর্মী বক্তব্য রাখেন, এ বিষয়ে সরকার-দলীয় ও বিরোধী সদস্যদের বক্তব্য, মত, পরামর্শ, গণপরিষদের সদস্যদের পর্যালোচনা, জনগণের অধিকার সংরক্ষণের নানাদিক, সর্বোপরি বঙ্গবন্ধু যে আদর্শ ও চারটি মৌলিক স্তরের ভিত্তিতে সংবিধান রচনার নিদের্শ দেন তা সুলিখিতভাবে এ গ্রন্থে রয়েছে।

আলোচকরা বলেন, জাতির পিতার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে অত্যন্ত দ্রুততম সময়ে বাংলাদেশের জনগণের চাওয়া-পাওয়া, জাতির জীবনে প্রতিটি সংগ্রামের ইতিহাস-ঐতিহ্য প্রস্ফুটিত হয়েছে এ সংবিধানে। স্বল্প সময়ে সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞজনদের আন্তরিক তৎপরতা, সর্বোপরি বঙ্গবন্ধুর দূরদর্শী ও গতিশীল নেতৃত্বে একটি সদ্যস্বাধীন দেশে বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়ন পৃথিবীর ইতিহাসে একটি অনন্যসাধারণ ঘটনা। গ্রন্থের লেখক বলেন, বঙ্গবন্ধু বিষয়ক এই গ্রন্থে কিছু অনালোচিত বিষয়ে আলোকপাত এবং নতুন তথ্য উদ্ঘাটনের প্রয়াস পেয়েছি। পাঠক এই বই থেকে বঙ্গবন্ধুর শাসনতান্ত্রিক ভাবনার পরিচয় পাবেন বলে আশা করি। সভাপতির বক্তব্যে সৈয়দ আনোয়ার হোসেন বলেন, লেখক যথেষ্ট পরিশ্রম করে গবেষণামূলক দৃষ্টিতে গ্রন্থটি রচনা করেছেন। বঙ্গবন্ধু ছিলেন জনগণের বন্ধু। তার দিক-নির্দেশনায় বাংলাদেশের সংবিধানে স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে রাষ্ট্রের মালিকানা জনগণের। সে কারণে বাংলাদেশের সংবিধানে মেহনতি মানুষের কথা, সংগ্রামী মানুষের কথা বিবৃত হয়েছে, যা সমকালীন পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল।

গতকাল লেখক বলছি অনুষ্ঠানে নিজেদের নতুন বই নিয়ে আলোচনা করেন নাসরীন জাহান, ফারুক মঈনউদ্দীন, মামুন খান এবং ¯স্নিগ্ধা বাউল। ছড়াপাঠের আসরে ছড়া পাঠ করেন ছড়াকার আসলাম সানী, আলম তালুকদার, লুৎফর রহমান রিটন, আমীরুল ইসলাম, আনজীর লিটন, রহীম শাহ, ফারুক হোসেন। আজ ছিল হাসান আবদুল্লাহ’র পরিচালনায় সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘ঘাসফুল শিশুকিশোর সংগঠন’-এর পরিবেশনা।

আজকের অনুষ্ঠানসূচি :

আজ অমর একুশে গ্রন্থমেলার ১৯তম দিনে মেলা চলবে বিকেল ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত। বিকেল ৪টায় গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে আবুল কাসেম রচিত ‘বঙ্গবন্ধু ও চা শিল্প’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। এতে প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন দীপংকর মোহান্ত। আলোচনায় অংশগ্রহণ করবেন মেসবাহ কামাল ও মোকারম হোসেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন অধ্যাপক বিশ্বজিৎ ঘোষ। সন্ধ্যায় রয়েছে কবিকণ্ঠে কবিতাপাঠ, আবৃত্তি এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।