• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২০, ১৪ কার্তিক ১৪২৭, ১২ রবিউল ‍আউয়াল ১৪৪২

ঢাবি অধ্যাপকের এক গবেষণায় দুই ডিগ্রি!

পরীক্ষার ফলে অসঙ্গতি দু’বছরেও শেষ হয়নি তদন্ত

সংবাদ :
  • আবদুল্লাহ আল জোবায়ের

| ঢাকা , রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২০

ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের (ঢাবি) ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বাহাউদ্দিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ, গবেষণার নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে তিনি একই গবেষণা পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠা এমফিল এবং পিএইচডিতে ব্যবহার করেছেন। এমফিল গবেষণায় ব্যবহৃত শিরোনামের সামান্য পরিবর্তন করে ব্যবহার করেছেন পিএইচডি গবেষণায়। ফলে সবার দৃষ্টির অগোচরে একই লেখা দিয়ে নিয়েছেন দুই ডিগ্রি। একদিকে রেফারেন্স ছাড়া অন্যের লেখা গবেষণায় তুলে দিয়েছেন, আবার নিজের এমফিল গবেষণায় ব্যবহৃত উদ্ধৃতি-কবিতা-বক্তব্য পিএইচডি গবেষণায় ব্যবহারের সময় রেফারেন্সের উল্লেখ করেননি। একই গবেষণায় এমফিল এবং পিএইচডি ডিগ্রি নিয়ে দ্রুততম সময়ে প্রভাষক থেকে অধ্যাপক পদে পদোন্নতি পেয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে বিষয়টি দৃষ্টির অগোচরে থাকলেও সম্প্রতি বিষয়টি আবার প্রকাশ্যে আসে। এসব বিষয়ে অবগত হওয়ার পরও বিশ^বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা তো নেয়ই নি, উল্টো তাকে বিভাগের চেয়ারম্যান পদে বসাতে মরিয়া বলে অভিযোগ করেছে সংশ্লিষ্টরা। এসবের বাইরে তার বিরুদ্ধে পরীক্ষার ফলাফলে অসংগতির অভিযোগও আছে। এখানেও ‘নিশ্চুপ’ বিশ^বিদ্যালয় প্রশাসন।

অধ্যাপক বাহাউদ্দিন যার জীবন ও কর্মের ওপর এমফিল ও পিএইচডি গবেষণা করেছেন তার নামের বানান দুই জায়গায় দুই রকম ব্যবহার করেছেন। বাহাউদ্দিনের এমফিল গবেষণার শিরোনাম ‘বাংলাদেশে মরমী সাহিত্য ও রূমী চর্চায় ছৈয়দ আহমদুল হকের অবদান’ অন্যদিকে পিএইচডি গবেষণার শিরোনাম ‘সৈয়দ আহমদুল হক ও বাংলাদেশে সুফিবাদ’। আহমদুল হকের নামের বানানে এমফিল গবেষণায় ‘ছৈয়দ’ এবং পিএইচডি গবেষণায় ‘সৈয়দ’ লেখা হয়েছে। নামের বানান ব্যাখ্যা ছাড়াই তিনি দুই জায়গায় দু’ভাবে লিখেছেন। এছাড়া তার গবেষণায় প্রচুর ভুল বানান রয়েছে। একই শব্দ কোথাও ‘-িকার’ আবার কোথাও ী-কার’, কোথাও ‘ ু-কার’, কোথাও ‘ ূ কার’, কোথাও ‘ছ’, আবার একই শব্দে কোথাও ‘স’ ব্যবহার করেছেন। একই রেফারেন্স এমফিল গবেষণায় পৃষ্ঠা নাম্বার ব্যবহার করেছেন এক, পিএইচডি গবেষণায় অন্য। আবার কোথাও দুই, পাঁচ লাইনের উদ্ধৃতির জন্য রেফারেন্স উল্লেখ করেছেন ১০ পৃষ্ঠা। এসব অসঙ্গতির জন্য গবেষণার মানের কথা বাদ দিলেও অভিযুক্ত শিক্ষকের নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

অধ্যাপক বাহাউদ্দিনের এমফিল গবেষণার তত্ত্বাবধায়ক ছিলেন ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের বর্তমান অধ্যাপক এবং তৎকালীন সহযোগী অধ্যাপক ড. কেএম সাইফুল ইসলাম খান। আর পিএইচডিতেও তিনি তত্ত্বাবধায়ক ছিলেন। পরে পর্যাপ্ত সময়ের অভাবে তিনি বাহাউদ্দিনকে সহ-তত্ত্বাবধায়ক নিতে বলেন। তার পিএইচডির সহ-তত্ত্বাবধায়ক ছিলেন বিভাগের বর্তমান অধ্যাপক এবং তৎকালীন সহযোগী অধ্যাপক ড. তারিক জিয়াউর রহমান সিরাজী। তার এমফিলের গবেষণা প্রকাশের তারিখ দেয়া হয়েছে ২০০৮ সালের ডিসেম্বর আর পিএইচডি প্রকাশের সাল ২০১১ সালের ডিসেম্বর। এমফিল গবেষণা গ্রন্থের মোট পৃষ্ঠা ২০৩ এবং পিএইচডি গবেষণা গ্রন্থের মোট পৃষ্ঠা ২৮৭। জালিয়াতি সংক্রান্ত প্রমাণাদি এই প্রতিবেদকের কাছে রয়েছে।

জানা যায়, মোহাম্মদ বাহাউদ্দিনের এমফিল গবেষণার ১৩ পৃষ্ঠা হতে ১৭২ পৃষ্ঠা পর্যন্ত রেফারেন্স ছাড়া অন্তত ৩৯টি কবিতা-কবিতাংশ ও উদ্ধৃতি চিহ্নিত করা গেছে, এসব উক্তি ও কবিতার অনেকগুলো কোথাও রেফারেন্স দিয়ে কোথাও রেফারেন্স ছাড়া হুবহু কপি করেছেন পিএইচডি গবেষণায়ও। এছাড়া পিএইচডি গবেষণায় ২২ পৃষ্ঠা থেকে ২৩৯ পৃষ্ঠা পর্যন্ত রেফারেন্স ছাড়া অন্তত ১৯টি উক্তি ও উদ্ধৃতি চিহ্নিত করা গেছে। পিএইচডি গবেষণার অন্তত ৪৬ পৃষ্ঠাজুড়ে এবং তার অনেকগুলোর ক্ষেত্রেই পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠা এমফিলের লেখা থেকে হুবহু তুলে দিয়েছেন কোনরকম রেফারেন্সের উল্লেখ না করেই।

রেফারেন্স উল্লেখ করলেও ছিল অসঙ্গতি : এমফিল গবেষণার ৩১ পৃষ্ঠায় একই রেফারেন্স ২৫-২৬ পৃষ্ঠা উল্লেখ করলেও পিএইচডি গবেষণার ৪৫ পৃষ্ঠায় পৃষ্ঠা-২৬ উল্লেখ করা হয়। এমফিল ৩৩-৩৪ পৃষ্ঠায় পৃষ্ঠা ৪৭২-৪৮১ উল্লেখ করা হলেও পিএইচডি ৪৯-৫০ পৃষ্ঠায় একই রেফারেন্সে পৃষ্ঠা ৪৮১ উল্লেখ করা হয়েছে। ১০ লাইনের একটি উদ্ধৃতি ১০ পৃষ্ঠাজুড়ে হওয়া সম্ভব নয়। এমফিল ৩৪ পৃষ্ঠায় এবং পিএইচডির ৫২ পৃষ্ঠায় দুই লাইনের উদ্ধৃতি এমফিলে পৃষ্ঠা ১৫০-১৫১ হলেও পিএইচডিতে পৃষ্ঠা ১৫১ উল্লেখ করা হয়েছে। এমফিলের ৩৪-৩৫ পৃষ্ঠায় পিএইচডির ৫৬ পৃষ্ঠায় দুই লাইনের একটি উদ্ধৃতির জন্য রেফারেন্স উল্লেখ করা হয়েছে ১০ পৃষ্ঠা আর গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে ১ পৃষ্ঠা। এমফিল ৩৫ পৃষ্ঠায় এবং পিএইচডির ৫৭-৫৮ পৃষ্ঠায় এমফিল গবেষণায় ৫ লাইনের একটি উদ্ধৃতির জন্য রেফারেন্স উল্লেখ করা হয়েছে ২৭ পৃষ্ঠা (৮৮-১১৫)। এমফিলের ৩৬ পৃষ্ঠায় এবং পিএইচডির ৫৮-৫৯ পৃষ্ঠায় এমফিলে ৭ লাইনের উদ্ধৃতির জন্য রেফারেন্স উল্লেখ করা হয়েছে ৮ পৃষ্ঠা। এমফিলের ৪৩ পৃষ্ঠায় এবং পিএইচডির ৬৪ পৃষ্ঠায় শব্দে-বর্ণে পার্থক্য, রেফারেন্সের পৃষ্ঠা সংখ্যায় অমিল। এমফিলের ৮৬-৮৯ পৃষ্ঠায় এবং পিএইচডির ১০০-১০৪ পৃষ্ঠায় (ছৈয়দ আহমদুল হকের ৯০তম জন্মদিন স্মারক-২০০৬, আল্লামা রুমী সোসাইটি, আনজুমানে ফার্সী বাংলাদেশ, ২ সেপ্টেম্বর, ২০০৬, ঢাকা, পৃষ্ঠা-৪৬) রেফারেন্সে কিছু বর্ণনা আর একটি কবিতা লেখা হয়। অথচ ওই স্মারকের ৪৬ পৃষ্ঠায় এমন কোন কবিতা বা বর্ণনার অস্তিত্ব নেই। পিএইচডির ১৩৯ পৃষ্ঠায় রেফারেন্সসহ যে উদ্ধৃতিটি ব্যবহার করা হয়েছে এমফিলের ১০৬ পৃষ্ঠায় সেটা রেফারেন্স ছাড়া ব্যবহার করা হয়েছে। এমফিলের ১১৩ পৃষ্ঠায় ও পিএইচডির ১৩৩ পৃষ্ঠায় অল্প কিছু পরিবর্তন ছাড়া একই উদ্ধৃতি পিএইচডিতে রেফারেন্স থাকলেও এমফিলে রেফারেন্স নেই। এমফিলের ১১৫ পৃষ্ঠায় ও পিএইচডির ১৫০ পৃষ্ঠায় বর্ণনায় এমফিল গবেষণায় রেফারেন্স থাকলেও পিএইচডিতে রেফারেন্স নেই।

এমফিল গবেষণায় রেফারেন্স ছাড়াই উদ্ধৃতি : এমফিল গবেষণার ১৩নং পৃষ্ঠায় বর্ণিত ১১-১৭ লাইনগুলো ‘বাংলার রুমী সৈয়দ আহমদুল হক স্মারকগ্রন্থ ২০১১-এর ২৩নং পৃষ্ঠায় হুবহু কোন প্রকার উদ্ধৃতি ছাড়াই ছাপা হয়েছে। ৪৫নং পৃষ্ঠায় উপর থেকে ১৪ ও ১৫নং লাইনে চন্ডিদাসের নামে একটি দুটি কবিতার নাম ছাপা হলেও কোন রেফারেন্স দেয়া হয়নি। ৫০ পৃষ্ঠার শুরুতে রুমীর কবিতা হিসেবে ইংরেজি ৪ লাইন, ৬৯ পৃষ্ঠার মধ্যভাগে জয়ানন্দের কবিতার ২ লাইন, ৭০ পৃষ্ঠার শেষভাগে রবীন্দ্রনাথের কবিতা হিসেবে ৪ লাইন, ৯২ পৃষ্ঠায় বর্ণিত উপর থেকে ৮-১৬ লাইনগুলো, ৯৩-৯৪ পৃষ্ঠায় রেফারেন্স ছাড়া ৩টি সনদপত্রের বর্ণনা, ৯৫ পৃষ্ঠার শেষভাগে রেফারেন্স ছাড়া ১১ লাইনের একটি সংবাদ, ৯৭ পৃষ্ঠার শেষভাগে ও ৯৮ পৃষ্ঠাজুড়ে রেফারেন্স ছাড়া ১০-০৬-১৯৭২ তারিখে তৎকালীন বাণিজ্যমন্ত্রীর একটি ম্যাসেজ, ১১০ পৃষ্ঠার শেষভাগে রুমীর কবিতা হিসেবে ২টি লাইন, ১১৭ পৃষ্ঠার মধ্যভাগ থেকে ১১৯ পৃষ্ঠার মধ্যভাগ পর্যন্ত লং ফেলো, বাইবেল, গীতা, হাদীসের বাণী হিসেবে বর্ণনা, ১২০ পৃষ্ঠার উপরের দিকের অর্ধাংশ সেক্সপিয়ারের কবিতা, ১২১ পৃষ্ঠার মধ্যভাগে আহমদুল হকের অভিব্যক্তি ও বৈষ্ণব কবির কবিতা হিসেবে ৯টি লাইন, ১২২ পৃষ্ঠার শেষভাগে ও ১২৩নং পৃষ্ঠাজুড়ে ১৯টি লাইন কবিতা, ১২৪ পৃষ্ঠার শেষভাগে রুমীর কবিতা হিসেবে ৪ লাইন, ১২৬ পৃষ্ঠা থেকে ১৩৩ পৃষ্ঠা পর্যন্ত রুমী, কবি অডেন, দার্শনিক বেকন, বাইবেল, ফরিদউদ্দীন আত্তার, হাফিজ শিরাজি, গীতা প্রভৃতির উদ্ধৃতি, ১৩৬ পৃষ্ঠার মধ্যভাগ থেকে ১৩৭ পৃষ্ঠার মধ্যভাগ পর্যন্ত কবি টেনিসন, কুপার, হেনরি ফ্রান্সিসের কবিতার অনেকগুলো লাইন, ১৭২ পৃষ্ঠার শুরু থেকে ১৭৫ পৃষ্ঠা পর্যন্ত রুমী, লালন, টেনিসন শেখ সা’দী, নজরুলের কবিতা হিসেবে অনেকগুলো লাইন রেফারেন্স ছাড়াই উল্লেখ করা হয়েছে।

পিএইচডি গবেষণায় রেফারেন্স ছাড়া উদ্ধৃতি : তার পিএইচডি গবেষণার ২২ পৃষ্ঠার শুরুতে সীতার উক্তি এবং একই পৃষ্ঠার শেষে রুমীর কবিতা, ৬৭ ও ৬৮ পৃষ্ঠাজুড়ে আবদুল হাকিম, সৈয়দ সুলতানের কবিতা, ১০৭ থেকে ১১০ পৃষ্ঠা পর্যন্ত শেক্সপিয়ার, শেলি, হাফিজ, মসনভীর ঘটনা, ১১৩ পৃষ্ঠার শুরুর দিকে ওমর খৈয়ামের কবিতা, ১৬২ থেকে ১৬৯ পৃষ্ঠা পর্যন্ত রমেশ ফকির, শেক্সপিয়ারের কবিতা, ২৩৬নং পৃষ্ঠায় আল্লামা ইকবালের কবিতা, ২৩৯নং পৃষ্ঠায় আল্লামা ইকবালের কবিতা রেফারেন্স ছাড়াই উল্লেখ করা হয়েছে।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে অধ্যাপক বাহাউদ্দিনের এমফিল ও পিএইচডির তত্ত্বাবধায়ক অধ্যাপক ড. কেএম সাইফুল ইসলাম খান সংবাদকে বলেন, আমি তার থিসিস তিন-চার মাস আটকে রাখি। আমি বলেছিলাম, তোমার আরও ছয়মাস এটা নিয়ে কাজ করতে হবে। সে আমার পরামর্শ গ্রহণ না করে উল্টো আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলে যে, আমি তার পদোন্নতি চাইনা বলে থিসিস আটকে দিয়েছি। তখন তার পক্ষ নিয়ে সহ-তত্ত্বাবধায়ক (অধ্যাপক ড. তারিক জিয়াউর রহমান সিরাজী) ও তখনকার প্রক্টর আমজাদ আমাকে ফোন করে। শেষ পর্যন্ত বিব্রতকর পরিস্থিতিতে আমি স্বাক্ষর দিতে বাধ্য হয়েছি।

অধ্যাপক বাহাউদ্দিনের পিএইচডির সহ-তত্ত্বাবধায়ক অধ্যাপক ড. তারিক জিয়াউর রহমান সিরাজীর মুঠোফোনে কল দিয়ে একই গবেষণায় দুইটি ডিগ্রি কিভাবে নেয়া সম্ভব জানতে চাইলে তিনি প্রতিবেদককে প্রশ্ন করেন, তুমি সেটা বুঝলে কিভাবে? তথ্য-প্রমাণ আছে জানালে তিনি বলেন, ফোনে এসব বিষয়ে বলা সম্ভব না। তার কক্ষে গেলে তিনি এসব বিষয়ে কথা বলবেন বলে জানান।

অভিযোগের বিষয়ে ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বাহাউদ্দিন সংবাদকে বলেন, আমার পিএইচডিতে ৯টি অধ্যায় আছে। তার মধ্যে এক/দুইটি অধ্যায় ছৈয়দ আহমদুল হক সংক্রান্ত। সুফীবাদের সাধারণ সংজ্ঞা তো একই হবে। এরপরও আমি রেফারেন্স ছাড়া কিছু লিখি নাই। তিনি বলেন, ১১ বছর আগের ডিগ্রি নিয়ে এখন কেন কথা উঠল! আমি কয়েকদিন পরে বিভাগের চেয়ারম্যান হওয়ার কথা রয়েছে। এজন্যই এসব বিষয় সামনে আনা হচ্ছে।

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান সংবাদকে বলেন, কেউ এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত অভিযোগ দেয়নি। সামনে ওই বিভাগে চেয়ারম্যান নিয়োগ আছে। সেজন্য এসব সামনে আসছে কিনা দেখতে হবে।

পরীক্ষার ফলে অসংগতি : দুই বছরেও শেষ হয়নি তদন্ত, নেয়া হয়নি ব্যবস্থা

ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বাহাউদ্দিন ও অধ্যাপক ড. আবদুস সবুর খানের বিরুদ্ধে অভিযোগ, ২০১৭ সালে বিভাগের ৩য় বর্ষ ৬ষ্ঠ সেমিস্টারের ফলাফলে তারা জালিয়াতি করেছেন। পরবর্তীতে এ ফলাফলে অনাস্থা এনে ফল পুনঃনীরিক্ষণের দাবি জানায় বিভাগের ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা। তখন অভিযোগ আমলে নিয়ে পুনঃনীরিক্ষিত ফলাফলে ১১ শিক্ষার্থীর চারটি কোর্সের ৩২ স্থানে প্রাপ্ত নম্বরের কমবেশি করার প্রমাণ মেলে। বিশ^বিদ্যালয়ের কোন শিক্ষকের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ আসলে তার বিরুদ্ধে বিশ^বিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ নেয়া হয়। এর আগে এমন অভিযোগে বিশ^বিদ্যালয়ের আইন বিভাগ এবং ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষকের চাকরিচ্যুতির দৃষ্টান্ত রয়েছে। তবে, ঘটনার দুই বছর পরও অভিযুক্ত শিক্ষকদের বেলায় এখনও কোন সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি বিশ^বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

সংশ্লিষ্টরা জানান, বিষয়টি আমলে নিয়ে প্রাথমিকভাবে নিরীক্ষা শেষে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। তাই ডিবির (ডিসিপ্লিনারি বোর্ড) সাব-কমিটির সভায় ফলাফল জালিয়াতির বিষয়টি উপস্থাপন করা হয়। এই সাব-কমিটি শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে বিভাগের ফল প্রকাশ করতে বলে। পাশাপাশি অভিযোগের বিষয়ে একটি প্রতিবেদন ডিবিতে দেয়া হয়। পরবর্তীতে অধিকতর তদন্তের জন্য বিশ^বিদ্যালয়ের কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আবু মো. দেলোয়ার হোসেনকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. দেলোয়ার হোসেন এবং রোকেয়া হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. জিনাত হুদা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক বিশ^বিদ্যালয়ের কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আবু মো. দেলোয়ার হোসেন সংবাদকে বলেন, আমরা এখন তদন্তের অগ্রগতির প্রতিবেদন দিব। আশা করছি এক সপ্তাহের মধ্যে হয়ে যাবে। তিনি বলেন, তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের কয়েকটি ধাপ আছে। উপাচার্যকে অবহিত করার পর এই প্রতিবেদন শৃঙ্খলা কমিটিতে (ডিসিপ্লিনারি বোর্ড) যাবে। সেখানে যে সিদ্ধান্ত আসবে তা পরবর্তীতে জানিয়ে দেয়া হবে।