• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বৃহস্পতিবার, ২১ মার্চ ২০১৯, ৭ চৈত্র ১৪২৫, ১৩ রজব ১৪৪০

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ১৮ কিলোমিটার যানজট

সংবাদ :
  • প্রতিনিধি, সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ)

| ঢাকা , শনিবার, ১৬ মার্চ ২০১৯

image

যানজটে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যানবাহনের দীর্ঘ সারি -সংবাদ

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কটি দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়ক। প্রতিদিনই পণ্যবাহী ট্রাক-লরিসহ হাজার হাজার যাত্রীবাহী যান চলাচল করে গুরুত্বপূর্ণ এ সড়ক দিয়ে। কিন্তু প্রায় সময়ই এ সড়কটিতে লেগে থাকে তীব্র যানজট। যার কারণে যাত্রীদের পড়তে হয় চরম দুর্ভোগে। গত দুদিন যাবত এ সড়কের মেঘনা থেকে কাচপুর পর্যন্ত প্রায় ১৮ কিলোমিটার যানজট মহাজটে রূপ নেয়। আর এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েন গণপরিবহন যাত্রীরা।

জানা যায়, অজ্ঞাত কারণে মেঘনা সেতু এলাকা হতে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যানবাহনের ধীরগতি থেকে যানজট সৃৃষ্টি হয়। কুমিল্লা-চট্টগ্রামগামী পরিবহনগুলো কাচপুর থেকে মেঘনা সেতু টোল প্লাজা এলাকা পর্যন্ত রাতভর কচ্ছপ গতিতে এগুতে থাকলেও চলাচল তেমন একটা স্বাভাবিক না হওয়ায় ও গাড়ির চাপ আরও বাড়তে থাকায় শুক্রবার রাত পর্যন্ত মদনপুর ছাড়িয়ে কাচপুর সেতু পর্যন্ত চলে যায় এই যানজট। এমন জটে হাইওয়ে পুলিশের তেমন একটা ভূমিকা দেখতে না পেয়ে পরিবহন সংশ্লিষ্টরাই যতটুকু সম্ভব নিজেরা তদারকি করে জট নিরসনের চেষ্টা করেছেন বলে জানান অনেকে। এদিকে শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত ব্যস্ততম এ সড়কে যানজট রূপ নিয়েছিল মহাজটে। চট্টগ্রামের যাত্রী রাবেয়া সুলতানা জানান, যানজটের তীব্রতার কারণে নারী, শিশুরা অসুস্থ হয়ে পড়ছে। তাছাড়াও বিভিন্ন গন্তব্যের যাত্রীরা হাইওয়ে পুলিশের দায়িত্ব পালন নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এদিকে মদনপুর এলাকা দিয়ে এশিয়ান হাইওয়ে সড়ক হওয়াতে দ্রুত গন্তব্যে যাওয়ার জন্য বিভিন্ন পরিবহন চালকরা সেই রাস্তাটি ব্যবহার করেন। আর এ কারণে মদনপুর এলাকা দিয়ে গাড়ি ইউটার্ন করার সময় মহাসড়কে আরও যানজট সৃৃষ্টি হচ্ছে। মেঘনা এলাকায় আটকা পড়া চট্টগ্রামগামী একটি পরিবহনের বাস চালক খোরশেদ আলম শুক্রবার বিকেলে জানান, মদনপুুর পার হওয়ার পর থেকেই প্রায় ৪ ঘণ্টায় এখানে এসেছি কিন্তু কী কারণে এই জট তা যেমন দেখলাম না তেমনই জট নিরসনে পুলিশেরও ভূমিকা দেখিনি। এদিকে সড়কে চলতে না পেরে মানুষের পায়ে হাঁটার ফুটপাত পর্যন্ত দখলে ছিল গণপরিবহনগুলোর। যার কারণে পথচারীদেরও পড়তে হয় দুর্ভোগে। কুমিল্লাগামী একটি পরিবহনের যাত্রী শিমু আক্তার জানান, কাচপুর থেকে মেঘনা সেতু এলাকায় আসতে আমাদের প্রায় ৬ ঘণ্টা সময় বাসে বসে থাকতে হয়েছে যা কিনা সড়কে যানজট না থাকলে বেশি হলে ১০ থেকে ১৫ মিনিট সময় লাগতো। এদিকে বৃহস্পতিবার রাত থেকে সৃষ্ট যানজট নিরসনে হাইওয়ে পুলিশের তেমন কোন ভূমিকা ছিল না বলে জানতে চাইলে কাচপুর হাইওয়ে থানার ওসি (তদন্ত) আলী রেজা জানান, শুক্রবার ছুটি থাকায় অতিরিক্ত গাড়ির চাপ বেড়ে কিছুটা যানজটের সৃষ্টি হয়। তাছাড়া মেঘনা সেতু দিয়ে ওয়ান বাই ওয়ান অর্থ্যাৎ সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় এক পাশ বন্ধ করে আরেক পাশের পরিবহন পার হতে দেয়া হয়। তাছাড়া ১৬ মার্চ কাচপুর দ্বিতীয় সেতুর উদ্বোধন করা হবে। এ কারণে ইউলুপের কাজ চলমান বিধায় যানবাহনের ধীরগতি থেকে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। তবে হাইওয়ে পুুলিশ যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে সব সময় কাজ করে যাচ্ছে।