• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বৃহস্পতিবার, ২০ জুন ২০১৯, ৫ আষাঢ় ১৪২৫, ১৫ শাওয়াল ১৪৪০

ডাকাত চক্রের হোতা জুয়েলারি ব্যবসায়ী

গ্রেফতার ৬

    সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
  • | ঢাকা , শনিবার, ১২ জানুয়ারী ২০১৯

জুয়েলারি ব্যবসার আড়ালে সংঘবদ্ধ একটি ডাকাত চক্রকে পরিচালনা করতেন গাজীপুরের টঙ্গী এলাকার একটি জুয়েলারি দোকানের কর্ণধার প্রদীপ পোদ্দার (৪০)। ডাকাতি করে নিয়ে আসা স্বর্ণালঙ্কার কম মূল্যে চক্রের সদস্যদের কাছ থেকে কিনে রাখতেন তিনি। চক্রের সদস্যরা কখনো গ্রেফতার হলে তাদের আইনি সহায়তার জন্য উকিলও ঠিক করে দিতেন ওই চক্রের মূলহোতা প্রদীপ পোদ্দার। গতকাল দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারের র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‌্যাব-১-এর অধিনায়ক (সিও) লেফটেন্যান্ট কর্নেল সারোয়ার বিন কাশেম। এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে গাজীপুরের টঙ্গী এলাকা থেকে ডাকাত চক্রের ৬ সদস্যকে গ্রেফতার করে র‌্যাব-১। গ্রেফতারকৃতরা হলো ডাকাত চক্রের মূলহোতা প্রদীপ পোদ্দার (৪০), দুলাল হোসেন (৩০), রাসেল (২২), জাকির হোসেন (২৬), কোকিলা বেগম ওরফে প্রেরণা ও হাজেরা বেগম। এ সময় তাদের কাছ থেকে ডাকাতিকৃত বেশ কিছু স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ অর্থ উদ্ধার করা হয়।

র‌্যাব-১-এর সিও লেফটেন্যান্ট কর্নেল সারোয়ার বিন কাশেম বলেন, সম্প্রতি রাজধানীর উত্তরা ও গাজীপুর এলাকার বিভিন্ন বাসায় ডাকাতির ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় গোয়েন্দা নজরদারির ভিত্তিতে এই চক্রের ৬ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি বলেন, চক্রের মূল হোতা প্রদীপ পোদ্দারের টঙ্গীর আফতাব প্লাজায় একটি জুয়েলারির দোকান আছে। জুয়েলারি ব্যবসার আড়ালে তিনি একটি ডাকাত চক্র গড়ে তোলেন। প্রায় সময় এই চক্রের সদস্যদের আর্থিক সহায়তা দিতেন প্রদীপ। ডাকাতির ঘটনায় চক্রের কোনও সদস্য যদি গ্রেফতার হতো তবে তাদের আইনি সহায়তার জন্য উকিল নিয়োগও করতেন তিনি। এছাড়া গত প্রায় ১০ বছর ধরে প্রদীপ ইয়াবা সেবন ও এর ব্যবসাও চালিয়ে আসছিলেন বলেও জানান র‌্যাবের এই কর্মকর্তা।

সারোয়ার বিন কাশেম বলেন, ডাকাত চক্রের সদস্য গ্রেফতার দুলাল পেশায় একজন কাপড় ব্যবসায়ী। সে উত্তর বাড্ডা থেকে গার্মেন্টস পণ্য কিনে গাজীপুর ও উত্তরার বিভিন্ন এলাকায় ফেরি করে বিক্রি করতো। এই সুযোগে বিভিন্ন বাসায় ঢুকে বাসার সদস্যদের গতিবিধি লক্ষ করতো। বাসার দরজা ভেঙে চক্রের অন্য সদস্যদের সহায়তায় ডাকাতি করতো এবং মালামাল লুট করে নিতো। কিছুদিন আগে টঙ্গীর একটি স্বর্ণের দোকানে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। সেখানকার সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দুলালকে দেখা গেছে। তিনি ইতোপূর্বে একাধিকবার গ্রেফতার হন এবং প্রায় আড়াই বছর কারাভোগ করেছিলেন। এরপর জামিনে বের হয়ে আবার একই কাজ শুরু করেন। চক্রের অপর সদস্য রাসেল ও জাকির তার সঙ্গে অসংখ্যবার চুরি-ডাকাতির কাজে অংশ নেন। এদিকে দুলালের স্ত্রী কোকিলা এবং দুলালের মা হাজেরা ডাকাতিকৃত মালামাল নিজেদের কাছে সংরক্ষণ করে রাখতো। এই চক্রের আরও সদস্য রয়েছে, তাদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।