• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বুধবার, ২৬ জুন ২০১৯, ১২ আষাঢ় ১৪২৫, ২২ শাওয়াল ১৪৪০

টেকনাফ সীমান্ত দিয়ে কাঠ ও গবাদিপশু আমদানি বন্ধ

সংবাদ :
  • নূরুল হক, টেকনাফ (কক্সবাজার)

| ঢাকা , সোমবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০১৯

মায়ানমার অভ্যন্তরীণ সমস্যার কারণে সীমান্ত বাণিজ্য ব্যবসায়ীরা শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছে। এ সমস্যার কারণে প্রায় বিশ দিন ধরে মায়ানমার থেকে সব ধরনের গবাদিপশু ও কাঠ আমদানি বন্ধ রয়েছে বলে জানায় স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।

এদিকে পশু আমদানি বন্ধ থাকায় স্থানীয় বাজারে মাংসের সংকট ও দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। যার ফলে সাধারণ জনগণের ক্রয়ক্ষমতার বাহিরে চলে যাচ্ছে মাংসের মূল্য।

শুল্ক বিভাগ জানায়, রোববার (১০ ফেব্রুয়ারি) কক্সবাজারের টেকনাফ শাহপরীর দ্বীপ করিডরে পশু আমদানি না হওয়ায় সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। চলতি বছর ২২ জানুয়ারি পর্যন্ত ৩ হাজার ৩৯১টি গরু, ৪৪০টি মহিষ আমদানি করে ১৯ লাখ ১৫ হাজার ৫০০ টাকা রাজস্ব আদায় করা হয়। এর পর থেকে করিডরে কোন ধরনের গবাদিপশু আসেনি।

এদিকে চোরাইপথে গবাদিপশু আসা রোধে ২০০৩ সালে ২৫ মে শাহপরীর দ্বীপ করিডর চালু করা হয়। এতে প্রতি গরু-মহিষ থেকে ৫০০ এবং ছাগল থেকে ২০০ টাকা হারে রাজস্ব আদায় করা হয়। বিজিবি ও শুল্ক বিভাগের তত্ত্বাবধানে সোনালী ব্যাংকে রাজস্ব আদায় হয়। করিডর প্রতিষ্ঠার পনের বছরে অবকাঠামোসহ সেখানে কোন স্থাপনা গড়ে ওঠেনি।

টেকনাফ উপজেলা পশু আমদানিকারক সমিতির সভাপতি আবদুল্লাহ মনির বলেন, ‘মায়ানমারে অভ্যন্তরীণ সমস্যার কারণে সেদেশের ব্যবসায়ীরা পশু আনা নিরাপদ মনে করছেন না। এমন শঙ্কায় সেদেশের ব্যবসায়ীরা পশু পাঠাচ্ছে না। পরিস্থিতি পরিবর্তন হলে ফের পশু আমদানি শুরু হবে বলে মনে করি।’

এছাড়া সেদেশের সমস্যার কারণে টেকনাফ সীমান্ত বাণিজ্যে পন্য আমদানিতেও প্রভাব পড়ছে। ইতোমধ্যে কিছু কিছু পণ্য আমদানি বন্ধ রয়েছে। মায়ানমার থেকে প্রতি মাসে বিপুল পরিমাণ কাঠ আমদানি হয়। গত তিন সপ্তাহ বন্দরে কাঠ আমদানী বন্ধ। গত জানুয়ারি মাসে স্থলবন্দরে কাঠ আমদানি করে সরকার ২ কোটি ৭২ লাখ টাকা রাজস্ব আদায় করে। চলতি ফেব্রুয়ারি মাসে এ পর্যন্ত ৩০ লাখ টাকা মতো রাজস্ব আদায় হয় বলে জানায় শুল্ক বিভাগ।

এদিকে গত জানুয়ারি মাসে টেকনাফ শুল্ক স্টেশনে রাজস্ব আদায় করেছে ২২ কোটি ১০ লাখ টাকা। সে মাসে টার্গেট ছিল ১৬ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। টার্গেটের চেয়ে ৫ কোটি ৩৫ লাখ টাকা বেশি রাজস্ব আদায় হয়েছেন। চলতি ফেব্রুয়ারি মাসে রাজস্বের টার্গেট পূরণ নিয়ে শঙ্কিত বলে জানায় বন্দর সংশ্লিষ্টরা।

টেকনাফ স্থলবন্দর শুল্ক কর্মকর্তা শংকর কুমার দাশ বলেন, পশুর করিডর থেকে সরকার প্রতি বছর কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করে আসছে। স্থানীয় প্রশাসন ও পশু ব্যবসায়ীদের সহায়তায় তা আদায় হচ্ছে। গত জানুয়ারি মাসের শেষে মায়ানমারের অভ্যন্তরীণ সমস্যার কারণে গবাদিপশু আসা বন্ধ রয়েছে। এমনকি সীমান্ত বাণিজ্যের পণ্যতেও এর প্রভাব পড়ে। যার ফলে ফেব্রুয়ারি মাসে রাজস্ব আদায়ের টার্গেট পূরণ নিয়ে সংস্কার মধ্যে বলে জানায়।