• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২০, ২৬ আষাঢ় ১৪২৭, ১৮ জিলকদ ১৪৪১

জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৮ শতাংশের পূর্বাভাস এডিবির

সংবাদ :
  • অর্থনৈতিক বার্তা পরিবেশক

| ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ০৪ এপ্রিল ২০১৯

চলতি অর্থবছর বাংলাদেশের জিডিপি (মোট দেশজ উৎপাদন) প্রবৃদ্ধি ৮ শতাংশ হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে এডিবি (এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক)। দেশের অর্থনীতির বর্তমান অবস্থা নিয়ে প্রকাশিত এডিবির বার্ষিক প্রতিবেদন ‘এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট আউটলুক-২০১৯’ এ প্রবৃদ্ধির এই পূর্বাভাস দেয়া হয়। বাংলাদেশে এডিবির প্রতিনিধি মনমোহন প্রকাশ গতকাল সংস্থাটির ঢাকা কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ প্রতিবেদনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।

বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধির যে পূর্বাভাস এডিবি করেছে তা সরকারের হিসাবের চেয়ে কিছুটা কম। তবে এটি এডিবির আগের পূর্বাভাসের চেয়ে অনেকটা বেশি। অর্থবছরের প্রথম আট মাসের (জুলাই-ফেব্রুয়ারি) তথ্য বিশ্লেষণ করে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো যে পূর্বাভাস করেছে, তাতে ২০১৮-১৯ অর্থবছর শেষে জিডিপি প্রবৃদ্ধি হতে পারে রেকর্ড ৮ দশমিক ১৩ শতাংশ। গত অর্থবছরে ৭ দশমিক ৮৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি পাওয়ার পর ২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেটে ৭ দশমিক ৪ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ঠিক করে সরকার। তবে গতবছর সেপ্টেম্বরে এডিবির প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রবৃদ্ধির হার এবার হতে পারে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ। সেই অবস্থান থেকে এডিবি সরে আসছে কেন জানতে চাইলে মনমোহন প্রকাশ বলেন, তাদের আগের হিসাব ছিল তিন মাসের তথ্যের ভিত্তিতে। এখন ৯ মাসের তথ্যে দেখা যাচ্ছে পরিস্থিতি বদলে গেছে। এর আগে গত ১৯ মার্চ জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী আহম মুস্তফা কামাল জানিয়েছিলেন, চলতি অর্থবছর শেষে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৮ দশমিক ১৩ শতাংশ ছাড়াবে। এর প্রায় দুই সপ্তাহ পর এডিবি তার আউটলুক প্রকাশ করে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৮ শতাংশের কথা জানাল। ব্যক্তি চাহিদা, ব্যক্তিখাতে ভোগের চাহিদা, বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ বাড়া, রপ্তানি আয় ও রেমিটেন্স প্রবাহে ইতিবাচক ধারা অব্যাহত থাকা এবং অবকাঠামো খাতে সরকারের ধারাবাহিক উন্নয়নে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। একই সময়ে মূল্যস্ফীতির হার ৫ দশমিক ৫ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে বলে জানানো হয়। এডিবির প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ব্যাংক আইন সংশোধন, ব্যাংকে বিশেষ নিরীক্ষা ও ঋণের ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা গাইডলাইনে কিছুটা সফলতা এসেছে। উন্নতি ধরে রাখতে আগামীতে বিদ্যমান ব্যাংক আইনের কঠোর প্রয়োগ চেয়েছে এডিবি। এছাড়া করপোরেট সুশাসন প্রতিষ্ঠা, ঋণের সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা যাচাই করা, সরকারি ব্যাংকে একীভূতকরণের মতো উদ্যোগ বাস্তবায়নের সুপারিশ করা হয়েছে এডিবির প্রতিবেদনে।

বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দা সত্ত্বেও বাংলাদেশ গত ১০ বছরে সরকারের ধারাবাহিক সাফল্যে ৭ শতাংশের ওপরে প্রবৃদ্ধি অর্জনে সমর্থ হয়েছে। এছাড়া ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৭ দশমিক ৮৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। তবে দেশের উন্নয়ন ধরে রাখতে কিছু চ্যালেঞ্জ উল্লেখ করেছেন এডিবি ঢাকা অফিসের সিনিয়র অর্থনীতিবিদ সন চ্যাং হং। তিনি বলেন, দেশে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ উন্নত করতে হবে। শিল্পের ভিত বাড়িয়ে রপ্তানি পণ্যে বৈচিত্র্য আনতে হবে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করলে বাংলাদেশের উন্নয়ন টেকসই হবে।

তাছাড়া চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য দ্বন্দ্বের কারণেও বাংলাদেশের তৈরি পোশাকসহ কিছু পণ্যের রপ্তানি বেড়েছে জানিয়ে এডিবির আবাসিক প্রতিনিধি বলেন, এ বিষয়টিও প্রবৃদ্ধি বাড়াতে ভূমিকা রাখছে।