• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

মঙ্গলবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৯, ৪ অগ্রাহায়ণ ১৪২৬, ২১ রবিউল আওয়াল ১৪৪১

জাতীয় শ্রমিক লীগের সম্মেলন আজ

    সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
  • | ঢাকা , শনিবার, ০৯ নভেম্বর ২০১৯

আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতীম সংগঠন জাতীয় শ্রমিক লীগের সম্মেলন আজ। বেলা ১১টায় রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ সম্মেলনের উদ্বোধন করবেন। এরপর বিকেল ৩টায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে দ্বিতীয় (কাউন্সিল) অধিবেশনে সংগঠনের নতুন নেতৃত্ব ঘোষণা করা হবে।

শ্রমজীবী মানুষের দাবি আদায় ও অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ১৯৬৯ সালের ১২ অক্টোবর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জাতীয় শ্রমিক লীগ প্রতিষ্ঠা করেন। শুরুতে এটি আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন হিসেবে থাকলেও বর্তমানে ভ্রাতৃপ্রতীম সংগঠন হিসেবে কাজ করছে। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ শ্রমিক লীগের ৩৫ সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটি দুই বছর মেয়াদে নির্বাচিত হয়। ২০১২ সালের ১৯ জুলাই সংগঠনের সর্বশেষ সম্মেলনে নারায়ণগঞ্জের শ্রমিক নেতা শুক্কুর মাহামুদ সভাপতি, ফজলুল হক মন্টু কার্যকরী সভাপতি এবং জনতা ব্যাংক ট্রেড ইউনিয়নের নেতা মো. সিরাজুল ইসলাম সাধারণ সম্পাদক হন।

সম্মেলন প্রস্তুত কমিটি ও ৯টি উপকমিটি সমন্বয়ে সম্মেলন অনুষ্ঠানের কাজ প্রায় শেষ। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিশাল সম্মেলন মঞ্চ ও প্যান্ডেল নির্মাণ ছাড়াও সম্মেলনস্থল ও আশপাশের সড়কগুলোকে বর্ণাঢ্য সাজে সাজিয়ে তোলা হয়েছে।

শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম জানান, কেন্দ্রীয় কমিটিসহ সারাদেশে সংগঠনের ৭৮টি সাংগঠনিক জেলা থেকে ৮ হাজার কাউন্সিলর ও সমসংখ্যক ডেলিগেটস সম্মেলনে যোগ দেবেন। এছাড়াও বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার নেতারাসহ কয়েকজন বিদেশি অতিথি সম্মেলনে উপস্থিত থাকবেন।

জাতীয় শ্রমিক লীগের শীর্ষ নেতৃত্বে আসতে শেষ মুহূর্তের দৌড়ঝাঁপ করছেন এক ডজনের বেশি নেতা। নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র বলছে, এবার সম্মেলনে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে পরিবর্তন হবে। স্বচ্ছ ভাবমূর্তি সম্পন্ন, সক্রিয়, দক্ষ ও কর্মীবান্ধব মুখ নতুন নেতৃত্বে আসবেন। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সূত্রে জানা গেছে, ক্ষমতার অপব্যবহার, দলীয় প্রভাব খাটিয়ে টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি, অনিয়ম, দুর্নীতির সঙ্গে যাদের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে, যারা বিভিন্ন কারণে বিতর্কিত, তারা নতুন কমিটিতে আসতে পারবেন না।

বর্তমান সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক দু’জনই এবার সভাপতি পদ প্রার্থী হলেও তাদের বিদায় নিশ্চিত। সভাপতি পদে নতুন মুখ হিসেবে আলোচনায় আছেন- কার্যকরী সভাপতি ফজলুল হক মন্টু, সহসভাপতি হাবিবুর রহমান আকন্দ, জহিরুল ইসলাম চৌধুরী, আমিনুল হক ফারুক, মোল্লা আবুল কালাম আজাদসহ আরও কয়েক নেতা। সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় আছেন- বর্তমান কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খান সিরাজুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির, সফর আলী, সাংগঠনিক সম্পাদক শামসুল আলম মিলকি, তোফায়েল আহমেদ, প্রচার সম্পাদক কেএম আজম খসরু, দফতর সম্পাদক আমিনুল ইসলাম, অর্থ সম্পাদক সুলতান আহম্মেদ, আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম, শিল্প ও সাহিত্য সম্পাদক আলাউদ্দিন মিয়া, শ্রমিক উন্নয়ন ও কল্যাণ সম্পাদক কাওছার আহমেদ পলাশ, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক মোতালেব হাওলাদার, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক শাহাবুদ্দিন খান এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবীব মোল্লা।

শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান কমিটি সাত বছরেরও বেশি সময় পার করলেও ৭৮টি জেলা ইউনিটের মধ্যে কাগজে-কলমে প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ জেলা কমিটি গঠন করেছে। অভিযোগ রয়েছে, অনেক জেলায় সম্মেলন না করেই কমিটি দেয়া হয়েছে। নেতৃত্বের সর্বস্তরে পরিবর্তন ও রদবদলের মাধ্যমে তুলনামূলক স্বচ্ছ, কর্মীবান্ধব ও জনপ্রিয়দের এবারের কমিটিতে স্থান হবে, এই প্রত্যাশা নিয়ে সংগঠনটির কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যায়ের সব স্তরের কর্মীরা সম্মেলনে নতুন মুখের চমক দেখার অপেক্ষায় রয়েছেন।