• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

মঙ্গলবার, ১৫ অক্টোবর ২০১৯, ৩০ আশ্বিন ১৪২৬, ১৫ সফর ১৪৪১

জাতীয় চলচ্চিত্র দিবস পালিত

সংবাদ :
  • সাংস্কৃতিক বার্তা পরিবেশক

| ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ০৪ এপ্রিল ২০১৯

image

গতকাল জাতীয় চলচ্চিত্র দিবস উপলক্ষে বিএফডিসিতে বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন তথ্যমন্ত্রী -সংবাদ

দেশের চলচ্চিত্রে সোনালী দিন ফিরে আসার প্রত্যাশায় নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে পালিত হলো জাতীয় চলচ্চিত্র দিবস। গতকাল ছিলো অষ্টম জাতীয় চলচ্চিত্র দিবস। দিনটি উপলক্ষে চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন (বিএফডিসি) প্রাঙ্গণে ছিল ২ দিনব্যাপী আনন্দঘন সব আয়োজন। অন্যদিকে শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে ৪ দিনব্যাপী নানা অনুষ্ঠান। প্র্রতিবছরের মতো এবারও বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হচ্ছে জাতীয় চলচ্চিত্র দিবস। জাতীয় চলচ্চিত্র দিবসে উপলক্ষে বর্ণিল সাজে সেজেছে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন (বিএফডিসি)। ‘চলচ্চিত্র বাঁচলে সংস্কৃতি বাঁচবে’ সেøাগানে গতকাল বিএফডিসির মান্না ডিজিটাল কমপ্লেক্সের সামনে সকাল সাড়ে ১০টায় বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে প্রধান অতিথি হিসেবে ‘জাতীয় চলচ্চিত্র দিবস-২০১৯’-এর উদ্বোধন করেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন চলচ্চিত্র দিবস উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক সৈয়দ হাসান ইমাম, ড. ইনামুল হক, আলমগীর, ইলিয়াস কাঞ্চন, অঞ্জনা, রোজিনা, শাহনূর, সুব্রত, স¤্রাট, আইরিন, তথ্যমন্ত্রণালয়ের সচিব আবদুল মালেক, এফডিসি’র ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক লক্ষণ চন্দ্র দেবনাথ, বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) মহাপরিচালক হারুন-অর-রশীদ, পরিচালক সমিতির সভাপতি মুশফিকুর রহমান গুলজার শিল্পী সমিতির সভাপতি মিশা সওদাগর, সাধারণ সম্পাদক জায়েদ খানসহ অনেকে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৫৭ সালের ৩ এপ্রিল, শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী হিসেবে তৎকালীন প্রাদেশিক পরিষদে বিল উত্থাপনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠা করেন চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন। সে সময় তিনি যদি চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন প্রতিষ্ঠা না করতেন, তবে আমাদের দেশে চলচ্চিত্র নির্মাণ হতো না। সেসময় এদেশে কলকাতার ছবি, হিন্দি ছবি ও পশ্চিম পাকিস্তানের উর্দু ছবির বাজার ছিল। সেভাবেই চলতো। তাই আজকের এই বিশেষ দিনে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

২ দিনব্যাপী এই উৎসব উপলক্ষে বিএফডিসি সেজেছে নতুন সাজে। মূল ফটক থেকে শুরু করে প্রতিটি রাস্তাজুড়ে টাঙানো হয়েছে স্বর্ণালী যুগের সব সিনেমার পোস্টার ও স্থিরচিত্র। দিবসটি উপলক্ষে এফডিসিতে র‌্যালি, রক্তদান কর্মসূচি, ছিলো মেলা ও আলোচিত বাংলা সিনেমার প্রদর্শনী। এছাড়াও ব্যানার ফেস্টুনে বর্ণিল হয়েছে চলচ্চিত্রের আঁতুরঘর। উৎসবের দ্বিতীয় ও শেষদিন আজ বিকেল ৫টায় থাকছে নায়ক-নায়িকাদের অংশগ্রহণে বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। সন্ধ্যায় রয়েছে লেজার শো ও আতশবাজির মধ্য দিয়ে শেষ হবে এবারের উৎসব।

অপরদিকে শিল্পকলা একাডেমির উদ্যোগে নাট্যকলা ও চলচ্চিত্র বিভাগের ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিসহ ৬৪ জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে চার দিনব্যাপী জাতীয় চলচ্চিত্র দিবস উদযাপিত হচ্ছে। চলচ্চিত্র প্রদর্শনী, চলচ্চিত্র বিষয়ক আলোচনা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, সেমিনার, শিশু চলচ্চিত্র নির্মাণ কর্মশালা, বিষয় ভিত্তিক প্যানেল বৈঠক, তরুণ চলচ্চিত্র নির্মাতাদের নিয়ে মতবিনিময় সভা, চলচ্চিত্রের আড্ডা ও প্রীতি সম্মিলনীসহ জাতীয় চলচ্চিত্র দিবস উদযাপন আয়োজন করা হয়েছে। গতকাল সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় একাডেমির জাতীয় চিত্রশালা মিলনায়তনে চার দিনব্যাপী এই আয়োজনের উদ্বোধন, আলোচনা ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচটি ইমাম। শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. মো. আবু হেনা মোস্তফা কামাল এনডিসি, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব সৈয়দ হাসান ইমাম, চলচ্চিত্র নির্মাতা সৈয়দ সালাহ্উদ্দিন জাকী এবং বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির সভাপতি মুশফিকুর রহমান গুলজার। অতিথিদের উত্তরীয় পরিয়ে বরণ করে নেন একাডেমির মহাপরিচালক। আলোচনা পর্বের শুরুতে নন্দনকলা কেন্দ্র ও ধৃতি নর্তনালয়ের পরিবেশনায় লোক সংগীতের সঙ্গে নৃত্য পরিবেশিত হয়। এরপর অতিথিরা প্রদীপ জ্বালিয়ে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন। আলোচনা শেষে পরিবেশিত হবে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।