• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২০, ২৯ আষাঢ় ১৪২৭, ২১ জিলকদ ১৪৪১

জাতিসংঘ রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে স্থানান্তরে বিরোধী নয়

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

সংবাদ :
  • কূটনৈতিক বার্তা পরিবেশক

| ঢাকা , সোমবার, ২৯ এপ্রিল ২০১৯

image

গতকাল ডিক্যাব আয়োজিত রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আলোচনায় বক্তব্য রাখেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম

জাতিসংঘ রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে স্থানান্তরের বিরোধী নয় বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম। গতকাল ঢাকায় ‘রোহিঙ্গা সংকট : রাখাইনে টেকসই সমাধানে আন্তর্জাতিক ভূমিকা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এ সময় ভাসানচর সম্পর্কে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের নেতিবাচক সংবাদ প্রকাশের সমালোচনা করেন।

কূটনৈতিক সংবাদদাতাদের সংগঠন ‘ডিপ্লোমেটিক করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ (ডিকাব)’ বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ মিলনায়তনে (বিআইআইএসএস) মিলনায়তনে সেমিনার আয়োজন করে। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ডিকাব সভাপতি রাহীদ এজাজ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন ডিকাবের সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম হাসিব।

রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে স্থানান্তরের ব্যাপারে জাতিসংঘের বিরোধিতা প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘জাতিসংঘ ভাসানচরের বিরোধী নয়। আমরা মনে করি না জাতিসংঘের কেউ ভাসানচরের বিরোধী। গত সপ্তাহে জাতিসংঘের তিন জন শীর্ষ কর্মকর্তা বাংলাদেশ সফরকালে বিষয়টি স্পষ্ট করেছেন বলে জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। সেমিনারে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ভাসানচর নিয়ে আন্তর্জাতিক কয়েকটি সংবাদ মাধ্যমের নেতিবাচক প্রতিবেদন নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী দুই সদস্য চীন ও রাশিয়ার কাছ থেকে এখনও বাংলাদেশের প্রত্যাশা অনুযায়ী ভূমিকা না পাওয়ার তথ্য জানান। তবে চীন গত কয়েক বছরে রোহিঙ্গা সংকটের ব্যাপ্তি উপলব্ধি করেছে বলে তিনি মনে করেন। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ১১ লাখ লোককে ঘরছাড়া করে অন্য দেশে চলে যেতে বাধ্য করে কেউ পার পেতে পারে না।

অন্যদিকে অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআরের প্রতিনিধি স্টিভেন করলিস বলেছেন, ‘আমরা হ্যাঁ বলিনি, নাও বলিনি। আমরা এ নিয়ে আলোচনা করতে পারি। তিনি বলেন, জাতিসংঘের তিন জন শীর্ষ কর্মকর্তার সা¤প্রতিক সফরের বার্তাটি হলো বিশ্ব সম্প্রদায় রোহিঙ্গাদের ভুলে যাবে না। তিনি বলেন, রোহিঙ্গারা তাদের নিজ দেশে ফিরতে চায়। তবে এর আগে তারা মায়ানমারে নিজেদের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠা চায়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ও ইনস্টিটিউট অব জেনোসাইড স্টাডিজের পরিচালক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, বাংলাদেশে নতুন সরকার পাঁচ বছর মেয়াদে দায়িত্ব নিয়েছে। এখন মায়ানমারের সঙ্গে তাদের ভাষা বদলানো উচিত। তিনি রোহিঙ্গা ইস্যুতে মায়ানমারকে চাপে ফেলতে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রোহিঙ্গাদের নিয়ে সম্মেলন আয়োজন ও প্রভাবশালী দেশগুলোতে শীর্ষ পর্যায়ে নিয়মিত সফরের ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে প্রায় এক লাখ রোহিঙ্গা ঝুঁকিতে আছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় সত্যিই যদি তাদের বাঁচাতে চায় তবে বাস্তবসম্মত উদ্যোগ নিয়ে এগিয়ে আসা উচিত।