• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বৃহস্পতিবার, ২১ মার্চ ২০১৯, ৭ চৈত্র ১৪২৫, ১৩ রজব ১৪৪০

জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ শুরু আজ

সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

| ঢাকা , শনিবার, ১৬ মার্চ ২০১৯

আজ থেকে শুরু হচ্ছে জাতীয় জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ। জাতীয় মাছ ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি ও জনগণের সুলভপ্রাপ্তির লক্ষ্যে ১৬ মার্চ থেকে ২২ মার্চ পর্যন্ত দেশে এই সপ্তাহটি পালিত হবে। জাতীয় জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহের এ বছরের শ্লোগান হচ্ছে- ‘কোন জাল ফেলব না, জাটকা-ইলিশ ধরব না’। জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ উপলক্ষে বিস্তারিত কর্মসূচি হাতে নিয়েছে মৎস্য অধিদফতর। এ উপলক্ষে পৃথক বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ তার বাণীতে বলেন, ইলিশের টেকসই উৎপাদন নিশ্চিত করতে বিজ্ঞানসম্মত ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে জাতীয়ভাবে জাটকা সংরক্ষণে সমন্বিত কার্যক্রম বাস্তবায়িত হওয়ায় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইলিশের উৎপাদন বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। রাষ্ট্রপতি বলেন, জাতীয় মাছ ইলিশ বাঙালি সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। আবহমান কাল ধরে ইলিশ বাঙালির রসনা বিলাসে গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ হয়ে আছে। গ্রামীণ কর্মসংস্থান, দারিদ্র্য বিমোচন, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনসহ সার্বিক অর্থনীতিতেও একক প্রজাতি হিসেবে ইলিশ মাছের রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ অবদান।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার বাণীতে বলেন, আমরা জাটকা সংরক্ষণে সময়োপযোগী ও সমন্বিত উদ্যোগের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় কার্যকর মনিটরিং ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছি। এ সংক্রান্ত সব কার্যাদি বর্তমান সরকার কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমে জাতীয় মাছ ইলিশ সংরক্ষণ ও উন্নয়নে বদ্ধপরিকর। সপ্তাহের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান আজ ভোলা জেলার চরফ্যাশনে সামরাজ মৎস্যঘাটে বেলা ১১টায় অনুষ্ঠিত হবে। উদ্বোধনের পর সেখানে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী আশরাফ আলী খান খসরুর নেতৃত্বে একটি বর্ণাঢ্য নৌ-র‌্যালি অনুষ্ঠিত হবে। গতকাল মৎস্য অধিদফতরের সম্মেলন কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী আশরাফ আলী খান জাতীয় জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ-২০১৯ এর কর্মসূচি তুলে ধরেন।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচির মধ্যে সংশ্লিষ্ট ৩৬টি জেলা-উপজেলায় সচেতনতামূলক ভিডিওচিত্র-প্রদর্শন, টিভি-রেডিও মোবাইলে প্রচারণা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ ঢাকার বিভিন্ন স্থানে জাটকা সংরক্ষণ আইনের প্রচারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। জাটকা সংরক্ষণের জন্য এর পাশাপাশি জালসহ জাটকা ক্রয়-বিক্রয়, বাজার জাতের বিরুদ্ধে ব্যাপক পুলিশি অভিযানসহ সংশ্লিষ্ট এলাকাতে ব্যাপক ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হবে। সপ্তাহটি পালনের আওতাভুক্ত জাটকাসমৃদ্ধ ৩৬টি জেলা হচ্ছে- ঢাকা, মানিকগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, রাজবাড়ী, শরীয়তপুর, মাদারীপুর, ফরিদপুর, মুন্সীগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী, টাঙ্গাইল, গোপালগঞ্জ, ভোলা, পটুয়াখালী, বরিশাল, পিরোজপুর, বরগুনা, ঝালকাঠি, চাঁদপুর, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, খুলনা, কুষ্টিয়া, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, সিরাজগঞ্জ, নাটোর, জামালপুর, পাবনা, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধা।

সংবাদ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রী আশরাফ আলী খান খসরু বলেন, নভেম্বর থেকে জুন পর্যন্ত একটানা ৬ মাস ২৫ সেন্টিমিটার বা ১০ ইঞ্চি সাইজের (আকার) জাটকা ধরা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পৃথিবীর আরও ১৩টি দেশে ইলিশ পাওয়া গেলেও আমাদের সংস্কৃতি ও অর্থনীতিতে ইলিশের বিরাট অবদান রয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, দেশের জিডিপিতে ইলিশের অবদান ১ শতাংশ এবং দেশের মোট মৎস্য উৎপাদনের ১২ শতাংশ। তাই ইলিশ আমাদের আমিষের চাহিদাপূরণের পাশাপাশি কর্মসংস্থান ও দারিদ্র্য বিমোচনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। ইলিশকে ভৌগলিক নির্দেশক পণ্য (জিআই পণ্য) উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ইলিশ আহরণে উপকূলীয় মৎস্যজীবীদের সরাসরি প্রায় ৫ লাখ এবং পরিবহন, বিক্রয়, জাল ও নৌকা তৈরি, বরফ উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ, পরিবহন, রপ্তানি ইত্যাদি কাজে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে ২৫ লাখ লোক জড়িত রয়েছে। ইলিশ সম্পদ রক্ষা এবং এর ক্রমবর্ধমান উন্নয়নে মৎস্য মন্ত্রণালয়ের গৃহীত কার্যক্রমের বর্ণনা দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রতিবছর নভেম্বর থেকে জুন পর্যন্ত জাটকা ধরা নিষিদ্ধকালে মৎস্য সংরক্ষণ আইনের আওতায় নদী, মাছঘাট, মৎস্য আড়ত ও বাজারে অভিযানসহ মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে। এ সময়ে জেলেরা যাতে ক্ষুধায় কষ্ট না পায়, সে জন্য ভিজিএফ খাদ্য সহায়তা প্রদান এবং জাটকা আহরণে বিরত অতিদরিদ্র জেলেদের বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।