• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০১ মহররম ১৪৪২, ০৩ আশ্বিন ১৪২৭

বরিশাল-নারায়ণগঞ্জ

জমানো টাকা ত্রাণ তহবিলে দিলো স্কুল শিক্ষার্থীরা

সংবাদ :
  • প্রতিনিধি, বরিশাল

| ঢাকা , সোমবার, ০৪ মে ২০২০

image

নারায়ণগঞ্জে স্কুল শিক্ষার্থী ফাহিম ও বোন ফাইজা, (ডানে) বরিশালে স্কুলছাত্র নবনীলনন্দী নিজেদের জমানো টাকা জমা দিলেন ত্রাণ তহবিলে -সংবাদ

করোনার জন্য লকডাউনের কারণে কর্মহীন মানুষের জন্য নিজের টিফিনের জমানো সব টাকা তুলে দিল বরিশাল সরকারি জিলা স্কুলের ৬ষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্র নবনীল নন্দি। গতকাল দুপুর সাড়ে ১২টায় বরিশাল জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে মায়ের সঙ্গে নিয়ে নবনীল তার জমানো মাটির ব্যাংকটি জেলা প্রশাসকের হাতে তুলে দেয়। পরে সেখানেই মাটির ব্যাংকটি ভাঙা হলে তাতে ১ হাজার ৯৪৭ টাকা পাওয়া যায়। নবনীল বললো, গণমাধ্যমে করোনার বর্তমান পরিস্থিতিতে দিনমজুর শ্রেণীর মানুষদের দুঃখ দুর্দশা দেখে দেখে তার এসব মানুষের জন্য কিছু করার ইচ্ছা জাগে। আর তাই তার জমানো টিফিনের টাকা অসহায় মানুষদের সহায়তায় কাজে লাগাতে চায় এবং বিষয়টি তার মাকে জানায়। পরে মা তাকে নিয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে আসেন। শিশুটির মা শিউলি দাস জানান, স্কুলে যাতায়ত ও টিফিন বাবদ ১শ’ টাকা দৈনিক নবনীলকে দেয়া হতো। সেখান থেকে বেশ কয়েক মাসের জমানো টাকা জেলা প্রশাসকের ত্রাণ তহ?বিলে দান করে নবনীল। নবনীলের মা শিউলি দাস বরিশাল সদর উপজেলার রায়পাশা করাপুর ইউনিয়নের স্বাস্থ্য সহকারী হিসেবে কর্মরত। তার বাবা আশীষ কুমার নন্দি ঢাকায় একটি প্রাইভেট ফার্মে চাকরি করেন। ছোট্ট নবনীলের এই ভাবনাটা দৃষ্টান্ত হয়ে থাকলো বলে মনে করেন সবাই।

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, মাটির ব্যাংকে প্রতিদিন পাঁচ টাকা, দশ টাকা করে জমাতো কিশোর ফাহিম ও বোন শিশু ফাইজা। ফাইজার উপবৃত্তির টাকাও জমা হতো সেখানে। সব মিলিয়ে আট হাজার টাকা। ইচ্ছা ছিল ঈদের পোশাক কেনা হবে এই টাকায়। কিন্তু টেলিভিশনে করোনা সংকটে কর্মহীন মানুষের অবস্থা দেখে জমানো টাকা ত্রাণ তহবিলে জমা দেয়ার সিদ্ধান্ত নিলো দুই ভাই-বোন।

গতকাল দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মদ সেলিম রেজার কাছে তাদের জমানো আট হাজার টাকা হস্তান্তর করা হয়।

নারায়ণগঞ্জ আইডিয়াল স্কুলের ৮ম শ্রেণীর ছাত্র ফাহিম আহমেদ রুদ্র ও তার ছোট বোন ফাইজা আহমেদ সীমা আদর্শ শিশু প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্রী। তাদের বাবা মডার্ন ডায়গনস্টিক সেন্টারের মার্কেটিং ম্যানেজার ফারুক আহমেদ। নগরীর জামতলা এলাকার সুফিয়া ভিলার বাসিন্দা তারা।

ঈদের পোশাক কেনার জন্য জমানো টাকা দান করে দিতে চাইলে বাধ সাধেননি মা-বাবা। তাদের মা রুবি পারভীন জানান, ছেলে-মেয়েরা তাদের ইচ্ছার কথা জানালে তিনি টাকা দেয়ার জন্য জেলা প্রশাসককে এসএমএস দেন। জেলা প্রশাসক জসিম উদ্দিনও তাদের ফিরতি এসএমএস দিয়ে উৎসাহিত করে। গতকাল দুপুর দুইটায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে যেতে বলে। নির্ধারিত সময়ে তারা গিয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সেলিম রেজার কাছে এ টাকা জমা দিয়ে আসেন।

রুবি পারভীন আরও জানান, ছেলে মেয়েদের এ চিন্তা তাকে অভিভূত করেছে। গর্বে তার বুক ভরে গেছে যে, তার ছেলে মেয়েরা এ বয়সেই এভাবে চিন্তা করতে শিখেছে।

তিনি জানান, তার স্বামীর ১৫ বছর ধরে হৃদরোগ। চিকিৎসা করাতে করাতে তাদের আর্থিক অবস্থাও ভালো নয়। তারপরেও ছেলে মেয়েরা ভালো কাজটি করতে চাইলে তিনি বাধা দেননি। তিনি সবার কাছে তার স্বামী ও সন্তানদের জন্য দোয়া প্রার্থনা করেন।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সেলিম রেজা জানান, তাদের টাকা গ্রহণ করে জেলা প্রশাসকের ত্রাণ তহবিলে যোগ করা হয়েছে। তিনি বলেন, শিশু বয়সেই মানুষকে নিয়ে ভাবার যে মানসিকতা এটি নতুন প্রজন্মের জন্য একটি দৃষ্টান্ত। আমরা সবাই যদি তাদের মতো ভাবি তাহলে এদেশের কোন লোক না খেয়ে থাকবে না। আমি এই দুই ভাই-বোনকে অনেক অনেক দোয়া রাইলো।