• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বৃহস্পতিবার, ০৩ ডিসেম্বর ২০২০, ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৭, ১৭ রবিউস সানি ১৪৪২

মহামারীর মধ্যেই

জঙ্গিদের সংগঠিত হওয়ার প্রক্রিয়া

রাজধানীতে ১৭ জেএমবি সদস্য গ্রেফতার

    সংবাদ :
  • বাকিবিল্লাহ
  • | ঢাকা , বুধবার, ০৬ মে ২০২০

করোনা মহামারীর মধ্যে জঙ্গিরা আবারও সংগঠিত হচ্ছে। তারা বিদেশে পলাতক জঙ্গিদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের নতুন নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে। এমন গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের বিশেষ টিম গত সোমবার রাতে রাজধানীর কাকরাইল থেকে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জামায়াতুল মুজাহিদীন (জেএমবি) ১৭ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম বিভাগের সদস্যরা অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারকৃতরা তাবলিগ জামাতের পরিচয়ে সৌদি আরব গিয়ে ইমাম মাহাদীর সঙ্গে সাক্ষাতের আশায় একমাস পূর্বে কথিত ‘হিজরত’ করা জেএমবির সদস্য।

গ্রেফতারকৃতরা হলো- মো. হায়দার আলী (৪৪), মো. মাহমুদুল হাসান ওরফে মাসুম, মো. জামিরুল ইসলাম (২৪), মো. বিল্লাল হোসেন (৩৮), মো. শেখ আরাফাত ওরফে জনি (৪৮), মো. ইমরুল হাসান ওরফে ইমন (২৫), মো. সাইফুল ইসলাম (২৫), মো. মোজাম্মেল হক (৩৩), মো. শাহজালাল (৩৪), মো. আক্তারুজ্জামান (৩০), মো. মাহমুদুল হাসান ওরফে সাব্বির (২৩), মো. আবিদ উল মাহমুদ ওরফে আবিদ (২২), মো. সোহাইল সরদার (৩৩), মো. ওবায়দুল ইসলাম ওরফে সুমন (৩০), মাহমুদ হাসান ওরফে শরীফ (১৮), মো. মাজেদুল ইসলাম ওরফে মুকুল ( ২৮) ও মো. সোহাগ হাসান (২০)। অভিযানে নেতৃত্ব দেয়া ডিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) বিভাগের এডিসি তহিদুল ইসলাম জানান, গত সোমবার সন্ধ্যা সোয়া ৭টায় কাকরাইল মসজিদের বিপরীত পাশে পাবলিক হেলথ্ কার্যালয়ের সামনে থেকে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের সময় তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন ধরনের ১৯টি মুঠোফোন ফোন, ২ লাখ ৩৪ হাজার বাংলাদেশি টাকা ও ৯২২ আমেরিকান ডলার জব্দ করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা জেএমবির সদস্য বলে স্বীকার করেছেন। ইঞ্জিনিয়ার সৈয়দ মোস্তাক বিন আরমান বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরবে যান এবং অদ্যাবধি সেখানে অবস্থান করছেন। জিহাদের পক্ষে ঈমাম মাহাদীর সৈনিক হিসেবে বিভিন্ন বক্তব্য এবং গাজওয়াতুল হিন্দ নামক স্থানে মুসলিমদের পক্ষে জিহাদ করার আহ্বান জানিয়ে অডিও ভিডিও প্রকাশ করেন।

গ্রেফতারকৃতরা তার বক্তব্যে উদ্বুদ্ধ হয়ে তার সঙ্গে যোগাযোগ পূর্বক ঈমাম মাহাদীর সৈনিক হিসেবে যুদ্ধের প্রস্তুতি স্বরূপ সৌদি আরব যাওয়ার চেষ্টা করেন। তারা পলাতক রবিউল সৈয়দ মোস্তাক বিন আরমানের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন এবং গত মার্চ মাসের মাঝামাঝি সময় তারা পরস্পর যোগাযোগ করে হিজরতের সিদ্ধান্ত নেন। তাবলিগ-জামাতের আড়ালে সাতক্ষীরা বা বেনাপল সীমান্ত দিয়ে তারা ভারত-কাশ্মীর সীমান্ত হয়ে সৌদি আরব পৌঁছাবে। তাদেরকে বলা হয়েছিল করোনার দুর্যোগে আকাশ থেকে একধরনের গজব নেমে আসবে এবং সমস্ত কিছু ধোঁয়াছন্ন হয়ে যাবে তখন সীমান্তে কোন পাহারা থাকবে না এই সময় তারা যেন চলে আসেন। এই বিশ্বাস নিয়ে গত ১৮ মার্চ তারা প্রথমে সাতক্ষীরা ও পরে যশোর সীমান্তের কাছে বিভিন্ন মসজিদে অবস্থান করেন ভারতে যাওয়ার জন্য। তাদেরকে আরও জানানো হয়েছিলো আগামী চল্লিশ দিন সূর্য উঠবে না, আকাশ ধোঁয়ায় ছেয়ে যাবে, কাফেররা সবাই মারা যাবে, ঈমানদারদের শুধু হালকা কাশি হবে, ঈমাম মাহাদীর আগমন এই রমজানে সমাগত তাই তারা যেভাবে পারে সেভাবে যেন আসার চেষ্টা করে। তারা সাতক্ষীরা ও যশোর সীমান্ত দিয়ে পার হতে না পেরে ঢাকা হয়ে সিলেট সীমান্ত দিয়ে ভারতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন এবং সে মোতাবেক তারা ঢাকায় আসেন।

এডিসি তোহিদ বলেন, সৈয়দ মোস্তাক বিন আরমানের প্ররোচনায় এবং তার সঙ্গে যোগাযোগ করে ইতোমধ্যে ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪ ছাত্র গত জানুয়ারি মাসে ওমরা পালনের উদ্দেশে গমন করে আর ফিরে আসেননি। এছাড়াও বিভিন্ন সময় সা’দ, কাউসার, শরীফ, তোফাজ্জল, গিয়াসউদ্দিন, আলী আজম এবং রাশেদ নামে আরও ৭ জন ঈমাম মাহাদীর সৈনিক হিসেবে যোগদানের উদ্দেশে সৌদি আরব হিজরত করেছেন বলে গ্রেফতারকৃতরা জানান। এ ঘটনায় রমনা মডেল থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ডিসি মিডিয়া মাসুদুর রহমান বলেন, জঙ্গিবাদ দমনে পুলিশের একাধিক ইউনিট কাজ করছে। এরই ধারাবাহিকতায় ১৭ জঙ্গিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

এ সম্পর্কে কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের ডিসি সাইফুল ইসলাম জানান, কথিত এ জঙ্গি গ্রুপটির দল নেতা সৌদি প্রবাসী ইঞ্জিনিয়ার সৈয়দ মোস্তাক বিন আরমান। সে সৌদি আরবে অবস্থান নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাপসসহ বিভিন্ন মাধ্যমে জঙ্গি হায়দার আলীসহ ৪ থেকে ৫ জঙ্গির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করত। পরে তাবলিগের আড়ালে তাদেরকে সৌদি আরবে নিয়ে জঙ্গিবাদ কার্যক্রমে উদ্বুদ্ধ করার পরিকল্পনা করেছিল। সেখানে জঙ্গিবাদে প্রশিক্ষণ দিয়ে দেশে পাঠানোর টার্গেট নিয়েছিল। তাদের গোপন পরিকল্পনা জেনে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়। এ চক্রে পলাতক আরও কয়েকজন আছে তাদেরকে ধরার চেষ্টা অব্যাহত আছে।

উল্লেখ্য, করোনা মহামারীর আগে গোয়েন্দা পুলিশ আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের কয়েকজন সদস্যকে গ্রেফতার করেছে। তারা করোনা মহামারীর মধ্যে বিচ্ছিন্নভাবে থাকা জঙ্গিদেরকে সংগঠিত করার চেষ্টা করেছিল।