• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২০, ২৯ আষাঢ় ১৪২৭, ২১ জিলকদ ১৪৪১

রংপুর মেডিকেল

ছাত্রী হোস্টেলে পানি সংকট

তিনশ ছাত্রীর মানবেতর জীবন

সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

| ঢাকা , সোমবার, ২৯ এপ্রিল ২০১৯

রংপুর মেডিকেল কলেজের পুরনো ছাত্রী হোস্টেলে ভয়াবহ পানি সংকট চলছে। পানির অভাবে ছাত্রীদের গোসল বন্ধসহ নানা সমস্যা হচ্ছে। ৬ থেকে ৭ মাস ধরে এ অবস্থা চললেও চলতি মাসে প্রচন্ড গরমে তা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। ছাত্রীরা বিষয়টি বার বার কলেজ কর্তৃপক্ষকে জানানোর পরও তারা তেমন গুরুত্ব দিচ্ছেন না। পানির জন্য ছাত্রীরা অভিভাবকদের কাছে ফোনে কান্নাকাটি করছেন।

বিষয়টি নিয়ে রংপুর মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ডা. নুর ইসলাম মুঠোফোনে পানি সংকটের কথা স্বীকার করে বলেন, ওই ছাত্রী হোস্টেলটি ৪০ থেকে ৫০ বছরের পুরনো ও জরাজীর্ণ। পানির পাইপলাইনে সমস্যা আছে। মেরামতের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বিষয়টি তিনি দ্রুত দেখবেন বলে জানান। ছাত্রীরা বলেন, অধ্যক্ষ আশ্বাস দেন। কিন্তু বাস্তবে কিছুই করেন না। তার সঙ্গে ছাত্রীরা দেখা করেও কাজ হয়নি। এখন প্রচন্ড গরমে হলজুড়ে পানির জন্য হাহাকার চলছে। আর ফুঁসে উঠছেন ছাত্রীরা। বিষয়টি নিয়ে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের স্পেশাল বাঞ্চের (এসবি) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। তারা বিষয়টি খোঁজ নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাবেন।

রংপুর মেডিকেল কলেজের ছাত্রী হোস্টেলের ছাত্রী ও তাদের অভিভাবকরা সংবাদকে জানান, রংপুর মেডিকেল কলেজে ২টি ছাত্রী হোস্টেল রয়েছে। এর মধ্যে একটি নতুন ও অন্যটি পুরনো। ২টি হলে মিলে প্রায় ৭০০ ছাত্রী থাকেন। পুরনো হোস্টেলে থাকেন ৩০০ ছাত্রী। এ হোস্টেলে ২টি ভবন ৪ তলা। প্রতি তলায় ১৬টি রুম। এক রুমে ৪ ছাত্রী থাকতে পারেন। হোস্টেলের প্রতিটি কমন রুমে ২০ জনের স্থলে ৩০ ছাত্রী থাকেন। এভাবে প্রতি তলার প্রতিটি রুম, কমন রুমসহ একটু বিভিন্ন স্থানে ছাত্রীদের কষ্টে দিন কাটছে। তাদের কষ্টে অভিভাবরা উদ্বেগে আছেন।

ছাত্রীরা জানান, এ গরমে হোস্টেলে পানি নেই। মাঝে মধ্যে একটু পানি পাওয়া গেলেও তা নোংরা, লাল বিবর্ণ, গন্ধ। খাওয়া তো দূরের কথা, মুখেও নেয়া যায় না। টিউবওয়েল থাকলেও কাজ হয় না। পুরনো ছাত্রাবাসে পানি সংকট, বাথরুম সমস্যা, নোংরা, গন্ধ রুমে রুমে ছড়াচ্ছে। দেখা দিয়েছে নানা রোগ। ঠিকমতো গোসল করতে না পেরে ছাত্রীরা এখন মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এভাবে আর কিছুদিন চললে তারা অসুস্থ হয়ে পড়বেন।

স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ সভাপতি প্রফেসর ডা. ইকবাল আর্সলান ও মহাসচিব প্রফেসর ডা. এম আজিজকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। তারা খোঁজ নিয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেবেন বলে জানান।