• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

রবিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৯, ২ অগ্রাহায়ণ ১৪২৬, ১৯ রবিউল আওয়াল ১৪৪১

স্বাস্থ্যসেবা সপ্তাহ উদ্বোধন

চিরায়ত চিকিৎসা পদ্ধতির প্রতি গুরুত্বারোপ প্রধানমন্ত্রীর

| ঢাকা , বুধবার, ১৭ এপ্রিল ২০১৯

image

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের চিরায়ত চিকিৎসা পদ্ধতির ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। তিনি প্রচলিত চিকিৎসা ব্যবস্থার পাশাপাশি প্রাচীনকাল থেকে চলে আসা চিরায়ত স্বাস্থ্যসেবা পদ্ধতিকে মূলধারার ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানিয়েছেন। বাসস।

গতকাল বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা সপ্তাহ ২০১৯ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা ভেষজ, আয়ুর্বেদিক, ইউনানি ও হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা উপেক্ষা করতে পারি না এবং মানুষের চিকিৎসার সুবিধার জন্য এগুলোর উন্নয়নের জন্য আরও গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে মানসম্পন্ন ওষুধ উৎপাদনে ব্যাপক সফল্য অর্জন করেছে এবং বিদেশে এর চাহিদা তৈরি হয়েছে। এর পাশাপাশি চিরায়ত ওষুধেরও ব্যাপক গুরুত্ব রয়েছে।

বিশ্বব্যাপী ভেষজ (হারবাল) চিকিৎসার চাহিদা ব্যাপক উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী চিরায়ত চিকিৎসার উন্নয়নে নিবিড় গবেষণার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তৃণমূল পর্যায়ে জরুরি স্বাস্থ্যসেবা সহজতর করতে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে সরকারি অর্থে কেনা অ্যাম্বুলেন্স ও জিপ বিতরণ করেন তিনি। জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে তার সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, স্বাস্থ্য খাতের সামগ্রিক উন্নয়নে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।

শেখ হাসিনা বলেন, সব মানুষকে স্বাস্থ্যসেবার আওতায় আনার অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে দেশব্যাপী কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপন করা হয়েছে। তিনি বলেন, বর্তমান প্রায় ১৪ হাজার ক্লিনিক মা ও শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা দিচ্ছে এবং এখান থেকে ৩০টি মারাত্মক রোগের ওষুধ বিনামূল্যে দেয়া হচ্ছে।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. মুরাদ হাসান। এ সময় স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব স্বাগত বক্তব্য রাখেন। এছাড়া বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডাব্লিউএইচও) প্রতিনিধিরা বক্তব্য রাখেন।

প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, বঙ্গবন্ধু সংবিধানে স্বাস্থ্যকে ৫টি মৌলিক চাহিদার একটি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করেন। তিনি বলেন, এই সাংবিধানিক নীতির অনুসরণে আওয়ামী লীগ সরকার মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে জনগণের মানসম্পন্ন চিকিৎসা সুবিধা প্রদান এবং চিকিৎসক ও নার্সদের মতো দক্ষ জনশক্তি তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করেছে।

শেখ হাসিনা জানান, তার সরকার ঢাকায় প্রথম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করে। তিনি জানান, তাঁর পরবর্তী সরকার দেশের ৮টি বিভাগের প্রতিটি মেডিকেল কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা গ্রহণ করে। বর্তমানে চট্টগ্রাম, সিলেট ও রাজশাহীতে তিনটি মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।

শেখ হাসিনা শুধু সায়েন্স ব্যাকগ্রাউন্ডের বদলে সব একাডেমিক ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে নার্স নিয়োগে প্রয়োজনীয় আইন ও বিধি সংশোধনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি অপারেশন-পরবর্তী রোগীদের পরিচর্চার জন্য নার্সদের বিশেষ প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।