• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

শুক্রবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০১৯, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ৮ রবিউস সানি ১৪৪১

চট্টগ্রাম, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দর ব্যবহার করবে ভুটান : এসওপি স্বাক্ষর আজ

সংবাদ :
  • মাহমুদ আকাশ

| ঢাকা , শনিবার, ১৩ এপ্রিল ২০১৯

চট্টগ্রাম, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরে ব্যবহারের পণ্য পরিবহন করবে ভুটান। ভারতের পর এবার ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা পেতে যাচ্ছে ভুটান। বাংলাদেশ ও ভুটানের মধ্যকার বিদ্যমান বাণিজ্য চুক্তি এবং প্রটোকলের আওতায় এ ট্রানজিট সুবিধা দেয়া হচ্ছে। এ নিয়ে প্রাথমিক স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউরের (এসওপি) খসড়া চূড়ান্ত করেছে দুদেশ। আজ সকাল ১০টায় দুদেশের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে। চুক্তির ফলে দুদেশের মধ্যে সড়ক, রেল ও নৌপথ ব্যবহার করে সরাসরি পণ্য পরিবহনে সুবিধা পাবে বলে নৌ-মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়।

এ বিষয় নৌ-সচিব মো. আবদুস সামাদ সংবাদকে বলেন, ভুটানের সঙ্গে আঞ্চলিক যোগাযোগের স্থাপনের লক্ষ্যে স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউরের (এসওপি) স্বাক্ষরিত হচ্ছে। আজ এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে। এর ফলে ভুটার চট্টগ্রাম, মংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দর ব্যবহার করতে পারবে। এজন্য নির্দিষ্ট পরিমাণের ফি দিতে হবে। এই চুক্তির ফলে সড়ক, রেল ও নৌপথ ব্যবহার করে সরাসরি পণ্য পরিবহনে করতে পারবে দু’দেশ।

নৌ-মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, বাংলাদেশের চট্টগ্রাম, মংলা ও পায়রা বন্দর ব্যবহার করে সড়ক, রেল ও নৌপথে ভারতের ওপর দিয়ে ভুটানের পণ্য পরিবহনের বিষয়ে বাংলাদেশ সম্মত হয়েছে বাংলাদেশ-ভুটান যৌথ কারিগরি কমিটি। খসড়া এসওপিতে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার নৌ প্রটোকল বা ‘প্রটোকল অন ইনল্যান্ড ওয়াটার ট্রানজিট অ্যান্ড ট্রেড’ (পিআইডব্লিউটিটি) এর যে রুটগুলো রয়েছে সেগুলোর মধ্যে থেকেই ব্যবহার করবে ভুটান। বাংলাদেশ ও ভুটানের মধ্যে বাণিজ্য চুক্তি হয়েছিল ১৯৮০ সালের ৮ সেপ্টেম্বর। পরবর্তীতে ২০০৯ সালের ৭ নভেম্বর নতুন করে আবারও স্বাক্ষরিত হয়। পরবর্তীতে ২০১৪ সালের ৬ ডিসেম্বর নবায়ন করা হয়। এ বাণিজ্য চুক্তির প্রটোকলও একইভাবে ১৯৮০-তে স্বাক্ষরিত হয় এবং সর্বশেষ ২০১৪ সালের ৬ ডিসেম্বর স্বাক্ষর করা হয়। আর দু’দেশের মধ্যে ট্রানজিট বিষয়ক চুক্তি হয়েছিল ১৯৮০ সালের ৮ সেপ্টেম্বর। গত বছর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার থিম্পু সফরে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ নৌ-রুট ব্যবহার নিয়ে ভুটানের চুক্তি হয়েছিল। এরই আওতায় এসওপি চুক্তির মাধ্যমে ট্রানজিট-ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা পাবে ভুটান। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে হালুয়াঘাট ও নাকুগাঁও স্থলবন্দর ব্যবহারের অনুমতি দেয়ার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। বর্তমানে দেশটির সঙ্গে বুড়িমারী ও তামাবিল স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি-রফতানি বাণিজ্য হয়ে থাকে। এ ছাড়া ট্রানজিট-ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধার আওতায় শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও সৈয়দপুর বিমানবন্দর ব্যবহারের অনুমতি দিচ্ছে ঢাকা। এর পাশাপাশি চট্টগ্রাম ও মংলা সমুদ্র বন্দর দিয়ে তৃতীয় দেশে হিসেবে পণ্য রফতানি ও আমদানি করার সুযোগ পাবে ভুটান। পণ্য পরিবহনে তিনটি রুটের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এগুলো হচ্ছে- ১. চট্টগ্রাম, চাঁদপুর, মাওয়া, আরিচা, সিরাজগঞ্জ, চিলমারী হয়ে দইখাওয়া। ২. মোংলা, বরিশাল, চাঁদপুর, মাওয়া, আরিচা, সিরাজগঞ্জ, চিলমারী ও দইখাওয়া। ৩. পায়রা পোর্ট থেকে বরিশাল হয়ে দইখাওয়া। এসপিওতে বাংলাদেশে প্রবেশ ও বাহির হওয়ার ১৩টি পয়েন্ট নির্ধারণ করা হয়েছে। সেগুলো হচ্ছে- চট্টগ্রাম বন্দর, মংলা বন্দর, পায়রা বন্দর, মঙ্গলহাট, নুনখাওয়া, দইখাওয়া, নকুগাঁও, হালুয়াঘাট, বাংলাবান্ধা, বুড়িমারী, তামাবিল ও নারায়ণগঞ্জ।