• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ৩০ মহররম ১৪৪২, ০২ আশ্বিন ১৪২৭

ফেরি ঘাটগুলোতে এবার

গ্রামমুখী মানুষের উপচেপড়া ভিড়

ঈদে বাড়ি ফিরছে, স্বাস্থ্যবিধির তোয়াক্কা করছে না কেউ

    সংবাদ :
  • সংবাদ ডেস্ক
  • | ঢাকা , রোববার, ১৭ মে ২০২০

image

গোয়ালন্দ : দৌলতদিয়া নৌপথে ঘরমুখী মানুষের ঢল। গতকাল ঘাট থেকে তোলা -সংবাদ

সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া ও শিমুলিয়া-কাঠালবাড়ি নৌরুটে ঘরমুখী মানুষের ঢল নেমেছে। এ দুই নৌরুট দিয়ে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ছিল ঢাকামুখী মানুষের স্রোত।

গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি জানান, দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটের উভয়ঘাটে সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে দক্ষিণবঙ্গের ২১ জেলার ঘরমুখী মানুষের ঢল নেমেছে। এই নৌপথ দিয়ে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ঢাকামুখী মানুষের ¯্রােত ছিল। তবে যাত্রী চলাচলের ক্ষেত্রে ছিল না কোন বিধিনিষেধ। সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে দেখা যায়নি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের। তবে মাঝে-মধ্যে টহল দিতে দেখা গেছে সেনাবাহিনীকে। গতকাল দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে গিয়ে দেখা যায়, সকাল থেকেই দক্ষিণবঙ্গমুখী হাজারও মানুষ দৌলতদিয়া ঘাটে এসে ফেরি থেকে নামছে। ফেরি যানবাহন সবখানেই গাদাগাদি করে লোকজনকে চলতে দেখা গেছে। গণপরিবহন বন্ধ থাকায় যাত্রীদের মোটরসাইকেল, ইজিবাইক চড়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে গুনতে হচ্ছে কয়েকগুন বাড়তি ভাড়া। হাজার হাজার ঘরমুখী মানুষ মাইক্রোবাস, প্রাইভেটকার, অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকা থেকে পাটুরিয়া ঘাটে এসে নেমেছে। পদ্মা পার হয়ে দৌলতদিয়া থেকে ব্যাটারিচালিত অটোবাইক, মোটরসাইকেল ও মাহেন্দ্রযোগে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় যাচ্ছে। বাড়িমুখী এসব মানুষকে সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি মানতে দেখা যায়নি।

ঢাকা সাভার থেকে আগত মাগুরাগামী যাত্রী গার্মেন্টকর্মী রেহেনা আক্তার জানান, কয়েকদিন আগে কারখানা থেকে ফোন করে জানায়, কাজে যোগ না দিলে বেতন-বোনাস কিছুই দেবে না, পাশাপাশি চাকরিও থাকবে না। তাই বাধ্য হয়েই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজে যোগ দেই। ঈদের জন্য আবার কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। তাই পরিবারের সঙ্গে ঈদ করার জন্য বাড়ি যাচ্ছি।

বিআইডব্লিটিসি দৌলতদিয়া ঘাট শাখার ব্যবস্থাপক আবু আবদুল্লাহ রনি জানান, কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সীমিত আকারে ২টি রোরো (বড়) ও ৪টি ইউটিলিটি (ছোট) ফেরি দিয়ে সীমিত আকারে শুধুমাত্র অ্যাম্বুলেন্স ও জরুরি পণ্যবাহী যানবাহন পারাপার করা হচ্ছে। ফেরি সচল ও ঘরমুখী মানুষের বাড়তি চাপ থাকায় যাত্রী পারাপার হচ্ছে।

শিবচর (মাদারীপুর) প্রতিনিধি জানান, শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ি নৌরুটের গতকাল থেকে ঘরমুখো দক্ষিণাঞ্চলের যাত্রী চাপ অনেক বেড়েছে। সামাজিক দূরত্ব উপেক্ষা করে গাদাগাদি করে যাত্রীরা পারাপার হচ্ছে। এদিকে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা না থাকায় ঘাটে যানবাহনের চাপ বেড়েছে অধিকহারে । এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত উভয় পাড়ে ৭ শতাধিক যানবাহন পারাপারের অপেক্ষায় ছিল। গণপরিবহন বন্ধ থাকায় নদী পার হয়ে যাত্রীদের মোটরসাইকেল, ইজিবাইকে চড়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে গুনতে হচ্ছে কয়েকগুন বাড়তি ভাড়া। ছোট যানবাহন ও পণ্যবাহী ট্রাকের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় ১২টি ফেরি চালু রেখেছে ঘাট কর্তৃপক্ষ।

বরিশালগামী যাত্রী সুজন মিয়া বলেন, ঢাকা থেকে শিমুলিয়া ঘাটে আসতে ৬শ’ টাকা লেগেছে। ঘাট থেকে বরিশাল পর্যন্ত মোটরসাইকেলে ভাড়া নিচ্ছে ১ হাজার টাকা।

আরেক যাত্রী বিলকিস বেগম বলেন, সামনে গাড়ি বন্ধ করে দেবে। তাই পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আগেভাগেই দেশের বাড়ি যাচ্ছি।

বিআইডব্লিউটিসি কাঁঠালবাড়ি ঘাট ম্যানেজার আ. আলীম বলেন, এ রুটে ১২টি ফেরি চালু রাখা হয়েছে। যাত্রী ও যানবাহন চাপ বেড়েছে।