• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

শুক্রবার, ০৭ আগস্ট ২০২০, ১৬ জিলহজ ১৪৪১, ২৩ শ্রাবণ ১৪২৭

চাকরিবিধি

গেজেট গ্রহণ নিয়ে আদেশ আজ

    সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
  • | ঢাকা , বুধবার, ০৩ জানুয়ারী ২০১৮

অধস্তন (নিম্ন) আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিষয়ে প্রকাশিত সরকারের গেজেট গ্রহণ করা নিয়ে আদেশের দিন পিছিয়ে আজ ধার্য করা হয়েছে। গতকাল ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহহাব মিঞার নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চ রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনে বুধবার (আজ) দিন ধার্য করেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। অন্যদিকে, বিচার বিভাগ পৃথকীকরণ সংক্রান্ত মাসদার হোসেন মামলার পক্ষে আদালতে উপস্থিত ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার এম আমীর-উল ইসলাম।

প্রসঙ্গত, ১৯৯৯ সালের ২ ডিসেম্বর মাসদার হোসেন মামলায় ১২ দফা নির্দেশনা দিয়ে রায় দেয়া হয়। ওই রায়ের আলোকে নিম্ন আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিধিমালা প্রণয়নের নির্দেশনা ছিল। সেই নির্দেশনা অনুসারে বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিধিমালা প্রণয়ন না করায় আইন মন্ত্রণালয়ের দুই সচিবকে পর্যন্ত গত বছরের ১২ ডিসেম্বর তলব করেছিলেন আপিল বিভাগ। এরপর এ বছরের ২৭ ফেব্রুয়ারি থেকে বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলাবিধি গেজেট আকারে প্রকাশ করতে সরকারকে বারবার সময় দেন আপিল বিভাগ। কিন্তু কয়েক দফা সময় নিয়েও গেজেট প্রকাশে ব্যর্থ হয় সরকার। এ বিষয়টি নিয়ে সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার সঙ্গে আইনমন্ত্রীর আলোচনায় বসার কথা থাকলেও তা সম্ভব হয়নি।

পরে দায়িত্বরত প্রধান বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহহাব মিঞাসহ আপিল বিভাগের পাঁচ বিচারপতির সঙ্গে আলোচনা শেষে আইনমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে গেজেট প্রকাশ হচ্ছে। তখন আইনমন্ত্রী ৩ ডিসেম্বরের মধ্যে গেজেট প্রকাশের কথা বললেও গত ১১ ডিসেম্বর গেজেটটি প্রকাশিত হয়। গেজেট প্রকাশ হওয়ার পর এ নিয়ে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দিয়েছেন সরকারপক্ষ ও সুপ্রিম কোর্টে আইনজীবী সমিতিসহ জ্যেষ্ঠ আইনজীবীরা। আইনমন্ত্রীসহ সরকার সমর্থক আইনজ্ঞরা বলছেন, সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের পাঁচ বিচারপতির পরামর্শক্রমে ঐকমত্যের ভিত্তিতে এ সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে।

ওই সময় আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, ‘গেজেটের ফলে সুপ্রিম কোর্টের ক্ষমতা কমেনি বরং একটু বেড়েছে। কেননা শৃঙ্খলা বিধিমালার ২৯ বিধির (২) উপবিধিতে পরিষ্কারভাবে বলা হয়েছে, উপর্যুক্ত কর্তৃপক্ষের (রাষ্ট্রপতি বা মন্ত্রণালয়) প্রস্তাব ও সুপ্রিম কোর্টের পরামর্শ অভিন্ন না হলে সে ক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্টের পরামর্শ প্রাধান্য পাবে, যা আগে কখনোই ছিল না।’ অন্যদিকে, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতিসহ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ আইনজীবীর দাবি, সংবিধান যে ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির ওপর ন্যস্ত করেছে, সেই ক্ষমতা আইন মন্ত্রণালয় প্রয়োগ করতে পারে না। এই বিধিমালা প্রয়োগ হলে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা খর্ব হবে। প্রকাশিত গেজেট নিয়ে পাল্টাপাল্টি অবস্থানের মধ্যে গত ১৩ ডিসেম্বর একজন বিচারপতির ছুটিতে থাকায় বিষয়টি পিছিয়ে ২ জানুয়ারি দিন ধার্য করেন আপিল বিভাগ।