• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২০, ২৬ আষাঢ় ১৪২৭, ১৮ জিলকদ ১৪৪১

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশনা

গৃহস্থের গোয়ালে গরু চেক করবে না বিজিবি

    সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
  • | ঢাকা , শুক্রবার, ০৫ এপ্রিল ২০১৯

এখন থেকে বিজিবির কোন সদস্য সীমান্ত এলাকায় বসবাসকারী কারও গোয়াল ঘরে যাবে না, কারও উঠানে যাবে না। রাস্তা-ঘাটে গরু চেক করে দেখবে নাÑ সেটি বাংলাদেশি গরু নাকি ভারতীয় গরু। এছাড়া এলাকার কোন বাজারে গিয়েও গরু চেক করবে না। সম্প্রতি ঠাকুরগাঁওয়ে বিজিবির সঙ্গে গ্রামবাসীর সংঘর্ষ ও বিজিবির গুলিতে ৩ কৃষকের মৃত্যুর ঘটনায় গতকাল বিজিবি সদর দফতরের দরবার হলে এক মতবিনিময় সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের পক্ষ থেকে এমন নির্দেশনা আসে। গতকাল সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদর দফতরে মাদক ও মানব পাচার এবং চোরাচালান প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা ও সমস্যা চিহ্নিতকরণে সীমান্ত এলাকার সংসদ সদস্য ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে এ মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। বৈঠকে সীমান্ত এলাকার ৫৪ জন সংসদ সদস্য, মন্ত্রী এবং সরকারি কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন।

এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ঠাকুরগাঁওয়ে গ্রামবাসীর সঙ্গে বিজিবির সংঘর্ষের সময় যে তিনজন গ্রামবাসী নিহত হয় তার প্রেক্ষিতে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। বিজিবি সীমান্ত পাহারা দেবে। ঠাকুরগাঁওয়ে বিজিবির গুলিতে যে তিনজন নিরীহ মানুষকে হত্যা করা হয়েছে, সেটির বিচার এখনও হয়নি। আপনি কি মনে করেন, আদৌ বিচার হবেÑ এ প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বিচার হবে কি হবে না তা আগেই বলার দরকার নেই। ওই ঘটনায় বেশ কয়েকটি তদন্ত কমিটি হয়েছিল। বিজিবি নিজেও ঘটনাটি তদন্ত করছে। এ বিষয়ে মামলা হয়েছে। কিছু প্রতিবেদন আমরা হাতে পেয়েছি আর কিছু এখনও হাতে আসেনি। সব প্রতিবেদন একসঙ্গে এলে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সীমান্তে হত্যা বেড়ে যাওয়ার কারণ জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ‘অতি উৎসাহী কিছু লোক বর্ডার ক্রস করে চলে যায়। যার ফলে কিছু গুলির ঘটনা ঘটে এবং হত্যাকা- হয়। সেটি নিয়ে কাজ করা হচ্ছে।’ মাদকের সঙ্গে জড়িত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে যেভাবে ব্যবস্থা নেয়া হয় তেমনি করে বিজিবি সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয় না কেনÑ জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ‘মাদকের সঙ্গে যেই জড়িত থাকুক না কেন প্রমাণ পেলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়। বিজিবির বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হয়।

বৈঠকে নওগাঁর এমপি ও খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেন, মাদকসহ যেকোন চোরাচালান প্রতিরোধে ‘সীমান্তে যেকোন উপায়ে রাস্তা তৈরি করতে হবে এবং বিদ্যুতের ব্যবস্থা করতে হবে, প্রয়োজনে সোলারের মাধ্যমে হলেও। সীমান্ত সড়কে বিজিবির সদস্যদের নিয়মিত টহলের জন্য যানবাহনের ব্যবস্থাও করতে হবে।’

বৈঠকে আইজিপি ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী বলেন, সীমান্ত এলাকায় অস্ত্র পাচার আমাদের জন্য বিশাল কনস্যান্স। হলি আর্টিসানে জঙ্গি হামলার অস্ত্র সীমান্ত দিয়ে এসেছে। সীমান্তে চোরাচালানের মধ্যে মাদকের চোরাচালান সবচেয়ে বেশি। ‘সীমান্তে পাচারের ধরন পরিবর্তন হয়েছে। আগে শাড়ি, কাপড়, ফেনসিডিল ও গরু পাচার হতো। এখন পাচার হয় ইয়াবা ও অস্ত্র। সীমান্তে পুলিশ এবং বিজিবির যৌথ টহল দিলে পরিস্থিতির হয়তো আরও উন্নতি হবে। সীমান্তে পুলিশ মাদকের সঙ্গে জড়িত থাকলে আমাদের জানান। আমরা ব্যবস্থা নেব।’ নিরাপরাধ কোন মানুষকে হয়রানি করা যাবে না। পুলিশের পক্ষ থেকে করা বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে টাকা নেয়া হলে সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

মতবিনিময় সভায় দেশের সীমান্তবর্তী এলাকার ৩২টি জেলার মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, আট বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার, সংশ্লিষ্ট দফতরের সচিব, জেলা প্রশাসক, বিজিবি মহাপরিচালক, আইজিপি, র‌্যাবের মহাপরিচালক, পুলিশের বিশেষ শাখার ডিআইজি (রাজনৈতিক), বিজিবির সেক্টর প্রধান, রিজিওনাল প্রধান ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।