• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২০, ০১ শ্রাবণ ১৪২৭, ২৩ জিলকদ ১৪৪১

পটিয়ায় জমি নিয়ে বিরোধ

গৃহবধূ খুন : চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার মহাসড়ক অবরোধ

সংবাদ :
  • নজরুল ইসলাম, পটিয়া (চট্টগ্রাম)

| ঢাকা , রোববার, ২১ জানুয়ারী ২০১৮

চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার পৌরসভা এলাকায় প্রতিপক্ষের হামলায় জয়নাব বেগম (৩৪) এক গৃহবধূ নিহত হয়েছেন। নিহত জয়নাব বেগম পৌর সদরের নুরুল আবছারের স্ত্রী। গতকাল সকাল ৭টার দিকে দু’পক্ষের মধ্যে সংর্ঘষের সময় ইট পাথরে আঘাতে জয়নাব বেগম আহত হয়। পরে দুপুরের দিকে পটিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তার মৃত্যু হয় বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে। তা নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে ব্যারিকেড দিয়েছে নিহতের আত্মীয়-স্বজন ও এলাকাবাসী। নিহতের স্বজনদের দাবি খুনিকে গ্রেফতার না করা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। এক ঘণ্টা ধরে যান চলাচল বন্ধ। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়ন করা হয়।

একটি কমিউনিটি সেন্টারের জায়গাকে কেন্দ্র করে এ ঘটনাটি ঘটে। কমিউনিটি সেন্টারের মালিক জামায়াত নেতা গিয়াস উদ্দীন। জামায়াত নেতা গিয়াস উদ্দীন গৃহবধূকে পাথর নিক্ষেপ করে বলে জানা যায়। পটিয়া থানার ওসি শেখ মো. নেয়ামত উল্লাহ চৌধুরী বলেন, যিনি খুন হয়েছেন তাদের বাড়ির পাশেই একটি কমিউনিটি সেন্টার আছে। ওই কমিউনিটি সেন্টারের সীমানা প্রাচীর নিয়ে জয়নাব বেগমদের বিরোধ ছিল। গতকাল সকালে ঝগড়া হয়। এরপর খুনের ঘটনা ঘটেছে। পাথর ছুঁড়ে মারার পর সেটা মাথায় আঘাত পেলে মৃত্যু হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানায়। এছাড়া লোহার রড দিয়ে পেটানোর বিষয়টিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। জাময়াত নেতা পক্ষে স্থানীয় কিছু যুবলীগ ছাত্রলীগের কর্মীও এ ঘটনায় অংশ নেন বলেও খবর পাওয়া গেছে। বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা পুলিশ সুপার ইমরান ভুইঁয়া। তিনি বলেন, আমরা দু’পক্ষকে ডেকে সমযোতা করার চেষ্টা করছি সড়কের অবরোধর তুলে নেয়া হয়েছে।

জানা যায়, পটিয়া পৌর সদরের খাসমহল ভূমি অফিসের সামনে গাজী কনভেনশন সেন্টার নামে কমিউনিটি সেন্টার এবং চারতলা আবাসিক ভবনটি পাশাপাশি। গাজী কনভেনশন সেন্টারের মালিক প্রবাসী গাজী মো. আসলাম। তার ভাই পটিয়া পৌর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি গাজী মো. আবু তাহের কমিউনিটি সেন্টারের দেখভাল করেন। যে গৃহবধূকে খুন করেছে গাজী গিয়াস উদ্দীন জামায়েতর রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত।

আর চারতলা ভবনের মালিক প্রবাসী নূরুল আলম। কমিউনিটি সেন্টারের সীমানা প্রাচীর ওই ভবনের দুই ফুট জায়গা দখল করে গড়ে তোলা হয়েছে বলে অভিযোগ করে সম্প্রতি উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে একটি আবেদন করা হয়েছিল। চারদিন আগে সেই সীমানা প্রাচীর ভেঙ্গে দেয়া হয়। এই ঘটনায় গাজী আসলামের আরেক ভাই গাজী গিয়াস বাদী হয়ে পটিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, গতকাল সকাল ৭টা থেকে কমিউনিটি সেন্টারে শ’ শ’ তরুণ-যুবকের জমায়েত হয়। তাদের উপস্থিতিতে কমিউনিটি সেন্টারের মালিকপক্ষ সেখানে সীমানা প্রাচীরের নির্মাণ শুরু করেন। এ সময় নূরুল আলমের স্ত্রী জয়নাব বেগম প্রতিবাদ করলে ঝগড়া শুরু হয়। এক পর্যায়ে ব্যাপক হট্টগোলের মধ্যে দুর্বৃত্তরা তাদের বাসায় ঢুকে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে তাকে হত্যা করেছে বলে প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানিয়েছে। আবার একই সময়ে ভবনটি লক্ষ্য করে কমিউনিটি সেন্টার থেকে পাথর ছুঁড়তে দেখার কথাও জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শী। গুরুতর আহত জয়নাবকে পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়ার পর চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ বিষয়ে পটিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র অধ্যাপক হারুনুর রশীদ জানান, এ ঘটনায় যারা অভিযুক্ত তারা সবাই বিএনপি জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। নিহত গৃহবধূর পরিবার আওয়ামী পরিবার বলে তিনি জানায়, এর আগেও কমিউনিটি সেন্টারে হামলা চালিয়েছে গৃহবধূর পরিবার।