• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

শনিবার, ১৭ এপ্রিল ২০২১, ৪ বৈশাখ ১৪২৮ ৪ রমজান ১৪৪২

গাজীপুর-টাঙ্গাইল কুমিল্লায় ৩ ধর্ষক গ্রেফতার

    সংবাদ :
  • সংবাদ ডেস্ক
  • | ঢাকা , মঙ্গলবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২০

তিনটি পৃথক ধর্ষণের ঘটনায় গাজীপুরে এক যুবককে ও টাঙ্গাইলে কিশোর আটক এবং কুমিল্লায় আপন খালুকে গ্রেফতার করে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।

প্রতিনিধিদের পাঠানো খবরে এ তথ্য জানা গেছে।

এদিকে প্রতিনিধি জানান, টঙ্গী (গাজীপুর)

রোববার সন্ধায় টঙ্গীর এরশাদনগর এলাকায় এক স্কুলছাত্রী ধর্ষণের শিকার হয়েছে। ধর্ষণের অভিযোগে নোমান নামে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। নোমান ভোলা জেলার লালমোহন থানার ধুলিঘরনগর এলাকার মোহাম্মদ আলীর ছেলে। এ ঘটনায় তার পরিবারের পক্ষ থেকে টঙ্গী পূর্ব থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। টঙ্গী পূর্ব থানার এসআই মো. নজরুল ইসলাম জানান, প্রায় এক বছর আগে একই বাসায় ভাড়া থাকার সুবাদে নবম শ্রেণীর স্কুলছাত্রীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে নোমান। এরপর নোমান বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তার সঙ্গে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক গড়ে। পরবর্তীতে বিয়ের জন্য চাপ দিলে নোমান বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানায় এবং বিষয়টি কাউকে জানালে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। এ ঘটনা স্কুলছাত্রী তার পরিবারকে জানালে তার পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ টঙ্গী বাজার অভিযান চালিয়ে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে নোমানকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

টঙ্গী পূর্ব থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. জাহিদুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনায় থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এ ঘটনায় একজনকে আটক করা হয়েছে।

প্রতিনিধি, কুমিল্লা

কুমিল্লায় কিশোরী ভাগ্নিকে ধর্ষণের অভিযোগে আবুল হাসেম নামে ব্যাক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গতকাল নগরীর সংরাইশ এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। বিকেলে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়ার পর তাকে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়। আবুল হাসেম জেলার চান্দিনা উপজেলার কুটুম্বপুর গ্রামের জয়নাল আবেদীনের ছেলে। সে নগরীর সংরাইশ এলাকার একটি বাসায় পরিবার নিয়ে ভাড়া থাকত। ধর্ষক ওই কিশোরীর আপন খালু।

মামলার অভিযোগে জানা যায়, ধর্ষিতা ওই কিশোরীর বাবা মারা যাওয়ার পর কাজের সন্ধানে সে তার খালু আবুল হাসেমের বাড়িতে আসে। সেখানে থেকে সে কুমিল্লা ইপিজেডের একটি কারখানায় শ্রমিকের কাজ করে আসছিল। গত বছরের ৩০ অক্টোবর সন্ধ্যায় ইপিজেডে কাজ শেষে বাসায় ফেরার পর আবুল হাসেম তাকে নানাভাবে ভয় দেখিয়ে ধর্ষণ করে এবং বিষয়টি কাউকে জানালে তার খালা এবং বাকপ্রতিবন্ধী মাকে মেরে ফেলবে বলে হুমকি দেয়। এরপর থেকে আবুল হাসেম বিভিন্ন সময়ে তাকে ধর্ষণ করে আসছিল। সর্বশেষ সে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি তাকে ধর্ষণ করে। বর্তমানে ওই কিশোরী ৪ মাসের অন্তঃসত্ত্বা বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়। এদিকে এ ঘটনায় ধর্ষিতা ওই কিশোরী বাদী হয়ে আবুল হাসেমকে আসামি করে গতকাল কুমিল্লা কোতয়ালী মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় গতকাল সকালে আবুল হাসেমকে গ্রেফতার করা হয়। থানার এসআই ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. সুমন মিয়া জানান, আসামি আবুল হাসেম কুমিল্লা সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ইরফানুল হক চৌধুরীর আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। পরে তাকে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়।

মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি জানান,

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে ছয় বছরের শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ অভিযুক্ত কিশোর সুরুজ মোল্লাকে (১৩) গ্রেফতার করেছে। সে নওগাঁ জেলা সদরের চুনিয়াগাড়ী গ্রামের লাইবুল্লাহর ছেলে। ঘটনাটি ঘটেছে গত রোববার বিকেলে উপজেলার গোড়াই ইউনিয়নের নাজিরপাড়া বটটেকী এলাকায় ধর্ষিতা শিশুটিকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে রাখা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

পুলিশ জানান, ধর্ষিতা শিশুটির বাবা-মা ও ধর্ষকের বাবা-মা মির্জাপুর উপজেলার গোড়াই ইউনিয়নের নাজিরপাড়া বটটেকী এলাকার জনৈক জয়নাল মিয়ার বাড়িতে ভাড়া থাকেন। ধর্ষিতার মা গোড়াই এলাকার কমফিট কম্পোজিট নিট লি. কারখানার পোষাক শ্রমিক ও বাবা ওই এলাকায় রিকশা চালান। ধর্ষকের বাবা লাইবুল্লাহ ও মা একই কারখানার পোষাক শ্রমিক। প্রতিদিনের ন্যায় উভয়ের বাবা-মা কাজে যান। বিকেলে ধর্ষিতা শিশুটি ধর্ষণকারী সুরুজ মোল্লার ঘরে টিভি দেখতে গেলে একা পেয়ে সে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। এতে শিশুটি রক্তাক্ত হয়ে পড়ে। সন্ধ্যার পর মেয়ের মা মেয়েটিকে অসুস্থ দেখে স্থানীয় একটি ক্লিনিকে নিয়ে গেলে সেখানকার চিকিৎসক শিশুটি ধর্ষিত হয়েছে বলে জানান এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য মির্জাপুর কুমুদিনী হাসপাতালে পাঠান।

সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক ধর্ষণের আলামত বুঝতে পেরে থানা পুলিশকে জানানোর পরামর্শ দেন। গতকাল সকালে মেয়েটির মা মির্জাপুর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করলে পুলিশ ধর্ষক সুরুজ মোল্লাকে গ্রেফতার করেন। এছাড়া ধর্ষিতা শিশুটিকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে পাঠানো হয়েছে বলে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মির্জাপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আবু সাদেক জানিয়েছেন।

ধর্ষক সুরুজ মোল্লাকে আজ আদালতে পাঠানো হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।