• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বুধবার, ১৪ এপ্রিল ২০২১, ১ বৈশাখ ১৪২৮ ১ রমজান ১৪৪২

রাজধানীতে

গভীর রাতে সড়কে ঝরল ২ নারীসহ ৪ জনের প্রাণ

    সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
  • | ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২০

গত মঙ্গলবার গভীর রাতে ঢাকার সড়কে ঝরল নারীসহ চারজনের প্রাণ। মঙ্গলবার রাত ১২টায় ও ১টার দিকে পৃথক দুই ঘটনায় দুই বান্ধবী ও দুই বন্ধু নিহত হয়েছেন। খবর পেয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে এসে ৪ মরদেহ শনাক্ত করেন ৪ পরিবারের লোকজন। পুলিশ বলছে, ঘটনাটি দুইটি স্রেফ দুর্ঘটনা। এর সঙ্গে জড়িত গাড়িচালককে চিহ্নিত করে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

বনানী থানা পুলিশ জানায়, গত মঙ্গলবার রাত ১২টার দিকে স্কুটার চালিয়ে যাওয়ার সময় মহাখালী সেতু ভবনের সামনে একটি পরিবহনের ধাক্কায় গুরুতর আহত হন সৈয়দা কচি (৩৮) ও তার বান্ধবী সোনিয়া আক্তার (৩২)। পরে তাদের উদ্ধার করে ঢামেক হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে পরিবারের লোকজন এসে নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করেন। এদের মধ্যে কচি কিশোরগঞ্জ কুলিয়ারচর পৌরসভার পাচুলিয়া বাজিতপুর এলাকার মৃত সৈয়দ ফজলুল হকের মেয়ে। আর সোনিয়া আক্তার ভোলা সদর উপজেলার মাকবেদুরিয়া গ্রামের নুরুল আমিনের মেয়ে।

নিহত কচির মামা অ্যাডভোকেট নুরুল আমিন ভূঁইয়া জানান, গত মঙ্গলবার গভীর রাতে ফেসবুকে কচির ছবি দেখে গ্রামের বাড়ি থেকে একজন তাকে ফোনে দুর্ঘটনার খবর জানান। এরপর ভোরে ঢাকা মেডিকেলের মর্গে কচির মরদেহ শনাক্ত করেন তিনি। তিনি জানান, কচি উত্তরায় পার্ল ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক মানের কসমেটিক্স পণ্য বিপণন ও বিতরণকারী প্রতিষ্ঠানের টেরিটরি অফিসার হিসেবে চাকরি করতো। বাণিজ্য মেলায়ও তাদের স্টল ছিল। গত ৭-৮ বছর ধরে কচি ওই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত। কচি অবিবাহিত ছিল, দুই বোনের মধ্যে ছোট। কল্যাণপুরের একটি বাসায় এক রুমে ভাড়া থাকত। নিজের স্কুটার দিয়েই চলাফেরা করত। সোনিয়া তার বান্ধবী ছিল। সেও চাকরিজীবী। দীর্ঘদিন তারা একসঙ্গেই থাকত।

কচি প্রতিদিন সকাল ৯টায় অফিসে যেত। আবার রাত ১১টার আগেই বাসায় ফিরত। তবে ওই দিন এত রাতে কোথায় যাচ্ছিল তা বলতে পারছি না। এত জনবহুল জায়গায় দুটি মেয়ের মরদেহ পড়েছিল কেউ কিছু বলতে পারছিল না। আশপাশে অনেক সিসিটিভি ক্যামেরাও ছিল। পুলিশও কিছু বলতে পারে না, কোন গাড়ি ধাক্কা দিয়েছে কি-না। আমাদের কাছে মনে হচ্ছে অন্য কোন ঘটনা। কচি যেই স্কুটার চালাতেন, সেটির পেছনে প্রেস লেখা ছিল। তার মামা বলেন, বছর খানেক আগে কচি একটি পত্রিকায় রিপোর্টিং-এ চাকরি নিয়েছিল বলে শুনেছিলাম। পরে অবশ্যই চাকরিটা ছেড়ে দিয়েছিল। কোন পত্রিকায় চাকরি নিয়েছিল তা বলতে পারছি না।

নিহত সোনিয়ার মা মনোয়ারা বেগম জানান, দুই মেয়ে দুই ছেলের মধ্যে সোনিয়া ছিল ৩য়। সে আগে ভারতীয় কসমেটিকস কোম্পানিতে চাকরি করত। মাঝেমাঝেই ভারতে যেত। সেখানে থাকত। সেখানে চাকরি করা অবস্থায় সৈয়দ মহাসিন নামের এক যুবকের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক হয়। এরপর ৯ মাস আগে তারা বিয়ে করে। কিছুদিন আগে সে দেশে আসে। বর্তমানে সে বেকার ছিল। গেল ১৭ তারিখে তার ভারতে যাওয়ার কথা ছিল। করোনাভাইসারের কারণে ভিসা জটিলতায় আর যেতে পারেনি। আগামী মাসে যাওয়ার কথা ছিল। তার পরিবার মিরপুর-১ গুদারাঘাট এলাকায় থাকে। তিনি জানান, সোনিয়া ও তার বান্ধবী কচি ওই রাতে বনানীতে নীলু নামের তাদের এক আপার বাসায় যায়। সেখান থেকেই রাতে দু’জনে মিরপুরের বাসায় ফিরছিল। বনানী থানার ওসি নুরে আজম মিয়া বলেন, এটি একটি সড়ক দুর্ঘটনা, প্রাথমিকভাবে আমরা নিশ্চিত হয়েছি। তবে কোন যানবাহনের ধাক্কায় ওই দুই নারীর মৃত্যু হয়েছে, সেটি নিশ্চিত হতে সিসিটিভি ফুটেজ দেখে শনাক্তের চেষ্টা চলছে। গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত ঘাতক বাস ও এর চালককে শনাক্ত করে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।

এদিকে ওই রাতেই ডেমরা এলাকায় বেপরোয়াভাবে মোটরসাইকেল চালাতে গিয়ে দুই আরোহীর মৃত্যু হয়েছে। তারা হলেন- ওমর ফারুক ঐশিক (১৮) ও মো. কিবরিয়া সাদিম ওরফে আকাশ (২০)। জানা গেছে, ওমর স্থানীয় রোকেয়া আহসান কলেজের এইচএসসি পরিক্ষার্থী ছিল এবং কিবরিয়া ৮ম শ্রেণী পর্যন্ত লেখাপড়া করেছিল। ডেমরা থানার এসআই নাসির উদ্দিন জানান, গত মঙ্গলবার রাতে কিবরিয়া মোটরসাইকেল মেরামত করতে গিয়েছিল। সেখানে বেশ দেরি করে ফেলে। পরে ওমর ও কিবরিয়া বাসায় ফেরার জন্য দ্রুত গতিতে বাইক চালালে আইল্যান্ডের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে দুর্ঘটনার শিকার হয়। পথচারীরা তাদের উদ্ধার করে ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসক রাত দেড়টার দিকে আকাশকে মৃত ঘোষণা করেন। আর ঐশিক রাত সোয়া ৩টার দিকে মারা যান।

মৃত ওমরের মামা রাশেদ জানান, ওমরের বাবার নাম জাহাঙ্গীর আলম এবং মায়ের নাম সোহাগী। গ্রামের বাড়ি ঢাকার দোহারে। বর্তমানে ডেমরার কোনাপাড়ার চিশতিয়া রোডের ৩৮ নম্বর বাড়িতে থাকত। এক ভাই ও এক বোনের মধ্যে ওমর বড়। মৃত কিবরিয়ার ভাই শামিম জানান, তার বাবার নাম জয়নাল আহাম্মেদ। গ্রামের বাড়ি চাঁদপুরের মতলব উত্তরে। বর্তমানে ডেমরার কোনাপাড়ার মাজার রোডে হাসেম সাহেবের বাড়িতে থাকত। দুই ভাই ও দুই বোনের মধ্যে কিবরিয়া ছোট। তবে ঢামেক হাসপাতালে নিহত কিবরিয়ার এক স্বজন জানান, কিবরিয়া ও ঐশিক বালুবাহী একটি ট্রাকের ধাক্কায় গুরুতর আহত হয়ে মারা গেছেন।