• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

শনিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২০, ৯ ফল্গুন ১৪২৬, ২৭ জমাদিউল সানি ১৪৪১

গণমাধ্যমকে আইনি সুরক্ষা দেয়া হবে তথ্যমন্ত্রী

সংবাদ :
  • চট্টগ্রাম ব্যুরো

| ঢাকা , শনিবার, ২৩ নভেম্বর ২০১৯

তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, গণমাধ্যম কর্মীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তারা পেশাগত দায়িত্ব পালন করেন। তাদের জীবনমান উন্নয়নের সঙ্গে চাকরির স্থায়িত্ব ও আইনি সুরক্ষা দেয়া হবে। গণমাধ্যম কর্মীদের জন্য সম্প্রচার নীতিমালা হয়েছে। এ নীতিমালার আওতায় কি ভাবে তাদের আইনি সুরক্ষা দেয়া যায় সে জন্য কাজ করছে সরকার। গতকাল চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে ‘বিশ্ব টেলিভিশন দিবস’ উপলক্ষে বিটিভি চট্টগ্রাম কেন্দ্র, চট্টগ্রাম টিভি জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন ও টিভি ক্যামেরা জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, আপনাদের জন্য একটি সুখবর দিতে চাই, বিটিভি চট্টগ্রাম কেন্দ্র আগামী মাস থেকে ১২ ঘণ্টা সম্প্রচারে যাবে। বর্তমানে বিটিভি চট্টগ্রাম কেন্দ্র শুধু ক্যাবল টেলিভিশন হিসেবে সারাদেশে ও বিদেশে দেখা যায়। কিন্তু আগামী কয়েক মাসের মধ্যে এটিকে টেরেস্ট্রিয়াল চ্যানেল হিসেবেও উন্নীত করা হবে। ইতিমধ্যে যন্ত্রপাতি কেনার টেন্ডার হয়ে গেছে। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে বিটিভি ঢাকা কেন্দ্রের মতো বিটিভি চট্টগ্রাম কেন্দ্রও ডিশ কানেকশন ছাড়াও টেরেস্ট্রিয়াল চ্যানেল হিসেবে সারাদেশে দেখা যাবে।

এর আগে গত ১৩ এপ্রিল বিটিভি চট্টগ্রাম কেন্দ্রের অনুষ্ঠান সম্প্রচার ৬ ঘণ্টা থেকে ৩ ঘণ্টা বাড়িয়ে ৯ ঘণ্টার অনুষ্ঠান সম্প্রচারের উদ্বোধন করেন তথ্যমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ। মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণমাধ্যমবান্ধব। বেসরকারি খাতে দেশের প্রথম টেলিভিশন চ্যানেলের অনুমোদন দিয়েছিলেন তিনিই। প্রিন্ট মাধ্যমের সাংবাদিকদের মতো টিভি সাংবাদিকদেরও আইনি সুরক্ষা দেয়া প্রয়োজন বলে মন্তব্য করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, টেলিভিশনে চাকরিরতদের বেশিরভাগই মেধাবী। টেলিভিশনে কর্মরত সাংবাদিক ভাই-বোনদের আইন সুরক্ষা দেয়া প্রয়োজন। যারা ওয়েজবোর্ডের মাধ্যমে প্রিন্ট মাধ্যমে কাজ করেন, তাদের জন্য আইনি সুরক্ষা আছে। কিন্তু টেলিভিশনের ক্ষেত্রে আইনি সুরক্ষা এখন পর্যন্ত নেই। আমরা সেটি নিয়ে কাজ করছি। তিনি বলেন, সম্প্রচার নীতিমালা ইতিমধ্যে প্রণয়ন করা হয়েছে। সম্প্রচার আইনও পাস হবে। সেটি হলে সম্প্রচার মাধ্যমের সাংবাদিকদের আইনি সুরক্ষা দেয়া সম্ভব হবে। তারপরও আমরা চিন্তা করছি, সম্প্রচার নীতিমালা যেহেতু বিদ্যমান আছে, এই নীতিমালার আলোকে কিভাবে আইনি সুরক্ষা দেয়া যায়। তিনি আরও বলেন, শিশু-কিশোরসহ আমাদের পুরো জনগোষ্ঠীর ওপর টেলিভিশনের প্রভাব ব্যাপক। যে মাধ্যমের এতবড় প্রভাব, সেটিকে আমরা জাতিগঠনের বিশাল কাজে লাগাতে পারি। আমাদের নতুন প্রজন্মের মনন তৈরি এবং একইসঙ্গে ভবিষ্যতের স্বপ্নের ঠিকানায় দেশকে পৌঁছানোর জন্য যেমন মেধা, মূল্যবোধ ও দেশাত্মবোধসম্পন্ন জনগোষ্ঠী তৈরির সক্ষমতা আমাদের টেলিভিশনের রয়েছে। টেলিভিশন যেন ব্যক্তিগত বা ব্যবসায়ী স্বার্থে ব্যবহার না হয়, সে বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন ও চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুল মান্নান। এ সময় অন্যদের মধ্যে বাংলাদেশ টেলিভিশনের উপ মহাপরিচালক (বার্তা) অনুপ কুমার খাস্তগীর, বিটিভি চট্টগ্রাম কেন্দ্রের মহাব্যবস্থাপক নিতাই কুমার ভট্টাচার্য, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সহসভাপতি রিয়াজ হায়দার চৌধুরী, চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি কলিম সরওয়ার, একুশে পত্রিকা সম্পাদক আজাদ তালুকদার, চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী ফরিদ, টিভি জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নাসির উদ্দিন তোতা, সাধারণ সম্পাদক লতিফা আনসারী রুনা ও চট্টগ্রাম টিভি ক্যামেরা জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শফিক আহামদ সজীব বক্তব্য রাখেন।

এরপর মন্ত্রী মহানগরীর জিইসি কনভেনশন সেন্টারে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এলামনাই এসোসিয়েশন আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেছেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ৫৩ বছর অতিবাহিত করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের এলামনাই অ্যাসোসিয়েশন এ ধরনের আয়োজন পূর্বে কখনও করেনি। তবে এ আয়োজন অনেক আগেই হওয়া উচিত ছিল। কারণ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় অনেক আলোকিত মানুষের জন্ম দিয়েছে। তারা দেশে-বিদেশে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন হয়েছেন। অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে যারা মারা গেছে তাদের স্মরণে শোক প্রস্তাব করেণ অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কামরুল হাসান। এ সময় সাবেক ভিসি প্রফেসর আবদুল মান্নান, প্রফেসর বদিউল আলম, প্রফেসর আলাউদ্দিন আলম, প্রফেসর আনোয়ারুল আজিম আবিদ এবং প্রফেসর ড. শিরীন আক্তারকে সম্মাননা ক্রেস্ট দেয়া হয়। এ সময় সাবেক চিফ হুইপ আবদুস শহীদ, সাবেক মূখ্য সচিব আবদুল করিম, বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব আহমেদ কায়কাউস, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিপি মাজাহারুল হক শাহ ও চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি মো. মাহাবুবুল আলম বক্তৃতা করেণ।

বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, বহু বছর এ চেনা মুখগুলো দেখা যায় নাই। আজ দেখে ভালো লাগছে। শাটল ট্রেনে গলা ছেড়ে গান গাওয়ার স্মৃতি আজও আমার মনে পড়ে। মনে চায় আবার বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে সেদিন টাতে ফিরে যাই। তবে ভবিষ্যতে এ ধরনের আয়োজন বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসেই হবে বলে মন্তব্য করেণ তথ্যমন্ত্রী। দুই দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের আজ প্রথম দিনে রয়েছে আলোচনা সভা ও গান পার্বণ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এতে অংশ নিবেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নবীন ও প্রবীণ শিক্ষার্থীরা। এর উদ্দেশ্য চবির শাটল ও ঝুপড়ী গানের ঐতিহ্যকে পুনর্জীবিত করা। এছাড়া অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় দিনে রয়েছে, স্বল্পদৈর্ঘ চলচ্চিত্র প্রতিযোগিতা। যাতে অংশগ্রহণ করতে পারবেন বাংলাদেশের সব নির্মাতা।