• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বুধবার, ১৪ এপ্রিল ২০২১, ১ বৈশাখ ১৪২৮ ১ রমজান ১৪৪২

গণপরিবহন সেক্টরের নিয়ন্ত্রক এনায়েত উল্লাহ অবৈধ সম্পদের অনুসন্ধানে দুদক

    সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
  • | ঢাকা , মঙ্গলবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২০

গণপরিবহন সেক্টরের নিয়ন্ত্রক ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার এনায়েত উল্লাহর অবৈধ সম্পদের অনুসন্ধানে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এনা পরিবহনের মালিক পরিবহন নেতা এনায়েত উল্লাহ পরিবহন সেক্টরে অবৈধভাবে চাঁদাবাজির মাধ্যমে শত শত কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ গড়েছেন বলে অভিযোগ পেয়েছে দুদক। আর এ অভিযোগ অনুসন্ধানের জন্য দুদকের উপ-পরিচালক নুরুল হুদাকে অনুসন্ধান কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে দুদক। দীর্ঘদিন পর্যন্ত পরিবহন সেক্টর নিয়ন্ত্রণ করে আসছেন খন্দকার এনায়েত উল্লাহ। প্রতিদিন পরিবহন সেক্টরে যে টাকা চাঁদা তোলা হয় তার একটি অংশ নিয়মিত এনায়েত উল্লাহর তহবিল জমা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

দুদক সূত্র জানায়, ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও এনা পরিবহনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক খন্দকার এনায়েত উল্লাহর বিরুদ্ধে পরিবহন সেক্টরে চাঁদাবাজিসহ নানা অনিয়মের মাধ্যমে শত শত কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ পেয়েছে দুদক। অভিযোগ আমলে নিয়ে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয় কমিশন। কমিশনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে অনুসন্ধানের জন্য অনুসন্ধান কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়েছে। অভিযোগ অনুসন্ধানে এরই মধ্যে বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটির (বিআরটিএ) বিভিন্ন অফিসে রেজিস্ট্রেশনসহ সংশ্লিষ্ট নথিপত্র চেয়ে চিঠি দিয়েছেন দুদকের অনুসন্ধান কর্মকর্তা উপ-পরিচালক নুরুল হুদা। গত ২৯ জানুয়ারি পাঠানো চিঠিতে এনায়েত উল্যাহ, তার স্ত্রী নার্গিস সামসাদ, মেয়ে চশমে জাহান নিশি এবং ছেলে রিদওয়ানুল আশিক নিলয়ের নামে কোন প্রকার যানবাহন রেজিস্ট্রেশন থাকলে তার তথ্যাদি প্রেরণ করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ খন্দকার এনায়েত উল্লাহ রাজধানীর আশেপাশে বিভিন্ন রুটে চলাচলকারী ১৫ হাজার বাস থেকে দৈনিক ১ কোটি ৬৫ লাখ টাকা চাঁদা আদায়সহ নামে-বেনামে শত শত কোটি টাকা অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন। এর আগে গত ১ অক্টোবর পরিবহন শ্রমিক নেতা ইসমাইল হোসেন বাচ্চু ‘বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক-শ্রমিক ঐক্য লীগ’ নামে একটি সংগঠনের ব্যানারে জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে দাবি করেন, ‘বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্লাহ প্রতিদিন ঢাকার পরিবহন খাত থেকে প্রায় এক কোটি ৬৫ লাখ টাকা চাঁদাবাজি করেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বর্তমান সরকার ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর ঢাকা পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হন খন্দকার এনায়েত উল্লাহ। এর আগে ৯৬ সালেও আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর তিনি পরিবহন মালিক সমিতির নেতা ছিলেন। মূলত ক্ষমতার পালা বদল হলেও পরিবহন মালিক সমিতি নিয়ন্ত্রণে নেন খন্দকার এনায়েত উল্লাহ। সরকার নির্ধারিত ৭০ টাকা মালিক সমিতির খরচের নামে চাঁদা উঠানোর কথা থাকলেও মূলত এর কয়েকগুণ বেশি চাঁদা তোলা হয়। অনেক মালিক ইচ্ছার বিরুদ্ধে চাঁদা পরিশোধে বাধ্য হন। পরিবহন সেক্টরে মূলত মালিক ও শ্রমিকদের কাছে জিম্মি যাত্রীরা। বিভিন্ন সময়ে সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার ফলে সরকারের পক্ষ থেকে আইন করা হয়। দুঘটনার প্রতিরোধে শাস্তির বিধান রেখে আইন করা হলে এ আইনের বিরোধিতা করে পরিবহন সেক্টরের শ্রমিকরা। কয়েক দফা গণপরিবহন বন্ধ করে দিয়ে বিভিন্ন সময়ে যেসব ধর্মঘট করা হয়েছে এর মূলে যারা ছিলেন তাদের মধ্যে মালিক সমিতির নেতা খন্দকার এনায়েত উল্লাহও একজন।

এছাড়া বর্তমানে বিভিন্ন গণপরিবহনে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের নেপথ্যেও তিনি। সরকারের পক্ষ থেকে সিটিং সার্ভিসের ঘোষণা না থাকলেও বিভিন্ন গণপরিবহনে সিটিং সার্ভিসের নামে নির্ধারিত ভাড়ার দ্বিগুণ, তিনগুণ আদায় হচ্ছে । অতিরিক্ত ভাড়ার প্রতিবাদ করলে বাস শ্রমিকদের হাতে যাত্রীদের লাঞ্ছিত হতে হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে এনায়েত উল্যাহ সাংবাদিকদের বলেন, দুদক চাইলে যে কারু বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদের অভিযোগ তদন্ত করতে পারে। তদন্ত হলে অভিযোগ সত্যি না মিথ্যা তা প্রমাণিত হবে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ষড়যন্ত্রমূলক দাবি করে তিনি বলেন, বছরখানেক আগে সংগঠনের কয়েকজনকে চাঁদাবাজির অভিযোগে বের করা দেয়া হয়েছিল। তারা আবার সংগঠনে ফিরতে চায়। তারাই বিভিন্ন সময় পত্র-পত্রিকায় অভিযোগ করে আসছিল। ওই অভিযোগ থেকে দুদকের অনুসন্ধান শুরু হতে পারে।