• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

সোমবার, ০৮ মার্চ ২০২১, ২৩ ফাল্গুন ১৪২৭ ২৩ রজব ১৪৪২

খালেদার নির্বাচনে অংশ নেয়ার এখতিয়ার আদালতের

কাদের

    সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
  • | ঢাকা , মঙ্গলবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০১৮

দুর্নীতির মামলার রায়ে খালেদা জিয়া কারাগারে থাকা অবস্থায় নির্বাচনে অংশ নিতে দেয়ার এখতিয়ার একমাত্র আদালতের, আওয়ামী লীগের নয় বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। সেটা আদালতের বিষয়, সরকারের বিষয় নয়। আদালতের বিষয় মাঠে টেনে আনা ঠিক হবে না বলে জানান তিনি। গতকাল সচিবালয়ের সড়ক ও সেতু মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা এ সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, আমার একটা প্রশ্ন- খালেদা জিয়ার মামলার রায়ের আগের দিন (৭ ফেব্রুয়ারি) দলের গঠনতন্ত্র থেকে ৭ নম্বর ধারা কেন তুলে নেয়া হলো? এটা আমার একটু জানার আগ্রহ আছে। কারণ, আমি যতদূর জানি, ৭ নম্বর ধারায় ছিল- কুখ্যাত, দুর্নীতিবাজ ও দেউলিয়ার বিরুদ্ধে দলের রক্ষাকবজ। হঠাৎ কেন এই ধারা তুলে নেয়া হলো? বিএনপি আসলে সব পারে। দলের কাউন্সিল ছাড়া গঠনতন্ত্র পরিবর্তন করতে পারে, যেটা আওয়ামী লীগ কল্পনাও করতে পারে না। তাহলে এই ৭ নম্বর ধারা পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে তারা কি দুর্নীতিবাজ, দেউলিয়া ও দ-িত ব্যক্তির পক্ষে লাইসেন্স দিয়ে দিল? এখন যে কোনও দুর্নীতিবাজ, দেউলিয়া ও দ-িত ব্যক্তি বিএনপির নেতা হতে পারবেন। দ-িত ও পলাতক ব্যক্তিকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান করতেই তড়িঘড়ি করে গঠনতন্ত্রের ৭ নম্বর ধারা বাদ দিয়েছে দলটি। এ বিষয়ে বারবার জানতে চাইলেও তারা অন্যদিকে চলে যায়। আমি ও দেশবাসী বিষয়টি পরিষ্কারভাবে জানতে চাই। তারা কি দুর্নীতিবাজ ও দ-িত ব্যক্তিদের নিয়ে কাজ করবে? তাদের গলার কাঁটা হবে দলের গঠনতন্ত্র থেকে ৭ নম্বর ধারা তুলে নেওয়া। গঠনতন্ত্র থেকে ৭ নম্বর ধারা তুলে নিয়ে বিএনপি নিজেই সংকটে পড়েছে।’

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদ বলেন, খালেদা জিয়ার রায়ের বিরুদ্ধে দলটি যেসব কর্মসূচি দিয়েছে তা কার বিরুদ্ধে? রায় দিয়েছেন আদালত, আর দলটি কর্মসূচি দিচ্ছে সরকারের বিরুদ্ধে। তার মানে, তারা আদালতের রায় মানে না। রায় যদি না মানে, তাহলে আবার আপিল করতে যাচ্ছে কেন? বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আগেই বলে দিয়েছেন, যেনতেন রায় হলে সেই রায় তারা মানবেন না।

বিএনপিকে ছাড়াই আগামী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে কিনা, সাংবাদিকদের এ প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘কারও জন্য কিছু আটকে থাকে না। ২০১৪ সালে ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পর বাংলাদেশের সংসদের স্পিকার ও একজন সংসদ সদস্য দুটি আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রধান হয়েছেন। ওই সংস্থা দুটির সম্মেলনও বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে বিভিন্ন দেশের স্পিকার ও সংসদ সদস্যরা অংশ নিয়েছিলেন। তারা তো কেউ প্রশ্ন তোলেননি? বা সেসব সংস্থার প্রধান হওয়া নিয়ে কেউ বিরোধিতা করেননি। তাই কারও জন্য নির্বাচনী ট্রেন অপেক্ষা করবে না। নির্বাচনী কার্যক্রম ও সরকারের কার্যক্রম যথানিয়মে চলবে। আমি সংবিধান অনুযায়ী চলবো। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সব দলের সংবিধান মেলে চলা উচিত। সংবিধান মেনে চলা শুধু সরকার বা আওয়ামী লীগের একার দায়িত্ব নয়। সম্প্রতি নির্বাচনগুলোও যেভাবে হয়েছে, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনও সেভাবেই হবে।

সড়কমন্ত্রী বলেন, আমরা বিএনপিকে উসকে দিচ্ছি না। তাদের ক্ষমতা নেই বলে সহিংস আন্দোলন করতে পারছে না। তবে তারা সুযোগ পেলেই সহিংস আন্দোলন শুরু করবে। ক্ষমতায় কুলায় না, তাই সহিংস হতে পারে না। সহিংস আন্দোলন করতে গেলে তারা জনগণের প্রতিরোধের মুখে পড়ে। সুযোগ পেলেই তারা মিলিট্যান্স ভায়োলেন্স করে। তারা মাঝে মাঝে রাইফেল ভাঙে, আসামি ছিনিয়ে নেয়, প্রিজনভ্যানে হামলা করে।