• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

রবিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৯, ২ অগ্রাহায়ণ ১৪২৬, ১৯ রবিউল আওয়াল ১৪৪১

ক্ষেতে আগুন দেয়া সেই কৃষকের ধান কেটে দিলেন শিক্ষার্থীরা

সংবাদ :
  • জেলা বার্তা পরিবেশক, টাঙ্গাইল

| ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১৬ মে ২০১৯

টাঙ্গাইল কালিহাতীতে পাকা ধানে আগুন দেয়া সেই কৃষক আব্দুল মালেক সিকদারে ধান কেটে দিয়েছেন বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। বুধবার দুপুরে জেলার কয়েকটি কলেজের ১৫ জন শিক্ষার্থীরা পাইকড়া ইউনিয়নের বানকিনা গ্রামে গিয়ে কৃষক আব্দুল মালেক সিকদারের ক্ষেত থেকে ধান কেটে দেন। শ্রমিক সঙ্কট, মূল্য বৃদ্ধি ও ধানের দাম কম হওয়ায় আব্দুল মালেক প্রতিকী প্রতিবাদ হিসেবে তার ধান ক্ষেতে আগুন দেন। এ খবর বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর দেশব্যাপী আলোচনার সৃষ্টি হয়।

ধান কাটতে যাওয়া শিক্ষার্থীরা জানান, এবার টাঙ্গাইল অঞ্চলে ধান কাটা শ্রমিকের মজুরি অনেক বেশি। অপরদিকে ধানের দাম কম। তাই কৃষকের অনেক কষ্ট। রাগে ক্ষোভে কৃষক মাালেক সিকদার নিজের জমিতে পাকা ধানে আগুন দিয়েছিলেন। তার প্রতি, তথা সমগ্র কৃষকের প্রতি প্রতিকী সমবেদনা এবং তাদের দুঃখে ভাগি হতে তারা ধান কেটে দিতে এসেছেন। ধান কাটতে আসা শিক্ষার্থীরা সরকারি করটিয়া সা’দত কলেজ, মাওলানা মোহাম্মদ আলী কলেজ, লায়ন নজরুল ইসলাম ডিগ্রী কলেজে লেখাপড়া করেন। লায়ন নজরুল ইসলাম ডিগ্রী কলেজের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ রাফি জানান, প্রথমে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এবং গণমাধ্যমে তারা ধান ক্ষেতে আগুন ধরিয়ে দেয়ার খবরটি জানতে পারেন। তাই মানবিক কারণে তারা মালেক সিকদারের ক্ষেতের ধান কেটে দিতে এসেছেন। মাওলানা মোহাম্মদ আলী কলেজের শিক্ষার্থী আল আমিন জানান, কৃষকের পাশে এসে কাজ করতে পেরে খুব ভালো লাগছে। কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে।

কৃষক আব্দুল মালেক সিকদার জানান, মনের দুঃখে তিনি পাকা ধানে আগুন দিয়েছিলেন। পরে এলাকার কৃষকরা আগুন নিভিয়ে ফেলে। শ্রমিকের উচ্চ মজুরি এবং ধানের দাম কম হওয়ার প্রতিবাদে তিনি ক্ষেতে আগুন দিয়েছিলেন। তবে শিক্ষার্থীরা তার পাশে এসে দাড়িয়েছে। এজন্য তিনি খুব আনন্দিত।

জানা যায়, গত রোববার (১২ মে) দুপুরে কালিহাতী উপজেলার পাইকড়া ইউনিয়নের বানকিনা গ্রামে আব্দুল মালেক সিকদার নামের এক কৃষক ধানের নিজের পাকা ধানে আগুন লাগিয়ে দেন। মালেক সিকদারের এই প্রতিবাদে বিষ্ময় প্রকাশ করেছেন এলাকার অধিকাংশ কৃষক। পাকা ধানে আগুন দেখে অনেকেই ছুটে আসেন। ওই কষক একই গ্রামের ওয়াজেদ আলী মাষ্টারের ছেলে।