• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২০, ০১ শ্রাবণ ১৪২৭, ২৪ জিলকদ ১৪৪১

ক্ষমা চাইলেন ফেরদৌস

সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

| ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১৮ এপ্রিল ২০১৯

image

ভারতের নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেয়ার বিতর্কের মধ্যদিয়ে মঙ্গলবার রাতে ভারত থেকে দেশে ফিরেছেন নায়ক ফেরদৌস। এ নিয়ে দুই দেশে শোরগোল পড়ে গেলেও একেবারে চুপ ছিলেন তিনি। তবে গতকাল সন্ধ্যায় তিনি একটি লিখিত বক্তব্য দেন। যেখানে ফেরদৌস স্পষ্ট ভাষায় বলেন ভারতের নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেয়াটা তার ভুল ছিল। চেয়েছেন ক্ষমাও।

বিবৃতিতে ফেরদৌস বলেন, ‘আমি চিত্রনায়ক ফেরদৌস। অভিনয় শিল্প আমার একমাত্র নেশা ও পেশা। অভিনয় শিল্পের মাধ্যমে বাংলা ভাষাভাষী সকলের মধ্যে মেলবন্ধন তৈরিতে সর্বদা কাজ করার চেষ্টা করেছি। আমার ভাবতে ভালো লাগে, আমি দুই বাংলায় সমানভাবে জনপ্রিয়। দুই বঙ্গের মানুষের সংস্কৃতি ও জীবনাচারে অনেক সাদৃশ্য রয়েছে। আবার ভারত বহু কৃষ্টি-কালচারের সমন্বয়ে সমৃদ্ধ একটি দেশ। ১৯৭১ সালে আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে প্রতিবেশী দেশ হিসেবে ভারতের অবদান আমরা কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করি। পাশাপাশি ভারতের জনগণের ত্যাগ-তিতিক্ষা আমাদের চিরঋণী করে রেখেছে। পশ্চিমবঙ্গের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের সঙ্গে আমার সম্পর্ক বহুদিনের। এখানকার সাংস্কৃতিক অঙ্গনের অনেক শিল্পী, সাহিত্যিক আমার বন্ধু। যাদের সঙ্গে আমি সবসময় হৃদ্যতা অনুভব করি। এজন্য বিভিন্ন সময় কারণে-অকারণে আমি এখানে চলে আসি।’

এর আগে দুই বাংলার জনপ্রিয় এই অভিনেতা বলছেন, নিজের ইচ্ছায় নয়, ভারতের এক প্রযোজকের অনুরোধেই তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের নির্বাচনী প্রচারে অংশ নিয়েছিলেন। গত

রোববার পশ্চিমবঙ্গের উত্তর দিনাজপুর জেলার রায়গঞ্জ লোকসভা কেন্দ্রের তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী কানাইয়ালাল আগরওয়ালের সমর্থনে প্রচারে অংশ নেন ফেরদৌস।

রোববার নির্বাচনী প্রচারের সরঞ্জামে সজ্জিত একটি হুডখোলা গাড়িতে ফেরদৌসের কয়েকটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। ছবিতে তার পাশে কলকাতার দুই অভিনয়শিল্পী পায়েল সরকার ও অঙ্কুশকেও দেখা যায়। বিদেশি শিল্পী ফেরদৌসের নির্বাচনী প্রচারে অংশ নেয়ার বিষয়ে আপত্তি তোলে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। ফেরদৌসের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা চেয়ে সোমবার নির্বাচন কর্মকর্তা আরিজ আফতাবের কাছে যান বিজেপি নেতা জয় প্রকাশ মজুমদার ও শিশির বাজোরিয়া।

অভিযোগ আমলে নিয়ে ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ফেরদৌসের ভিসা বাতিল করে এ অভিনেতাকে দেশ ছাড়ার নির্দেশের পাশাপাশি তাকে কালো তালিকাভুক্ত করেছে বলে জানিয়েছে হিন্দুস্তান টাইমস। এরপর মঙ্গলবার রাতের ফ্লাইটেই ঢাকায় ফেরেন এই অভিনেতা।

ভারতে নির্বাচনী প্রচারে যোগ দেয়ার কারণ হিসেবে তিনি জানান, ‘পরিচিত এক প্রযোজকের’ অনুরোধ রাখতে গিয়ে তিনি দলটির প্রচারে নেমেছিলেন। কোন রাজনৈতিক দলের প্রচারে অংশ নিতে তিনি ভারতে যাননি। বরং সপ্তাহখানেক আগে নির্মল চক্রবর্তীর ‘দত্তা’ নামের একটি চলচ্চিত্রের শুটিংয়ে অংশ নিতে কলকাতায় যান।

ফেরদৌস বলেন, বোলপুরে ছবিটির শুটিং চলছিল। আমার এক পরিচিত প্রডিউসারের অনুরোধে তৃণমূলের প্রচারে যোগ দিয়েছিলাম। আর কিছু না।

বাংলাদেশে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারজয়ী অভিনেতা ফেরদৌস খ্যাতি পেয়েছিলেন ১৯৯৮ সালে কলকাতার বাসু চ্যাটার্জির ‘হঠাৎ বৃষ্টি’’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করে। বাংলাদেশের মতো পশ্চিমবঙ্গেও জনপ্রিয় ফেরদৌস কলকাতায় এ পর্যন্ত ৫০টিরও বেশি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। ২০০১ সালে ‘মিট্টি’ নামে বলিউডের একটি চলচ্চিত্রেও অভিনয় করেন তিনি।