• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২০, ১৪ সফর ১৪৪২, ১৭ আশ্বিন ১৪২৭

পুলিশ হেফাজতে হত্যা

ক্ষতিপূরণ দিয়েছে এসআই জাহিদ

সংবাদ :
  • আদালত বার্তা পরিবেশক

| ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২০

রাজধানীর পল্লবী থানায় নিয়ে গাড়িচালক ইশতিয়াক হোসেন জনিকে পিটিয়ে হত্যার মামলায় যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি পুলিশের এসআই জাহিদুর রহামান ক্ষতিপূরণের টাকা দিয়েছে। এর আগে গতকাল ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে ক্ষতিপূরণের দুই লাখ টাকা মামলার বাদী পক্ষকে দেয়ার জন্য আবেদন করে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি জাহিদের পরিবার। পরে বিচারক কেএম ইমরুল কায়েশ রায় বাস্তবায়নের জন্য শাস্তির পাশাপাশি জরিমানার টাকা দেয়ার অনুমতি দেন।

এ বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী তাপস কুমার পাল সাংবাদিকদের জানান, পুলিশের এসআই জাহিদুর রহমান জরিমানার দুই লাখ টাকা আদালতের অনুমতি নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকে জামা দেন। এর আগে ৯ সেপ্টেম্বর একই আদালত জনি হত্যা মামলায় তিন পুলিশ ও দুই সোর্সকে কারাদণ্ড দেন আদালত। দেশে এই প্রথম নির্যাতন ও হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইনে করা কোন মামলার রায় হয়েছে এবং ক্ষতিপূরণ দিয়েছে। আইনটি সাত বছর আগে ২০১৩ সালে পাস হয়।

রায়ে বলা হয়েছে, যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডের পাশাপাশি অর্থদণ্ড, অনাদায়ে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। অর্থদণ্ড ছাড়াও নিহতের পরিবারকে দুই লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণের নির্দেশ দেয়া হয়। ক্ষতিপূরণের এই টাকা আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে দিতে বলা হয়।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, ২০১৪ সালের ৭ আগস্ট নিহত জনির ভাই রকি ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতে ‘নির্যাতন ও পুলিশ হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইনে’ মামলা করেন। মামলায় বলা, ওই বছর ৭ ফেব্রুয়ারি রাতে মিরপুর-১১ নম্বর সেক্টরে ইরানি ক্যাম্পে বিল্লাল নামে এক ব্যক্তির গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান গিয়েছিলেন জনি। মামলার বাদী রকি নিজেও ওই অনুষ্ঠানে ছিলেন। পুলিশের সোর্স সুমন মাতাল অবস্থায় ওই অনুষ্ঠানে মেয়েদের উত্ত্যক্ত করলে জনি তাকে মঞ্চ থেকে নামিয়ে দেন। তখন ঝগড়ার এক পর্যায়ে জনিকে ‘দেখে নেয়ার’ হুমকি দিয়ে চলে যান সুমন। আধা ঘণ্টা পর এসআই জাহিদসহ কয়েকজন পুলিশ এসে ওই অনুষ্ঠান থেকে জনিকে থানায় নিয়ে যান। সেখানে তার ওপর নির্যাতন চলানো হয়। পরে জনিকে পল্লবী থানার হাজতে নিয়ে এসআই জাহিদসহ অন্য আসামিরা হকিস্টিক, ক্রিকেটের স্ট্যাম্প দিয়ে মারধর করে এবং জনির বুকের ওপর উঠে লাফায়। জনি পানি চাইলে জাহিদ তার মুখে থুথু ছিটিয়ে দেন। নির্যাতনে জনি সংজ্ঞা হারিয়ে ফেললে তাকে ঢাকা ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতালে নেয়া হয়। পরে চিকিৎসকরা মৃত্যু ঘোষণা করেন।