• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২০, ২৩ আষাঢ় ১৪২৭, ১৫ জিলকদ ১৪৪১

আধুনিক প্রযুক্তিতে কাটা হচ্ছে বোরো ধান

কৃষকদের ভাগ্যের চাকা ঘুরে যাচ্ছে

সংবাদ :
  • রামপ্রসাদ সরকার দীপু, মানিকগঞ্জ

| ঢাকা , মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২০

image

মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার গোলাপনগর গ্রামে কম্বাইল হারভেস্টার মেশিন দিয়ে ধান কাটা হচ্ছে

ডিজিটাল প্রযুক্তিতে এগিয়ে যাচ্ছে দেশ। ধীরে ধীরে প্রযুক্তির কল্যাণে চাষাবাদে ব্যবহার করা হচ্ছে আধুনিক যন্ত্রপাতি। বর্তমান সরকার কৃষকদের ভতুর্কির মাধ্যমে উন্নত মানের যন্ত্রপাতি সরবরাহ করছে। সময়ের বিবর্তনে গ্রাম বাংলার কৃষকদের ঐতিহ্যবাহী লাঙ্গল- জোয়াল, মই আর হালের বলদ এখন বিলুপ্তির পথে। জমি চাষই নয়, জমিতে নিড়ানি, সার ও কীটনাশক ছিটানো, ধান কাটা, মাড়াই ও ধান শুকানোর কাজে ব্যবহার হচ্ছে অত্যাধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতি। ফলে এলাকার দরিদ্র কৃষকদের সব প্রকার ফসল চাষাবাদ করতে সময় কম লাগছে। আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহারের ফলে ধান, সরিষা, ভুট্টা, পাটসহ বিভিন্ন ফসলেরও উৎপাদন বেড়েছে কয়েকগুণ।

মানিকগঞ্জের ৭টি উপজেলাতে কৃষিতে নতুন প্রযুক্তিতে কম্বাইন হারভেস্টার দিয়ে ধান কাটা হচ্ছে। রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে আর প্রচ- ঠা-ার কষ্ট করে ক্ষেত খামারে কৃষকদের কাজ করতে হবে না। অতি সহজে স্বল্প সময়ে কম খরচে হাজার হাজার বিঘার বোরো ধান কাটতে পারবে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকরা। অনেক সাধারণ কৃষকদের ভাগ্যের চাঁকা পরিবর্তন হয়েছে। অনেক কৃষকের চোখেমুখে হাঁসির ঝিলিক দেখা দিয়েছে। পর্যায়ক্রমে কৃষিক্ষেত্রে ঘটছে বিপ্লব। যান্ত্রিক পদ্ধতিতে মানিকগঞ্জের ৭টি উপজেলাতে বোরো ধান কাটা মহাউৎসব শুরু হয়ে গেছে। বর্তমান সরকারের কৃষিক্ষেত্রে সাফল্যের বিভিন্ন দিক তুরে ধরে তৃনমূলে লোকজনের পাশাপাশি কৃষকরাও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্য দোয়া কামনা করেছেন।

মানিকগঞ্জের ৭টি উপজেলার ঘিওর, দৌলতপুর, শিবালয়, হরিরামপুর, সিংগাইর মানিকগঞ্জসদর ও সাটুরিয়া উপজেলাতে কৃষকরা গত কয়েক বছর বিভিন্ন ফসল আবাদ করে তারা কৃষকেরা ভালো মূল্য পেয়েছে। তবে আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করায় এখন নিড়ানি কিংবা আগাছা দমনে শ্রমিকদের প্রয়োজন কমে যাচ্ছে তারা অতি সহজে পাওয়ার টিলার দিয়ে জমি চাষাবাদ করছে। ধানকাটা, ধান বোপন করা, ভুট্টা মাড়াই করার কাজেও আধুনিক সব ধরনের যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হচ্ছে। ইতোপূর্বে জেলার ৭টি উপজেলাতে কম্পাইন হারভেস্টর (ধান কাটার মেশিন) ভুট্টা মারাই মেশিনসহ কৃষকদের মাঝে বিভিন্ন ধরনের যন্ত্রপাতি বিতরণ করা হয়েছে। ধান কাটার শ্রমিক সংকট মোকাবিলায় উপজেলা কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে অর্ধেক ভর্তুকির মাধ্যমে কৃষকদের ধান কাটা ও ধান মাড়াইয়ের আধুনিক মেশিন বিতরণ করা হয়েছে। এই মেশিনের মাধ্যমে কৃষকরা অতি সহজেই জমির ধান মাড়াই ও ধান বস্তাবন্দী করতে পারবেন। এতে তাদের সব কিছুই সাশ্রই হবে। সরকার কর্তৃক কৃষি যন্ত্রপাতিতে উন্নয়ন সহায়তা প্রদান কার্যক্রমের আওতায় মানিকগঞ্জের ৭টি উপজেলাতে ৬০ শতাংশ ভতুর্কির মাধমে ১৭টি কম্বাইন হারভেস্টার বিতরণ করা হয়েছে। প্রত্যন্ত গ্রাম্যাঞ্চলের দরিদ্র কৃষকেরা ধান কাটার কাজে ব্যবহার শুরু করেছে। তাদের চোখেমুখে দেখা দিয়েছে আনন্দের ঝিলিক।

উপজেলার গোলাপনগর গ্রামের শহিদুল ৪ বিঘা জমিতে ধান বোপন করেন। প্রতি বিঘা জমিতে কম্বাইন হারভেস্টার ২১শ’ টাকা দিয়ে অল্প সময়ে ধান কেটে ঘরে তুলে তার ভালো সাশ্রয় হয়েছে। গোলাপনগর গ্রামের সোনাই ১ বিঘা জমির ধান কাটতে মেশিন খরজের জন্য ২১শ’ ৫০ টাকা দিতে হয়। কাহেতারা গ্রামের কৃষক নূরু মেম্বর জানান, চলতি মৌসুমে তিনি ৫ বিঘা জমিতে ধান বোপন করেন। এবার জমিতে চাষাবাদে শ্রমিক সংকট হয় না। জমি চাষ থেকে শুরু করে ধান ঘরে তোলা পর্যন্ত সমকালীন যান্ত্রিক পদ্ধতিতে চাষাবাদে বিভিন্ন উন্নতমানের যন্ত্র ব্যবহার করা হচ্ছে। এখন আর কাঠের লাঙ্গল ব্যবহার হয় না। লাঙ্গলের জায়গায় এখন ব্যবহার হচ্ছে ট্রাক্টর। আগাছা দগন, বীজ বপন ও ফসল কাটতে সবচেয়ে বেশি টাকা ব্যয় ও শ্রমিক প্রয়োজন হতো। দ্বিগুণ টাকা দিয়ে শ্রমিক এনে জমিতে কাজ করতে হতো। কৃষাণ দিয়ে এক বিঘা জমির ধান কাটতে আগে প্রায় ৪ হাজার টাকা খরচ হতো। আর বর্তমানে রিপার দিয়ে কাটতে প্রতি বিঘায় খরচ হয় ৭শ’ থেকে ৮শ’ টাকা। সময় লাগে কম এবং টাকা খরচ হয় কম। ট্রাক্টর দিয়ে চাষাবাদ করতে প্রতি বিঘায় জমিতে ৫৫০ টাকা দিতে হয়। কম্বাইন হারভাস্টর দিয়ে ধান প্রতিবিঘা কাটতে মাত্র দিতে হয় দুই হাজার থেকে ২১শ’ টাকা। বীজ, সার, কীটনাশকে সাশ্রয় হয়েছে। ডিজিটাল প্রদ্ধতির ব্যবহারে আমাদের বহু সমস্যার সমাধান হচ্ছে। ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহারে এবং আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহারে মানিকগঞ্জের কৃষকরা এসব প্রদ্ধতি ব্যবহারে দিকে ঝুকে পরেছে এলাকার সাধারণ কৃষক। ফলে কৃষি ক্ষেত্রে ব্যাপক সফলতা আসতে শুরু করেছে বলে তিনি জানান।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (উদ্ভিদ সংরক্ষণ) মো. আশরাফউজ্জামান জানান, চলতি মৌসুমে উপজেলাতে মোট ৬ হাজার ৬শ’ ১৫ হে. জমিতে বোরো আবাদ এবং আউস ৩শ’ হে. জমিতে আবাদ করা হয়েছে। শ্রমিক সংকট মোকাবিলায় উপজেলায় কৃষকদের সুবিধার্থে এই ২টি কম্বাইন হারভেস্টার মেশিন কৃষকদের দেয়া হয়েছে। প্রতিটি কম্বাইন হারভেস্টারের দাম ২০ লাখ ৫০ হাজার টাকা । সরকার ১০ লাখ ২৫ হাজার টাকা ভর্তূকি দিচ্ছে। আর কৃষককে দিতে হচ্ছে বাকি ১০ লাখ ২৫ হাজার টাকা। তবে গত বছরের তুলনায় এবার বোরো আবাদ হয়েছে বেশি। পর্যায়ক্রমে আরও মেশিন বিতরণ করা হবে বলে তিনি জানান।