• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ৩০ মহররম ১৪৪২, ০২ আশ্বিন ১৪২৭

রংপুরে চাল কেনা কার্যক্রম শুরু

কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি ধান কেনা অনিশ্চিত

সংবাদ :
  • লিয়াকত আলী বাদল, রংপুর

| ঢাকা , সোমবার, ১৮ মে ২০২০

রংপুর জেলা খাদ্য বিভাগের অধীনে বোরো চাল কেনা শুরু হয়েছে। গতকাল দুপুরে রংপুর নগরীর রবার্টসনগঞ্জ এলাকায় অবস্থিত উপজেলা খাদ্য গুদামে আনুষ্ঠানিকভাবে চাল কেনা উদ্বোধন করেন রংপুরের জেলা প্রশাসক আসিব আহসান। কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ পচিালক সরোয়ারুল আলম, জেলা খাদ্য কর্মকর্তা আবদুল কাদেরসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন। তবে কৃষকের কাছ থেকে সরাসরি ধান কেনার বিষয়টি এখনও অনিশ্চিত হয়ে রয়েছে বলে খাদ্য বিভাগের দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে।

জেলা খাদ্য কর্মকর্তা আবদুল কাদের জানান, চলতি বোরো মৌসুমে রংপুর জেলায় ৩০ হাজার মেট্রিক টন চাল ও ২৪ হাজার মেট্রিক টন ধান কিনবে খাদ্য বিভাগ। ইতোমধ্যে রংপুর জেলার ৮শ’ ৪৪ জন মিলারের সঙ্গে চুক্তি করা হয়েছে। তারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে চাল সরবরাহ করবে। তিনি আরও জানান, এবার প্রতি কেজি চাল ৩৬ টাকা এবং ধান ২৬ টাকা কেজি দরে কেনা হবে। অন্যদিকে কবে নাগাদ ধান কেনা শুরু হচ্ছে জানতে চাইলে এখনও ধান কেনার বিষয়টি কৃষকদের তালিকা চূড়ান্ত হয়নি তবে ধান কেনা শুরু হবে বলে জানান তিনি। এদিকে রংপুর জেলার ৮ উপজেলা থেকে কৃষকের কাছ থেকে সরাসরি ২৪ হাজার মেট্রিক টন ধান কেনার সিদ্ধান্ত নেয়া হলেও এখনও কৃষকের তালিকা তৈার করা শুরু করেনি কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কৃষি কর্মকর্তা জানান, বোরো ধান উৎপাদনকারী কৃষকের প্রাথমিত তালিকা তৈরি করা হবে। সেই তালিকা প্রতিটি উপজেলা পরিষদে ধান ক্রয় কমিটির কাছ থেকে কৃষক বাছাই করে লটারির মাধ্যমে কৃষকের তালিকা চূড়ান্ত করা হবে। ফলে সব কার্যক্রম শেষ করতে দু,মাস সময় লাগতে পারে।

তবে মাঠ পর্যায়ে কয়েকজন কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, খাদ্য বিভাগ সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ধান কেনার কথা ঘোষণা করাটা একটা ছলনা, এটা কৃষকদের সঙ্গে প্রতারণা ছাড়া আর কিছুই নয়। জুন মাসের প্রথম দিকে রংপুর জেলায় ধানকাটা ও মাড়াই শেষ হবে। উপজেলা পর্যায়ে যে কমিটি রয়েছে, তারা প্রকৃত কৃষকদের তালিকা তৈরির নামে অবস্থাপন্ন কৃষকদের নাম তালিকা করে, ফলে প্রান্তিক কৃষকরা কখনও ধান বিক্রি করতে পারে না। চলতি মৌসুমে ধানকাটা ও মাড়াই করে ঘরে ধান তুলতে খরচ অন্য বারের চেয়ে বেশি হবে। এবার ধানের বাম্পার ফলন হলেও প্রান্তিক কৃষকের কোন লাভ নেই, তারা ধানের ন্যায্যমূল্য পায়না। এখন মৌসুমে ধানের কেজি ১৮ থেকে ২০ টাকা দরে হাট বাজারে বিক্রি হচ্ছে। ফলে সাধারণ কৃষকের অপেক্ষা করার সময় নেই দাদন ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চড়া সুদে ঋন নিয়ে ধান চাষ করেছে, তাদের শোধ করতে হবে ফলে ধান সরকারিভাবে কেনার আগেই আমাদের ধান বিক্রি করতে হবে। লাভ হবে বড় বড় কৃষক আর প্রভাবশালীদের। তারা বরং কম দামে ধান কিনে খাদ্য বিভাগের কাছে ধান বিক্রি করবে। ফলে সাধারণ কৃষকের কোন লাভ নেই।

এ ব্যাপারে রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ধান কেনা ৩০ এপ্রিল থেকে আগস্ট পর্যন্ত চলবে। এখন বোরো চাষিদের তালিকা তৈরি করে উপজেলা কমিটির কাছে দেয়া হবে, তারা লটারির মাধ্যমে কৃষক নির্বাচন করার পর ধান কেনা শুরু হবে । এসব কার্যক্রম চলমান আছে বলে জানান তিনি।

উল্লেখ্য চলতি বোরো মৌসুমে রংপুরে ১ লাখ ২৯ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ করা হয়। রেকর্ড পরিমাণ ৫ লাখ ৬০ হাজার মেট্রিক টন চাল উৎপাদিত হবে বলে কৃষি বিভাগ জানিয়েছে।