• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২০, ২৯ আষাঢ় ১৪২৭, ২১ জিলকদ ১৪৪১

কাস্টমস কর্মকর্তা পরিচয়ে কোটি টাকা আত্মসাৎ

গ্রেফতার ৬

সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

| ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ০৪ এপ্রিল ২০১৯

কাস্টমস অফিসার পরিচয়ে কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ৬ জনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। তারা হলেন- প্রধান কাস্টমস সহকারী কমিশনার (এসি) পরিচয় দেয়া নুরুল হক, শেখ আলম, ফিরোজ আলম, মোশারফ, মাসুদ রানা ও রেনু মিয়া ওরফে রনি। গতকাল দুপুরে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান র‌্যাব-৪-এর অধিনায়ক চৌধুরী মঞ্জুরুল কবির।

তিনি বলেন, মাঠ পর্যায়ে এই চক্রের দু/একজন সদস্য আছে। যারা বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে টার্গেট ভিকটিম ও গ্রাহক চিহ্নিত করে। তারপর মানুষ অনুযায়ী প্রতারণার কৌশল নির্ধারণ করে। চক্রটি শিক্ষিত বেকার তরুণ-তরুণীকে কাস্টমস অফিসার হিসেবে চাকরি দেয়ার লোভনীয় অফার দিত। এজন্য মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করতো চক্রটি। একপর্যায়ে প্রতারক চক্রের সদস্যরা পূর্বপরিকল্পনা মোতাবেক ভিকটিমদের বিশ্বাস অর্জনে নিরাপদ স্থানে কাস্টমস র‌্যাংক, ব্যাজ, ইউনিফর্ম পরিহিত, দামি ব্র্যান্ডের গাড়িতে সাক্ষাৎ করে। টাকার অঙ্ক নির্ধারণ হওয়ার পর নিয়োগপত্র প্রদানের জন্য তারিখ নির্ধারণ করে। এরপর সুকৌশলে প্রতারক চক্রটি ভিকটিমের নিয়োগপত্র হস্তান্তর করার তারিখের আগেই মোটা অঙ্কের টাকা পরিশোধ করতে বাধ্য করে। টাকা হাতিয়ে নিয়ে মোবাইল সিম বন্ধ করে আত্মগোপনে চলে যায় চক্রের সদস্যরা।

আসামিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাতে র‌্যাব অধিনায়ক চৌধুরী মঞ্জুরুল কবির আরও বলেন, এ চক্র আরেকটি কৌশল অবলম্বন করতো। তারা বিভিন্ন দোকানি ও ব্যবসায়ীদের কাস্টমসে জব্দ স্বর্ণের বার, বিস্কুট, জাপানি পার্টস, কটন সুতা, গোল্ডেন সুতা, স্বর্ণের চেন, মোবাইল, টিভি, ল্যাপটপ ইত্যাদি কম মূল্যে বিক্রির অফার দেন। মালামালগুলো সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে আমদানি করার কারণে কাস্টমস এগুলো জব্দ করেছে বলে তাদের প্রলোভন দেখান। লোভনীয় অফারে প্রলুব্ধ হয়ে ক্রয় করতে আগ্রহী হন ব্যবসায়ীরা। পরে চক্রটি সুকৌশলে মালামাল প্রদানের নির্ধারিত তারিখ ঠিক করে এবং মূল্যের একটি অংশ অগ্রিম হিসেবে আদায় করে, ভুয়া চুক্তিনামা তৈরি করে। এতেই লাখ লাখ টাকা পায় তারা। চক্রটি ১৫-১৬ বছর ধরে এমন প্রতারণা করে আসছে।

চক্রের প্রত্যেক সদস্য পাঁচ ভাগে বিভক্ত হয়ে তাদের কার্যক্রম করে। একজন সহকারী কমিশনার কাস্টমস্ র‌্যাংক ও ব্যাজ সম্বলিত সাদা ইউনিফর্ম পরিধান করে গাড়িতে মার্জিতভাবে বসে থাকেন। সে ক্ষেত্র বিশেষ টার্গেট ভিকটিম বা গ্রাহকদের সঙ্গে সহকারী কমিশনার পরিচয়ে কথা বলে। প্রতারক চক্রের একজন কাস্টমস্ সহকারী কমিশনারের সহকারী অফিসার নিজেকে সুপারিনটেনডেন্ট হিসেবে পরিচয় দেয়। সেই ভুয়া কাস্টমস্ সহকারী কমিশনারের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয় এবং টার্গেট ভিকটিম বা গ্রাহকদের সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের লিখিত ভুয়া চুক্তি করে। একজন নিজেকে কাস্টমস্ অফিস সহকারী পরিচিত পরিচয় দিয়ে প্রযোজ্য ক্ষেত্রে চাকরি, কাস্টমস্ কর্তৃক জব্দকৃত বিভিন্ন বৈদেশিক মালামাল স্বল্প মূল্যে ক্রয়ের লোভনীয় অফার দিয়ে প্রলুব্ধ করেন এবং তাদের ভুয়া ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য মোবাইল নম্বর দিয়ে আসে। কাস্টমসের ভুয়া ব্রোকার হিসেবে একটি গ্রুপ মাঠে সক্রীয় তাকে। এ চক্রই দেশের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে টার্গেটভিকটিম বা গ্রাহক চিহ্নিত করে। এক্ষেত্রে বিভিন্ন ছোট-বড় ব্যবসায়ী, ভাঙ্গারি ব্যবসায়ী, বিভিন্ন কোম্পানির ডিলার, শিক্ষিত বেকার যুবক, চাকরি প্রত্যাশীদের লক্ষ্য করে কার্যক্রম শুরু করে। টার্গেট ব্যক্তির যাবতীয় তথ্যাদি, মোবাইল নম্বর ভুয়া কাস্টমস্ অফিসকে জানায় এবং তাদের ট্রেড লাইসেন্স, টিন সার্টিফিকেট, জাতীয় পরিচয়পত্র, ছবি, প্রতিষ্ঠানের প্যাড, ভিজিটিং কার্ড সংগ্রহ করে ভুয়া কাস্টমস্ অফিস সহকারীকে প্রদান করে।