• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

সোমবার, ৩০ নভেম্বর ২০২০, ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৭, ১৪ রবিউস সানি ১৪৪২

করোনা যুদ্ধে থেমে নেই মোরেলগঞ্জে কমিউনিটি ক্লিনিকের চিকিৎসকরা

সংবাদ :
  • গনেশ পাল, মোরেলগঞ্জ (বাগেরহাট)

| ঢাকা , রোববার, ১০ মে ২০২০

প্রাণঘাতী করোনা যুদ্ধেও থেমে নেই বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে কমিউনিটি ক্লিনিকের কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) চিকিৎসকরা। ৫১টি কমিউনিটি ক্লিনিকের ৫০ জন চিকিৎসক নমুনা সংগ্রহে প্রতিনিয়ত কাজ করছেন।

গতকাল সরেজমিনে উপজেলার খাউলিয়া ইউনিয়নের অজোপাড়াগায়ের বানিয়াখালী একটি গ্রাম। ইট সলিংয়ের দেড় কিলোমিটার পায়ে হেটে পরবর্তীতে কাদামাটি। কিছুদূর হাট না হাঠতেই দেখা মিলছে বানিয়াখালী বড়পরী কমিউনিটি ক্লিনিক। জরার্জীণ পরিত্যক্ত একটি ভবন। পাশে রয়েছে অস্থায়ী ভিত্তিকে টিন শেটের কাঠের একটি ঘর। সেখানে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে এ গ্রামীণ জনপদের ১৮ হাজার মানুষের স্বাস্থ্যসেবা। কথা হয় দায়িত্বরত ওই কমিউনিটি ক্লিনিকের চিকিৎসক (সিএইচসিপি) মো. আবু বকর সিদ্দিকের সঙ্গে তিনি জানান, ২০০০ সালে এ কমিউনিটি ক্লিনিকটি স্থাপিত হয়। ২০১৪ সালে ভবনটির পলেস্তরা খসে খসে পড়ে মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। এর পরপরই সরকারিভাবে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয় এ ভবনটিকে।

সেবা নিতে আসা রোগীদের অন্যের বাড়িতে বসে সেবা দিতে হয়েছে। ২০১৮ সালে স্থানীয় জমিদাতা নূরুল ইসলাম হাওলাদার, সাবেক ইউপি সদস্য জাহাঙ্গীর হোসেনের সহযোগিতা ও সিএইচসিপি’র নিজ বেতনের টাকায় একটি টিন শেট ঘর তুলে চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন আবু বকর। করোনার মধ্যেও প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী একজন সেবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছি। তিনি শুধু নয় এ উপজেলায় ৫১ কমিউনিটি ক্লিনিকের সিএইচসিপি’রা ইউনিয়ন পর্যায়ের গ্রামগুলোতে করোনা সচেতনতায় লকডাউন নমুনা সংগ্রহেও ঝুঁকি নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন বলে তিনি জানান। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ৩টি ওয়ার্ডের সমন্বয়ে বড়পরী, ধানসাগর, ছোট পরী ও বানিয়াখালী গ্রামে ১৮ হাজার মানুষের প্রাথমিক চিকিৎসার ক্ষেত্রে একমাত্র ভরসা এ কমিউিনিটি ক্লিনিক। কেন্দ্রটিতে প্রতিনিয়ত ৫০/৬০ জন রোগী চিকিৎসা নিতে আসে। এখানে রয়েছে এফডব্লিউ আসমা আক্তার জান্নাতি তিনি সপ্তাহে ২ দিন আসে, স্বাস্থ্য সহকারী পদটি ২০১৩ সাল থেকে শূন্য রয়েছে। শুধুমাত্র একজন সিএইচসিপি দ্বারা প্রতিনিয়ত মিলছে চিকিৎসা সেবা।

কমিউনিটি ক্লিনিকের কিশোরী সদস্য আবু নাইম ও এমদাদুল খান বলেন, দীর্ঘদিনের এ ঝুঁকিপূর্ণ পরিত্যক্ত ভবনটি নতুন করে নির্মাণের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে জোর দাবি জানান।

এ সর্ম্পকে উপজেলা স্বাস্থ্য পঃ পঃ কর্মকর্তা ডা. কামাল হোসেন মুফতি বলেন, উপজেলার ১৬টি ইউনিয়নের ৫১টি কমিউনিটি ক্লিনিকের সিএইচ সিপিদের প্রশিক্ষণ দিয়ে নমুনা সংগ্রহের জন্য নিজ নিজ গ্রামে টিম ভিত্তিক দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে হোগলাবুনিয়া ও চিংড়াখালীতে ১৪ জনের নমুনা সংগ্রহ করছেন মেডিকেল অফিসারের সমন্বয়ে সিএইচসিপিরা। পরিত্যক্ত কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোর সর্ম্পকে বলেন, ২০টি অতিব ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের তালিকা করে ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। গত বছরে ১৪টি নির্মাণাধীন কমিউনিটি ক্লিনিকের কাজ চলছে।