• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২০, ২৩ আষাঢ় ১৪২৭, ১৫ জিলকদ ১৪৪১

করোনা বিপর্যয়ে অসহায়দের পাশে তরুণ নতুন জনপ্রতিনিধিরা

    সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
  • | ঢাকা , মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২০

image

মহামারী করোনায় খাদ্য ও চিকিৎসাসহ নানা সমস্যায় রয়েছেন নিন্ম ও মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষরা। সরকারের পক্ষ থেকে ত্রাণ সহায়তা অব্যাহত থাকলেও জনসংখ্যার পরিমাণ বিবেচনায় তা যথেষ্ঠ নয়। তাই ব্যক্তি উদ্যোগে অনেক জনপ্রতিনিধিই এসব অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। এক্ষেত্রে এগিয়ে আছেন সরকারি দলের তরুণ নেতারা।

করোনাভাইরাস ও লকডাউনের প্রভাবে খাদ্য ও চিকিৎসা সংকটে দিশেহারা মানুষের পাশে জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক দলগুলো সেভাবে দাঁড়াতে পারেননি। বরং অনেক জনপ্রনিধি সরকারি ত্রাণের টাকা ও চাল আত্মসাতের ঘটনায় দেশজুড়ে আলোচিত হয়েছে। অনেকেই পাড়ি জমিয়েছেন বিদেশে। তবে এর মধ্যেও ব্যতিক্রমি কার্যক্রমে আলোচিত হয়েছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন মন্ত্রী-এমপি। এরই মধ্যে জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও এসব তরুণ নেতাদের প্রসংশাও করেছেন।

তাদের মধ্যে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী তাজুল ইসলাম, ডিএনসিসি মেয়র আতিকুল ইসলাম, সংসদ সদস্য মাশরাফি বিন মর্তুজা, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল, পানিসম্পদ উপমন্ত্রী এনামুল হক শামীম, সংসদ সদস্য মির্জা আজম ও শেখ তন্ময় উল্লেখযোগ্য।

মো. তাজুল ইসলাম : স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই তৃণমূল জনপ্রতিনিধিদের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার আওতায় আনতে বেশ তৎপর রয়েছেন মো. তাজুল ইসলাম। করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে নগদ অর্থ সহায়তা, হতদরিদ্র জনসাধারণের জন্য বরাদ্দকৃত ত্রাণ আত্মসাৎ এবং স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে উপকারভোগীদের তালিকা প্রণয়নে অনিয়মসহ বিভিন্ন অভিযোগে এ পর্যন্ত প্রায় একশ জন জনপ্রতিনিধিকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছেন তিনি। পুরো বিষয়টি তদারকি করতে করোনা মহামারীর সময় সাধারণ ছুটিসহ শুক্রবার-শনিবারেও অফিস করেছেন। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি) ও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরসহ অধীন সংস্থাগুলোকে ত্রাণ বিতরণ এবং সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর তাগিদ দেন। এসব কার্যক্রম সরেজমিন পরিদর্শনও করেন। তার নির্বাচনী এলাকা কুমিল্লার লাকসাম ও মনোহরগঞ্জ উপজেলার ৫০ হাজার পরিবারকে নিজ অর্থে ত্রাণ সহায়তা দিয়েছেন। এলাকার ৫ হাজার অস্বচ্ছল পরিবারের মধ্যে বিকাশের মাধ্যমে ১ হাজার করে মোট ৫০ লাখ টাকা বিতরণ করেছেন। তাছাড়া নিজ এলাকা ও মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী, পুলিশ, সাংবাদিক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে পিপিইসহ প্রায় ২০ লাখ টাকার সুরক্ষাসামগ্রী বিতরণ করেছেন।

আতিকুল ইসলাম

দেশে যখন করোনাভাইরাস প্রথম শনাক্ত হয় তখনও দায়িত্ব গ্রহণ করেননি ঢাকার নবনির্বাচিত দুই মেয়র। তবে করোনাভাইরাস শুরুর দিকে ঢাকার মানুষ যখন দিশেহারা ঠিক সে সময় মেয়রের চেয়ারে না থেকেও নাগরিকদের কাছে ছুটে গেছেন আতিকুল ইসলাম। প্রথম লকডাউনের সময় তার ব্যক্তিগত উদ্যোগে কর্মহীন ৬৭ হাজার পরিবারের কাছে খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দিয়ে প্রসংশিত হয়েছেন। তাছাড়া ডিএনসিসির পক্ষ থেকে পাঁচ লক্ষাধিক পরিবারকে খাদ্য সহায়তা দিয়েছেন।

মাশরাফি বিন মর্তুজা

বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা খুব অল্প সময়ে ক্রিকেট তারকা থেকে রাজনৈতিক অঙ্গনে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন। সরকারদলীয় সংসদ সদস্য হয়ে পাক্কা রাজনীতিবিদরা যা করতে পারেননি তাই করে দেখিয়েছেন রাজনীতিতে নবীন মাশরাফি। বিশেষ করে করোনাকালে নড়াইল-২ আসনের মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে তার পদক্ষেপ-ভূমিকা সর্বমহলে প্রসংশিত হয়েছে। সব শেষে মানুষের সেবা করতে গিয়ে নিজেই করোনা আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন। নিজ এলাকার দরিদ্র মানুষের খাদ্য, চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে নিরলসভাবে কাজ করেছেন মাশরাফি। করোনাকালে সারাদেশে যখন বিনা চিকিৎসায় রোগীরা ফিরে যাচ্ছেন তখন তিনি কাপ্তান নামের একটি ভ্রাম্যমাণ মেডিকেল টিম গঠন করেছেন। এর মাধ্যমে প্রত্যন্ত অঞ্চলে চিকিৎসাসেবা দেয়া হচ্ছে।

একেএম এনামুল হক শামীম

গোটা দেশ যখন অবরুদ্ধ, আতঙ্কিত, তখন জীবনের সর্বোচ্চ ঝুঁকি নিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন পানিসম্পদ উপমন্ত্রী ও শরীয়তপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য একেএম এনামুল হক শামীম। করোনার কঠিন পরিস্থিতিতে প্রতি সপ্তাহে অন্তত দুদিন নিজের নির্বাচনী এলাকায় অবস্থান করছেন একেএম এনামুল হক শামীম। নিজস্ব তহবিল থেকে দুটি চিকিৎসক টিম গঠন করে ঘরবন্দী মানুষকে বাড়িতে গিয়েই চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করেছেন। ভ্রাম্যমাণ চিকিৎসক দলের কাছে রোগীর জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধ না থাকলে রোগীদের ওষুধ কেনার জন্য নগদ টাকাও দিয়েছে।

শেখ তন্ময়

করোনার কঠিন পরিস্থিতিতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে নজর কেড়েছেন বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ তন্ময়। ব্যক্তিগত সহকারীর করোনা আক্রান্ত হওয়ায় চিকিৎসকের পরামর্শে আইসোলেশনে রয়েছেন তিনি। করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরু থকে অসহায় মানুষের মধ্যে নিয়মিত খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেছেন। হটলাইনের মাধ্যমে ডাক্তারের কাছে রোগী নয়, রোগীর কাছে ডাক্তার- স্লোগানে নিজের সংসদীয় আসনে চিকিৎসাসেবা চালু করেন তিনি, যা সারাদেশের নজর কাড়ে। গর্ভবতী মায়েদের ঘরে পুষ্টিকর খাবার, ভবিষ্যতের কাছে বর্তমানের অঙ্গীকার এই স্লোগানে এক হাজার ৭০৪ জন সন্তানসম্ভবা মায়ের জন্য পুষ্টিকর খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেন। আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য কর্নেল (অব.) ফারুক খান সংবাদকে বলেন, তরুণ অনেক জনপ্রতিনিধিই ভালো কাজ করছেন। রাজনীতি যেহেতু মানুষের জন্য তাই মানুষই তাদের ভূমিকা মূল্যায়ন করবে। করোনার এ সংকটকালে যারা মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন, গণমানুষের দল হিসেবে আওয়ামী লীগ তাদের কথা মনে রাখবে এবং অবশ্যই মূল্যায়ন করবে।