• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২০, ১৩ সফর ১৪৪২, ১৬ আশ্বিন ১৪২৭

করোনা আক্রান্ত সাংবাদিকের বাসায় বাড়িওয়ালার তালা

    সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
  • | ঢাকা , সোমবার, ০৪ মে ২০২০

রাজধানীর বাসাবোতে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত এক সাংবাদিকের বাসার দরজার বাইরে থেকে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন বাড়ির মালিক। আর বাড়িটির মূল গেটে তালা দিয়ে আটকে দিয়েছেন এলাকার মানুষজন। গতকাল বাসাবোর রাজারবাগের বাগপাড়ার দরবার গলির ২ নম্বর বাসায় এ ঘটনা ঘটে। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ওই সাংবাদিক বেসরকারি এফএম রেডিও স্টেশন ‘রেডিও আমার’র রিপোর্টার। রিপোর্টিংয়ের পাশাপাশি তিনি উপস্থাপনাও করেন।

ওই সাংবাদিকের শরীরে গত ২ মে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। ২৭ এপ্রিল পরীক্ষার জন্য তিনি মুগদা হাসপাতালে নমুনা দিয়ে আসেন। করোনা পজিটিভ আসার পর থেকেই বাড়ির মালিক ও মহল্লার বাসিন্দারা বিভিন্ন ধরনের ঝামেলা করতে থাকেন।

এ বিষয়ে করোনা আক্রান্ত ওই সাংবাদিক বলেন, ‘গলির মানুষ আমাদের বাসার মূল গেটে তালা মেরে দিয়েছে। আর বাড়ির মানুষ আমাদের ঘরের বাইরে থেকে তালা মেরে দিয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘অফিসে থাকতেই তিনি করোনা উপসর্গে ভুগতে থাকেন। মুগদা হাসপাতালে স্যাম্পল দিয়ে টেস্ট করান। কিন্তু তারা কোন রিপোর্ট জানায় নি। যে কারণে অফিসেই অবস্থান করেছিলেন। আইইডিসিআর থেকে জানানো হয়, তিনি করোনায় আক্রান্ত। বিষয়টি জানার পর গত শনিবার বাসায় ফিরে আলাদা রুমে থাকতে শুরু করেন। কিন্তু ওয়াশ রুম একটা হওয়ায় ঝামেলায় পড়েন। কারণ বাসায় তার মা ভাই-বোন থাকেন তার সঙ্গে। বাথরুম ব্যবহার করে ¯েপ্র করেন।

তিনি বলেন, ‘একই গলিতে পাশেই আরেকটি বাসায় তার বোন-দুলাভাই থাকেন। তারা লকডাউনে বাড়ি গেছেন। সুরক্ষার জন্য তাদের বাসায় মা, বোন ও ভাইকে পাঠিছেলেন। কিন্তু তার করোনা আক্রান্তের খবরে আরেক ভাইয়ের বাসায় থাকতে দিচ্ছে না বাসার মালিক ও স্থানীয়রা।’

তিনি বলেন, তিনি মানসিকভাবে সুস্থ হওয়ার চেষ্টা করলেও এসব আচরণের কারণে পারছেন না। বাড়ির মালিকের সঙ্গে রাতে ফয়সালা হওয়ার পরেও এখন ঝামেলা করছে। তারা বলছে, তার মা ভাই বোনদের টেস্ট না করিয়ে নাকি ওই বাসায় ঢুকতে দেবে না। এখন টেস্ট করাতে তো সময় লাগে। আপাতত তাদের আমার থেকে দূরে থাকার দরকার। তারা তো ওই বাসায় কোয়ারেন্টিন মেইনটেইন করবে। এ বিষয়ে স্থানীয় কাউন্সিলর, সবুজবাগ থানা পুলিশকে বলেও সমাধান মেলেনি বলে জানান তিনি।

এ বিষয়ে সবুজবাগ থানার ওসি মো. মাহবুব আলম বলেন, ‘আমরা অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগ পাওয়া মাত্র ওই ঠিকানায় পুলিশ ফোর্স পাঠানো হয়েছে। আশা করছি, সমস্যার সমাধান হবে।