• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

সোমবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৮ আশ্বিন ১৪২৬, ২৩ মহররম ১৪৪১

ভিডিও কনফারেন্সে প্রধানমন্ত্রী

কমিউনিটি পুলিশিংয়ে গুরুত্ব দিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের প্রতি নির্দেশ

চার বিদ্যুৎকেন্দ্র উদ্বোধন

| ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯

image

গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী ‘কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের’ বাণিজ্যিক কার্যক্রম উদ্বোধন করেন -সংবাদ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কমিউনিটি পুলিশিং-এর ওপর গুরুত্ব দিতে পুুলিশের ঊর্ধ্বতন কতৃর্পক্ষের প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন।

গতকাল শেখ হাসিনা পুলিশের দীর্ঘদিনের দাবি ‘কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড’র বাণিজ্যিক কার্যক্রম উদ্বোধনকালে একথা বলেন।

গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী ব্যাংকটির উদ্বোধন করেন। বাসস।

বাংলাদেশ পুলিশ ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের মালিকানাধীন এই ব্যাংকটির লক্ষ্য বিভিন্ন কমিউনিটির সদস্যদের কাছে পৌঁছানো এবং উদ্ভাবনী ব্যাংকিং সেবা প্রদান করা। সরকার প্রধান বলেন, অত্যন্ত ঘনবসতিপূর্ণ দেশ হওয়ায় জন প্রতি পুলিশের অনুপাত বাড়াতে কমিউনিটি পুলিশিংকে যদি জোরদার করতে পারি তাহলে আরও বেশি মানুষের শান্তি ও নিরাপত্তা আমরা নিশ্চিত করতে সক্ষম হব। তিনি বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে কিছু বাধা আসে। সেক্ষেত্রে প্রাকৃতিক দুর্যোগ যেমন আসে মনুষ্য সৃষ্ট দুর্যোগ ও আসে। আর এসব দুর্যোগ আমরা মোকাবিলা করি, যেখানে পুলিশ বাহিনী বিশেষ ভূমিকা পালন করে। প্রধানমন্ত্রী উদাহারণ দেন, এই দুর্যোগ মাঝে মাঝে এমন আত্মঘাতী হয়, যা দেশের জন্য ক্ষতির সৃষ্টি করে। এছাড়া সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদতো রয়েছেই যেখানে আমাদের পুলিশ বাহিনী বিশেষ ভূমিকা নিচ্ছে এবং মানুষের জীবনের শান্তি-নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে।

তিনি এ সময় আন্দোলনের নামে ২০১৩-১৪ এবং ১৫ সালে বিএপি-জামায়াতের সন্ত্রাস এবং গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিসহ বিভিন্ন স্থানে সন্ত্রাস ও জঙ্গি দমনে পুলিশ এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ভূমিকার প্রশংসা করেন।

আগাম জলবায়ু অভিযোজন সমাধানের উপায় উদ্ভাবনে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশ্ব নেতারা, সরকার ও ব্যবসায়ীদের আগাম জলবায়ু অভিযোজন সমাধানের উপায় উদ্ভাবনের জন্য জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, কোন জাতির একার পক্ষে এটি করা সম্ভব নয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ বিশ্বব্যাপী গৃহীত বেশ কিছু উদ্যোগের আবাসস্থল, যা জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেয়ার লড়াইয়ে সম্মিলিতভাবে আমাদের টিকে থাকার জন্য একটি দিক নির্দেশনা দিয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মঙ্গলবার ঢাকা থেকে এক ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ‘গ্লোবাল কমিশন অন অ্যাডাপটেশন’এর নেতার সঙ্গে যোগ দিয়ে একথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘কমিশনের একটি নতুন গবেষণা প্রতিবেদনে দেখা গেছে যে, যদিও বাংলাদেশ অনেক পদক্ষেপ নিয়েছে, তথাপি অনেক কাজ এখনও বাকি রয়ে গেছে।’

‘যে কারণে আমি ঢাকায় গ্লোবাল সেন্টার অন অ্যাডাপটেশনের নতুন কার্যালয় খুলতে দেখে অত্যন্ত খুশি হয়েছি। এই নতুন অফিস বাংলাদেশকে জলবায়ু পরিবর্তনের নতুন প্রচেষ্টা এবং ধারণার সঙ্গে খাপ খাওয়াতে এবং সমন্বয় সাধন করতে সহায়তা করবে এবং আমরা এখন পর্যন্ত যতটা সফলভাবে এই পথ অতিক্রম করেছি তা থেকে শিক্ষা লাভ করতে এটি সারা বিশ্বের জন্য ওয়েব পোর্টাল হিসেবে কাজ করবে,’ যোগ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সর্বোপরি, কোন জাতিই এটি একা করতে পারে না। এক্ষেত্রে আমাদের সমগ্র বিশ্বকে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে।’

কমিশনের নেতৃত্ব প্রদান করছেন জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব বান কি-মুন। বিল এবং মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশনের কো-চেয়ার প্রযুক্তিবিদ বিল গেটস এবং বিশ্ব ব্যাংকের সিইও ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভাও কমিশনে রয়েছেন।

এ বছর জুলাই মাসে ‘গ্লোবাল কমিশন অন অ্যাডাপটেশন’র প্রথম উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের আয়োজন করেছিল বাংলাদেশ। বিশ্ব বরেণ্য ব্যক্তিবর্গ তথা রাজনিতিবিদ, ব্যবসায়ী এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের নিয়ে ঢাকার হোটেল ইন্টার কন্টিনেন্টালে দু’দিন ব্যাপী এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বান কি-মুন এবং ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা এই বৈঠকে যোগদানের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমন্ত্রণে ঢাকা সফর করেন।

সফরকালীন তারা স্বচক্ষে প্রত্যক্ষ করেন, কি করে বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে পারছে। তাদের সেই সফরের ফলেই গ্লোবাল কমিশন অন অ্যাডাপটেশনের সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে ঢাকায় ‘গ্লোবাল সেন্টার অন অ্যাডাপটেশন’ এর নতুন অফিস খোলা হচ্ছে।

গ্লোবাল কমিশন অন অ্যাডাপটেশন রিপোর্ট বিশ্বের ১০টিরও অধিক রাজধানী ও নগরী থেকে প্রকাশ করা হয়েছে, যার মূল সেøাগান হচ্ছে ‘অ্যাডাপ্ট আওয়ার ওয়ার্ল্ড।’

রিপোর্টে বলা হয়েছে, জলবায়ুর প্রভাব ক্রমান্বয়ে সমগ্র বিশ্বের জনগণের জন্য জরুরি বাস্তবতা হিসেবে দেখা দিয়েছে, কোন রকম ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে ২০৩০ সাল নাগাদ জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যু উন্নয়নশীল বিশ্বের প্রায় ১০ কোটি জনগণকে দরিদ্র সীমার নীচে ঠেলে দেবে।