• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

শুক্রবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২০, ৮ ফল্গুন ১৪২৬, ২৬ জমাদিউল সানি ১৪৪১

কন্যা হত্যার বিচার চাওয়ায় বাবাকে হুমকি

সংবাদ :
  • প্রতিনিধি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া

| ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১১ এপ্রিল ২০১৯

একমাত্র মেয়ে হত্যার বিচার চাওয়া থেকে সরে আসতে প্রাণনাশের হুমকি দেয়া হচ্ছে ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধ মফিজুল হককে। নিজের জীবন শঙ্কার কথা জানাতে আর কন্যার হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে নিহত তূর্ণার ছবি সম্বলিত একটি ব্যানার গলায় ঝুলিয়ে গতকাল দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবের সামনে একাই অবস্থান নেন এই বৃদ্ধ। এ সময় মৃত্যুর আগে মেয়ে হত্যার বিচার দেখে যাওয়ার আকুতি জানান এই অসহায় বাবা।

জানা গেছে, ২০১২ সালের জানুয়ারি মাসে জেলার আশুগঞ্জ উপজেলার চরচারতলা গ্রামের আমিরুল হকের ছেলে আরিফুল হক রনির সঙ্গে পারিবারিকভাবে তার চাচাতো বোন কামরুন নাহার তূর্ণার বিয়ে হয়। তাদের এক মেয়ে সন্তানও রয়েছে। বিয়ের পরই তাদের মধ্যে পারিবারিক বিষয় নিয়ে কলহ দেখা দেয়। কলহের জেরে ২০১৭ সালের ২৪ এপ্রিল তূর্ণাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে রনি। হত্যার সময় তূর্ণা তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। হত্যার পর তূর্ণার মরদেহ বাড়ির একটি পরিত্যক্ত পানির ট্যাঙ্কে লুকিয়ে রাখা হয়। এ ঘটনায় তূর্ণার স্বামী রনিকে আসামি করে ২৫ এপ্রিল আশুগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন মফিজুল হক। পরে ওই বছরের ২১ মে আদালতে আত্মসমর্পণ করলে বিচারক রনিকে কারগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে জামিনে কারামুক্ত হন রনি। ইতোমধ্যে আদালতে হত্যা মামলার অভিযোগপত্র দাখিল করেছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। এরপর থেকেই মামলা তুলে নিয়ে আপস করার জন্য তূর্ণার বাবা মফিজুল হককে নানাভাবে হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন রনি ও তার পরিবারের লোকজন।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে মফিজুল হক সাংবাদিকদের বলেন, আসামি পক্ষের লোকজন আমাকে বারবার হুমকি দিচ্ছে আপোস না করলে আমাকে মেরে ফেলবে। আমার তো কোস ওয়ারিশ নেই, তাই আমাকে হত্যা করলে আমার বিচার চাওয়ারও কেউ নাই। সেজন্য আমাকে এলাকার সরদারদের দিয়ে চাপ দিচ্ছে মামলা তুলে নিতে। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আলমগীর হোসেন বলেন, মফিজুল হক তাকে হুমকি দেয়ার কোন অভিযোগ থানায় করেছেন কিনাÑ সেটি আমার জানা নেই। তবে অভিযোগ করে থাকলে বিষয়টি তদন্ত করে আদালতকে জানানো হবে।