• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

মঙ্গলবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২০, ১১ ফল্গুন ১৪২৬, ২৯ জমাদিউল সানি ১৪৪১

তিন বছর পর

কদমতলীর সূত্রহীন রাসেল হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন

মাদকসম্রাজ্ঞী পিংকি ও স্বামী জহিরুল গ্রেফতার

সংবাদ :
  • বাকী বিল্লাহ

| ঢাকা , সোমবার, ১৩ মে ২০১৯

রাজধানীর কদমতলী এলাকায় ২০১৫ সালের সংঘটিত রাসেল হত্যাকান্ডে জড়িত মাদক বিক্রেতা পিংকি আক্তার ও তার স্বামী জহিরুল হক সানুকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গত শনিবার রাতে পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) চট্টগ্রামের ইপিজেড এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করে। হত্যাকান্ডের ৩ বছর তাদের গ্রেফতার করা হলো। তাদের পিবিআই হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

পিবিআইয়ের বিশেষ পুলিশ সুপার আবুল কালাম আজাদ জানান, নিহত রাসেল (২২) খুলনায় গ্রামের বাড়িতে কৃষিকাজ করত। ২০১৫ সালে ২৭ সেপ্টেম্বর মায়ের কাছ থেকে ৫ টাকা খরচ নিয়ে চাকরির সন্ধানে ঢাকায় আসেন। ২০১৫ সালে ১১ অক্টোবর রাত ১১টার দিকে রাসেলের মা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে জানতে পারেন রাসেল ঢাকায় ছুরিকাঘাতে আহত হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে মারা গেছেন। পরে রাসেলের মা ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল মর্গে গিয়ে ছেলের লাশ শনাক্ত করেন।

স্থানীয়ভাবে জানা যায়, ২০১৫ সালে ১০ অক্টোবর রাত ১১টার দিকে কেরানীগঞ্জের কদমতলী বড়ইতলা মোড়ে কে বা কারা রাসেলকে ছুরি দিয়ে আঘাত করে। তার ডান পাঁজরে পিঠের দিকে আঘাত লাগে। আশপাশের লোকজন তারে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় সে মারা যায়। কিন্তু কি কারণে এবং কারা রাসেলকে হত্যা করল সে সম্পর্কে পুলিশ কোন তথ্য পাইনি। এলাকায় লোকমুখে জানাজানি হয়, রাসেল ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হয়ে মারা গেছে।

এরপর রাসেলের মা রাশিলা বেগম বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে কদমতলী থানায় মামলা করেন। (নং-১৯ তারিখ-১৩/১০/২০১৫)। কদমতলী থানা পুলিশ তদন্ত শেষে কে বা কারা ঘটনার সঙ্গে জড়িত তা উদঘাটন করা সম্ভব হয়নি জানিয়ে মামলার চূড়ান্ত রিপোর্ট (নং-৫৯ তারিখ-১৬/০৯/২০১৭ খ্রিঃ ধারা-৩০২/৩৪ পেনাল কোড) দাখিল করে।

এরপর চূড়ান্ত রিপোর্টের বিরুদ্ধে রাসেলে মা আদালতে না-রাজির আবেদন করেন। পরে আদালতের আদেশে পিবিআই, ঢাকা মেট্রো মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করে। পিবিআই হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটনের জন্য রাসেলের গ্রামের বাড়ি খুলনা জেলার রূপসা থানা এলাকাসহ ঢাকা মহানগরীর কদমতলী এলাকায় ব্যাপক তদন্ত করেন। এরপরই পিবিআই হত্যার রহস্য উদঘাটন করতে সক্ষম হয়। পিবিআই জানতে পারে, পিচ্চি সজল, মো. হোসেন বাবু ওরফে হুন্ডা বাবু, পারভেজ ও সজল শ্যামপুর এলাকায় নানা ধরনের অপকর্মের সঙ্গে জড়িত। তারা কদমতলী, শ্যামপুর ও দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা এলাকায় মাদক ও অস্ত্র ব্যবসায়ী। তারা ঘন ঘন তাদের ঠিকানা পরিবর্তন করে। মাদক বিক্রেতা পিংকির সঙ্গে পারভেজের এলাকার মাদক ব্যবসার প্রভাব বিস্তার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। বিরোধের জের ধরে মাদক বিক্রেতা পিংকি পারভেজকে খুন করার জন্য আসামি বাবু ওরফে হুন্ডা বাবু ও পিচ্ছি সজলদের ভাড়া করে। আর হত্যাকান্ডের জন্য ৩টি চাকু সরবরাহ করে। তারা পারভেজকে খুন করার উদ্দেশ্যে সুকৌশলে ২০১৫ সালে ১০ অক্টোবর রাত ১১টার দিকে কদমতলীতে পিচ্ছি সজল, হুন্ডা বাবু, জুয়েল, আল-আমিন সহ একত্রিত হয় এবং সেখানে রাসেলকেও আসামি সজল কৌশলে ডেকে নিয়ে আসে। ঘটনাস্থলে পৌঁছে পিচ্চি সজল ও বাবু ওরফে হুন্ডা বাবু অন্যদের নিয়ে ইয়াবা সেবন করে। ইয়াবা সেবন শেষে পিচ্চি সজল, হোন্ডা বাবু ও সজল তাদের কোমরে থাকা চাকু দিয়ে পারভেজ ও রাসেলকে আঘাত করে পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় পারভেজ ও রাসেলকে স্থানীয় লোকজন উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসারত অবস্থায় রাসেল মারা যায়। এসব তথ্য পাওয়ার পর পিবিআই ডিআইজি বনজ কুমার মজুমদারের এর প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধান ও দিকনির্দেশনায় আধুনিক তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মো. আল-আমিন শেখ এর নেতৃত্ত্বে একটি টিম অভিযান চালিয়ে ৩ আসামিকে গ্রেফতার করে। আসামীরা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। এভাবেই থানা পুলিশ না পারলেও পিবিআই কর্মকর্তারা রাসেল হত্যা রহস্য উদঘাটন এবং মামলার আসামিদের গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।