• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২০, ০১ শ্রাবণ ১৪২৭, ২৪ জিলকদ ১৪৪১

ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস পালিত

সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

| ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১৮ এপ্রিল ২০১৯

image

ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস উপলক্ষে গতকাল ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদন

ঢাকা ও মেহেরপুরসহ সারাদেশে নানা কর্মসূচির মধ্যদিয়ে গতকাল ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস উদযাপিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, আলোচনা সভা, বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন, গার্ড অব অনার প্রদান, কুচকাওয়াজ প্রদর্শনসহ বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

মুজিবনগর দিবস উপলক্ষে গতকাল সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাজধানীর ধানমন্ডিতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে তার স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। প্রধানমন্ত্রী এসময় বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতির সামনে কিছু সময় নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। পরে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা দলীয় নেতাদের সঙ্গে নিয়ে আওয়ামী লীগের পক্ষে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এ সময় আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য তোফায়েল আহমেদ, সভাপতিমন্ডলীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী ও ড. আবদুর রাজ্জাক, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী ও একেএম এনামুল হক শামীম, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদসহ দলের কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু ভবন এলাকা ত্যাগ করার পর বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতাকর্মীসহ সর্বস্তরের মানুষ সারিবদ্ধভাবে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে তার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

সংবাদের স্থানীয় প্রতিনিধি জানান, ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস উপলক্ষে মেহেরপুর জেলা শহর ও মুজিবনগর উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ভবন ও স্থাপনা, প্রধান সড়ক ও সড়কদ্বীপসমূহ জাতীয় পতাকা ও অন্যান্য পতাকা এবং আলোকসজ্জায় সজ্জিত করা হয়। গতকাল সূর্যোদ্বয়ের সঙ্গে সঙ্গে মুজিবনগর স্মৃতিসৌধের পাদদেশে মেহেরপুর জেলা প্রশাসক মো. আতাউল গনি জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্যদিয়ে দিবসটির কার্যক্রম শুরু করেন। পরে সকাল ৯টায় মুজিবনগরের মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিকেন্দ্রে মন্ত্রিপরিষদের সদস্য এবং বিশিষ্ট ব্যক্তি ও রাজনৈতিক নেতাদের পুষ্পস্তবক অর্পণের পর মুক্তিযোদ্ধা, বিজিবি, পুলিশ, আনসার ও ভিডিপি, স্কাউটস এবং স্কুলের ছাত্রছাত্রীরা গার্ড অব অনার প্রদান ও কুচকাওয়াজ প্রদর্শন করেন। কুচকাওয়াজের পর পরই আনসার ও ভিডিপি অধিদফতর দিবসটির সঙ্গে প্রাসঙ্গিক ‘বদলে যাও, বদলে দাও’ শিরোনামের গীতিনাট্য উপস্থাপন করেন। বেলা পৌনে ১১টায় মুজিবনগর শেখ হাসিনা মঞ্চে মুজিবনগর দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য ও ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে দলের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও হুইপ আবু সাইদ আল মাহমুদ স্বপন, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন, সংসদ সদস্য শাহীদুজ্জামান খোকন, সংসদ সদস্য সাইফুজ্জামান শিখরসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতারা বক্তব্য রাখেন। বিকেলে মুজিবনগর মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিকেন্দ্রের মাঠে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

উল্লেখ্য, ১৯৭১ সালের ১৭ মার্চ মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলা গ্রামের আম্রকাননে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ গ্রহণ করে। পরে এই বৈদ্যনাথতলাকেই ঐতিহাসিক মুজিবনগর নামকরণ করা হয়। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালরাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী নিরস্ত্র বাঙালির ওপর বর্বরোচিত হামলা চালানোর পর একই বছরের ১০ এপ্রিল আনুষ্ঠানিকভাবে সার্বভৌম গণপ্রজাতন্ত্র রূপে বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠা ঘোষণা করা হয়। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করা হয়। বঙ্গবন্ধুর অবর্তমানে সৈয়দ নজরুল ইসলামকে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি এবং তাজউদ্দিন আহমেদকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। এই অস্থায়ী সরকারের সফল নেতৃত্বে ১৬ ডিসেম্বর মুক্তিযুদ্ধে বিজয় অর্জিত হয়।