• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২০, ০১ শ্রাবণ ১৪২৭, ২৩ জিলকদ ১৪৪১

এসডিজি বাস্তবায়নে বাধা অর্থ সংকট ও তথ্য ঘাটতি

সংবাদ :
  • অর্থনৈতিক বার্তা পরিবেশক

| ঢাকা , রোববার, ২৮ এপ্রিল ২০১৯

টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য- এসডিজি বাস্তবায়নের অগ্রগতি মূল্যায়নে পর্যাপ্ত অর্থ ও তথ্য সংকটকে অন্যতম বাধা হিসেবে উল্লেখ করেছেন নাগরিক সংলাপে বক্তারা। গতকাল রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এই নাগরিক সম্মেলনে অংশ নেয়া পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নানও বিষয়টি স্বীকার করেছেন। চার বছরে বাংলাদেশে এসডিজি বাস্তবায়নের চিত্র তুলে ধরতে এই সংলাপের আয়োজন করে এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম, বাংলাদেশ।

সম্মেলনে মূল প্রবন্ধে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন বলেন, এসডিজি বাস্তবায়নের চার বছর পার হলেও অগ্রগতি মূল্যায়নে এখনও বড় প্রতিবন্ধকতা তথ্য ঘাটতি। প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে অধিকাংশ লক্ষ্য ও সূচকেই বাংলাদেশের অগ্রগতি হতাশাজনক। মূল প্রবন্ধে বলা হয়েছে, এসডিজির মোট ১৭ অভীষ্টের মধ্যে প্রধান ছয়টি বাস্তবায়নে ৬৮টি লক্ষ্য ও ৯৫টি সূচক বেঁধে দেয়া হলেও বেশকিছু লক্ষ্য ও সূচকে অগ্রগতির তথ্য বাংলাদেশে নেই।

শিক্ষা, শোভনকর্ম, অসমতা, জলবায়ু, শান্তি ও ন্যায়বিচার এবং উন্নয়ন অংশীদারিত্ব সংক্রান্ত ছয় অভীষ্টের মাত্র ৩৮টি লক্ষ্য ও ৫০টি সূচকের অগ্রগতির সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া গেছে। এতে আরও বলা হয়, এসডিজির বড় ছয় অভীষ্টের ৫০ সূচকের মাত্র ছয়টি সঠিক পথে রয়েছে। বাকি সূচকগুলোর অবস্থা ভালো নয়। ২০৩০ সালের মধ্যে এসব লক্ষ্য পূরণ নাও হতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।

মূল প্রবন্ধে বলা হয়েছে, নিম্ন মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষার হার ১৯৯৮ সাল থেকে এ পর্যন্ত ৩০ শতাংশ বেড়েছে। সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এমডিজি) বাস্তবায়নকালের তুলনায় এসডিজি সময়কালে শিক্ষার হার বেড়েছে। তবে শিক্ষা সমাপ্তি, প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষায় অন্তর্ভুক্তি, স্বাক্ষতার হার বৃদ্ধি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিদ্যুৎ, প্রযুক্তি ও স্যানিটেশন নিশ্চিত করার মতো সূচকে আরও উন্নতি করতে হবে।

ফাহমিদা বলেন, এসডিজি বাস্তবায়নের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে অর্থের একটা সংকট রয়েছে। আরেকটা সংকট হলো তথ্যের অভাব। তথ্য না থাকলে আমাদের অগ্রগতি কতটুকু হচ্ছে, সেটা বিবেচনা করতে পারব না। আমি বুঝতে পারব না, আমি কোথায় আছি, আমাকে কতদূর যেতে হবে। সেই তথ্যের ঘাটতিটা পূরণ করতেই হবে। সরকারের পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় থেকে তথ্যের ঘাটতির বিষয়টি বিবেচনায় আনা হয়েছে। আর অর্থ সংকট দূর করার বিষয়ে তিনি বলেন, সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি ও তৃণমূল পর্যায়ের সংগঠনগুলোর জন্য অর্থ যোগান দিতে হবে। তাদের জন্য একটা বিশেষ তহবিল গঠন করে তাদেরকে সুযোগ করে দিতে হবে। যেসব সংগঠনের অর্থ সংকট রয়েছে, তারা তহবিল থেকে অর্থ নিয়ে এসডিজি বাস্তবায়নে কাজ করবে। তবে এক্ষেত্রে জলবায়ু তহবিলের মতো যেন প্রশ্ন না উঠে সেদিকে খেয়াল রাখার পরামর্শও রাখেন তিনি।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান বৈষম্য কমানোর আগে দারিদ্র্য দূর করার বিষয়ে মত দেন। তিনি বলেন, আমাদের প্রথম ও প্রধান কাজ হচ্ছে উন্নয়ন, আধুনিকায়ন ও দারিদ্র্য দূরীকরণ। কিন্তু এ তিনটির মধ্যে যদি একটা রাখতে হয় তাহলে আমি রাখব ‘দারিদ্র্য দূরীকরণ’। এটাকে আমি অগ্রাধিকারে প্রথম জায়গায় স্থান দিব। স্বাস্থ্যসেবার অভাব, খাবারের অভাব, শিক্ষার অভাব সবকিছুর মূলেই আমার মনে হয় দারিদ্র্য। দারিদ্র্য ব্যক্তিগতভাবে ও জাতিগতভাবে।