• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বুধবার, ২৪ এপ্রিল ২০১৯, ১১ বৈশাখ ১৪২৫, ১৭ শাবান ১৪৪০

এডিস মশার উপদ্রব বাড়ছে : ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত ৬১ জন

দিনাজপুর ও পাবনায় কালাজ্বর শনাক্ত

সংবাদ :
  • বাকী বিল্লাহ

| ঢাকা , মঙ্গলবার, ১৬ এপ্রিল ২০১৯

বছরের শুরুতে ডেঙ্গুজ্বর ও চিকুনগুনিয়ার বাহক এডিস মশার উপদ্রব বাড়ছে। থেমে থেমে বৃষ্টির কারণে জমে থাকা পানিতে এডিস মশার প্রজনন হচ্ছে। স্বাস্থ্য অধিদফতরের কন্ট্রোল থেকে জানানো হয়েছে, চলতি বছর এখন পর্যন্ত মোট আক্রান্ত ৬১ জন। তবে বেসরকারি হিসেবে এ সংখ্যা আরও অনেক বেশি হতে পারে। ২০১৮ সালে আক্রান্ত হয়েছে ১০ হাজারেরও বেশি মানুষ। ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার বাহক একই মশা। চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত অনেকেই গেল বছর মাসের পর মাস কর্মক্ষম হয়ে পড়েছিলেন। অনেকেরই হাঁটুসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে প্রচন্ড ব্যথায় চলাচল বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। চলতি বছরের শুরুতে আবারও ডেঙ্গুজ্বর শুরু হয়েছে। এখনই জনসচেতনতা না বাড়ালে এডিস মশার উপদ্রব আরও বাড়বে। অপর দিকে নতুন করে দিনাজপুরে কালাজ্বরের বাহক বেলেমাছি পাওয়া গেছে। মহাখালী স্বাস্থ্য অধিদফতরের কীটতত্ত্ব বিশেষজ্ঞরা দিনাজপুরের কালাজ্বরে আক্রান্ত এক রোগীর খবর পেয়ে অনুসন্ধান চালিয়ে কালাজ্বরের বাহক কয়েকটি বেলে মাছির সন্ধান পেয়েছেন। এর আগে পাবনায় কালাজ্বরের বাহক বেলেমাছি পাওয়া গেছে। কীটতত্ত্ব বিশেষজ্ঞরা কালাজ্বর চিহ্নিত করতে ৩০০ জনের রক্তের নমুনা সংগ্রহ করেছেন। টার্গেট দেশ থেকে কালাজ্বর নির্মূল করা।

মহাখালী স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে জানা গেছে, চলতি বছরের শুরুতে ডেঙ্গুজ্বরের বাহক এডিস মশার উপদ্রব বাড়ছে। থেমে থেমে বৃষ্টির কারণে নির্মাণাধীন ভবনের ছাদের উপর জমে থাকা পানিতে মশার বিস্তার ঘটছে। এছাড়াও বাসা-বাড়িসহ অভিজাত এলাকার ফুলের টব, বালতি, ফ্রিজের নিচে জমে থাকা পানিতে মশার প্রজনন হয়। প্রতি মাসে এডিস মশার কামড়ে ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। গত জানুয়ারি থেকে ১২ এপ্রিল পর্যন্ত স্বাস্থ্য অধিদফতরের কন্ট্রোলের দেয়া তথ্য মতে ডেঙ্গুজ্বরে মোট ৬১ জন আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। তবে ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত অনেক রোগীর হিসাব স্বাস্থ্য অধিদফতরের কন্ট্রোল পর্যন্ত পৌঁছে না। আবার অনেকেই চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত হলেও প্রচ- ব্যথার কারণে বাসায় থেকে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। অনেকেই ডাক্তারের প্রাইভেট চেম্বারে গিয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। কীটতত্ত্ব বিশেষজ্ঞদের মতে, ডেঙ্গুজ্বরের বাহক এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস ও মশা মারার ওষুধ ছিটানো হলে মশার বিস্তার কমবে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আতিকুর রহমান (রেসপেরেটরি) বলেন, জ্বর হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে চিকিৎসা করতে হবে। আর প্রাথমিকভাবে প্যারাসিটামল ট্যাবলেট ছাড়া যাতে রোগী অন্য কিছু না খায়। এখন অনেকের জ্বর হচ্ছে। জ্বরের সঙ্গে প্রচন্ড ব্যথা হচ্ছে। চিকিৎসকের পরামর্শে জ্বরের লক্ষণ বুঝে চিকিৎসা হবে। তবে থেমে থেমে বৃষ্টির কারণে মশার উপদ্রব বাড়ছে বলে তিনি মনে করেন। এজন্য বাড়ির আঙ্গিনাসহ আশপাশ এলাকা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা ও যাতে বৃষ্টির পানি না জমে সে পরামর্শ দেন তিনি। আর দিনের বেলায় মশারি টানিয়ে ঘুমাতে হবে। না হয় একজন আক্রান্ত হলে তার থেকে আক্রান্তের সংখ্যা দিন দিন আরও বাড়তে পারে বলে তিনি মতামত দেন।

জানা গেছে, মহাখালী স্বাস্থ্য অধিদফতরের কীটতত্ত্ব বিশেষজ্ঞ রেজাউল করিম খানের নেতৃত্বে পাবনার পর দিনাজপুরে অনুসন্ধান জরিপ শুরু করেছেন। কালাজ্বর নির্মূলের টার্গেট নিয়ে এ জরিপ চালানো হচ্ছে। জরিপে একজন কালাজ্বর আক্রান্ত রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। এই জ্বরের বাহক ৩টি বেলে মাছি শনাক্ত করা হয়েছে। আর ৩০০ রোগীর রক্ত পরীক্ষা করা হয়েছে। এছাড়াও কীটতত্ত্ববিদরা ঢাকার বাইরে বিভিন্ন জেলায় অনুসন্ধান জরিপ চালিয়ে রোগ সৃষ্টি করে এমন মশা ও মাছির অনুসন্ধান ও অবস্থান নিশ্চিত করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানাবেন বলে জানা গেছে।