• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

সোমবার, ২১ অক্টোবর ২০১৯, ৫ কার্তিক ১৪২৬, ২১ সফর ১৪৪১

এখনও জ্ঞান ফেরেনি সুবীর নন্দীর

সংবাদ :
  • সাংস্কৃতিক বার্তা পরিবেশক

| ঢাকা , বুধবার, ১৭ এপ্রিল ২০১৯

image

হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার পর এরই মধ্যে পেরিয়ে গেছে ৪০ ঘণ্টা। চিকিৎসকদের মতে, সুবীর নন্দীর শারীরিক অবস্থা অপরিবর্তীত রয়েছে। সবকিছুই কৃত্রিম উপায়ে চলছে। তিনি এখনও অচেতন। তবে চিকিৎসকেরা তার ব্যাপারে আশাবাদী। গতকাল গণমাধ্যমকে এমনটাই জানিয়েছেন বরেণ্য এই সংগীতশিল্পীর জামাতা ড. রাজেশ সিকদার। জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী সুবীর নন্দী গত রোববার রাতে হৃদরোগে আক্রান্ত হন। পরে তাকে রাজধানীর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) ভর্তি করা হয়। সোমবার সকালে আইএসপিআরের সহকারী পরিচালক রাশেদুল আলম খান জানান, হাসপাতালে আনার পর সুবীর নন্দীকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি করা হয়। এখানে তাকে লাইফ সাপোর্ট রেখে প্রয়োজনীয় সব চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। ৭২ ঘণ্টা পর তার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত বলা যাবে।

পরিবারের পক্ষ থেকে সুবীর নন্দীকে দেখে এসে জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের জাতীয় সমন্বয়ক সামন্ত লাল সেন বলেছেন, অবস্থা ভালো না। সুবীর নন্দী দীর্ঘদিন ডায়াবেটিস রোগে ভুগছেন। তার হার্টে বাইপাস অপারেশন হয়েছে। কিডনির সমস্যা আছে। নিয়মিত ডায়ালাইসিস করাতে হয়। হাসপাতালে আনার পর তার মারাত্মক কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হয়েছে। সব মিলিয়ে পরিস্থিতি জটিল। এখন তাকে লাইফ সাপোর্ট দিয়ে রাখা হয়েছে। প্লিজ, সবাইকে তার জন্য দোয়া করতে বলবেন।

ড. রাজেশ সিকদার বলেছেন, আমরা মৌলভীবাজার গিয়েছিলাম, আত্মীয়ের বাড়িতে। সেখানে একটা অনুষ্ঠান ছিল। ঢাকায় ফেরার ট্রেনে ওঠার জন্য বিকেলে মৌলভীবাজার থেকে শ্রীমঙ্গলে চলে আসি। বাবা ট্রেনেই অসুস্থ হয়ে পড়েন। ভাগ্যক্রমে সেখানে একজন চিকিৎসক ছিলেন। তার পরামর্শে আমরা বিমানবন্দর স্টেশনে নেমে যাই। আমরা বাবাকে ল্যাবএইড হাসপাতালে নিয়ে যেতে চেয়েছিলাম, কারণ দীর্ঘদিন সেখানেই তিনি চিকিৎসা করাচ্ছেন। কিন্তু শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় রাত ১১টার দিকে তাকে দ্রুত সিএমএইচ হাসপাতালে নিয়ে যাই।

সুবীর নন্দী ৪০ বছরের দীর্ঘ ক্যারিয়ারে আড়াই হাজারেরও বেশি গান গেয়েছেন। পাঁচবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন। ১৯৫৩ সালের ১৯ নভেম্বর হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং উপজেলার নন্দীপাড়ায় সুবীর নন্দীর জন্ম। তিনি সিলেট বেতারে প্রথম গান করেন ১৯৬৭ সালে। এরপর ঢাকা রেডিওতে সুযোগ পান ১৯৭০ সালে। রেডিওতে তার প্রথম গান ‘যদি কেউ ধূপ জ্বেলে দেয়’। বেতার থেকে টেলিভিশন, তারপর চলচ্চিত্রে গেয়েছেন অসংখ্য জনপ্রিয় গান। ১৯৭৬ সালে আবদুস সামাদ পরিচালিত ‘সূর্যগ্রহণ’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে প্লেব্যাকে আসেন সুবীর। ১৯৭৮ সালে মুক্তি পায় আজিজুর রহমানের ছবি ‘অশিক্ষিত’। এ সিনেমায় সাবিনা ইয়াসমিন আর সুবীর নন্দীর কণ্ঠে ‘মাস্টার সাব আমি নাম দস্তখত শিখতে চাই’ গানটি তুমুল জনপ্রিয়তা পায়।