• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০১ মহররম ১৪৪২, ০৩ আশ্বিন ১৪২৭

একদিনে বিদায় নিলেন দুই সাহিত্য নক্ষত্র পিনাকী ঠাকুর ও দিব্যেন্দু পালিত

সংবাদ :
  • সাংস্কৃতিক বার্তা পরিবেশক

| ঢাকা , শুক্রবার, ০৪ জানুয়ারী ২০১৯

image

নারায়ণগঞ্জ : গতকাল নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় পৌর শহীদ মিনারে সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রণজিত কুমারকে ফুল দিয়ে শেষ শ্রদ্ধা জানান নাসিক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াত আইভীসহ অন্যরা -সংবাদ

একই দিনে পরপারে পাড়ি জমালেন ওপার বাংলার দুই কবি ও সাহিত্যিক পিনাকী ঠাকুর ও দিব্যেন্দু পালিত। গতকাল সকাল ৯টায় এসএসকেএমে হাসপাতালে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন কবি পিনাকী ঠাকুর। বেলা গড়াতেই খবর এল নেই সাহিত্যিক দিব্যেন্দু পালিতও।

কবি পিনাকী ঠাকুরের বয়স হয়েছিল ৫৯ বছর। চিকিৎসকদের প্রায় ১০০ ঘণ্টার লড়াইকে ব্যর্থ করে এসএসকেএমে মৃত্যু হয় তার। ২০১৮-র ২১ ডিসেম্বর থেকেই সেলিব্রাল ম্যালেরিয়ার মতো বিরল অসুখে ভুগছিলেন পিনাকী ঠাকুর। প্রথমে কল্যাণী জেএনএম হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাকে, পরে অবস্থার অবনতি হলে বারাকপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভেন্টিলেশনে রাখা হয়। পরে অবস্থা আরও গুরুতর হলে এসএসকেএমের ভর্তি করা হয়। সেখানেই তার মৃত্যু হয়।

কবি পিনাকী ঠাকুর মূলত আশির দশক থেকে লেখালিখি শুরু করলেও নব্বইয়ের দশকে এসে জনপ্রিয়তা লাভ করেন। ‘হ্যাঁ রে শাশ্বত’, ‘চুম্বনের ক্ষত’, ‘আমরা রইলাম’, ‘শরীরে কাচের টুকরো’-র মতো কালজয়ী কাব্যগ্রন্থ লিখে ভূয়সী প্রশংসা কুড়ালেও তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘একদিন অশরীরী’ প্রকাশের পর থেকেই পাঠকের নজরে চলে আসেন পিনাকী। এই কাব্যগ্রন্থের কারণে প্রশংসা আদায় করে নিয়েছিলেন নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী, মণীন্দ্র গুপ্ত, শঙ্খ ঘোষের মতো কবির কাছ থেকেও। তার লেখা ‘মূকাভিনয়’ গল্পটি নিয়ে ২০০৫ সালে শ্যামানন্দ জালান একটি ছবিও তৈরি করেছিলেন।

২০১২ সালে ‘চুম্বনের ক্ষত’ কাব্যগ্রন্থের জন্য পেয়েছিলেন আনন্দ পুরস্কার। এ ছাড়াও কৃত্তিবাস পুরস্কার ও বাংলা আকাদেমি পুরস্কারেও ভূষিত হয়েছিলেন কবি। প্রায় চল্লিশ বছরের কবিতাচর্চায় পেয়েছেন আরও অজস্র স্বীকৃতি। বিভিন্ন লিট?ল ম্যাগাজিনের উপদেষ্টা কমিটিতেও নিজের দায়িত্ব দক্ষতার সঙ্গে পালন করেছেন তিনি। অকৃতদার পিনাকী ব্যক্তিগত সুখ-দুঃখে বরাবর পাশে পেয়েছিলেন কবিতাজগতের নানা সুহৃদকে। ১৯৫৯-এর ২১ এপ্রিল জন্ম হয় কবি পিনাকী ঠাকুরের। জন্মভিটে বাঁশবেড়িয়ার কাছে ত্রিবেণী শ্মশানে গতকাল তার শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হয়। তবে তার আগে বিকেল ৩টায় বাংলা আকাদেমি চত্বরে তার মরদেহ সর্বস্তরের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য রাখা হয়।

অপর দিকে কথাসাহিত্যের অন্যতম প্রধান মুখ দিব্যেন্দু পালিতের বয়স হয়েছিল ৭৯ বছর। তিনি বুধবার অসুস্থ হয়ে যাদবপুরের কেপিসি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি হন। গতকাল সেখানেই তার মৃত্যু হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দিব্যেন্দু পালিত হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন। তিনি উচ্চরক্তচাপ ও টাইপ টু ডায়বেটিসে অসুস্থ ছিলেন। এর আগে একবার ব্রেন স্ট্রোকেও আক্রান্ত হন। ১৯৩৯ সালের ৫ মার্চ বিহারের ভাগলপুরে জন্ম হয় দিব্যেন্দু পালিতের। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে তুলনামূলক সাহিত্য বিভাগের ছাত্র ছিলেন। পঞ্চাশের দশকে বাংলা কথাসাহিত্যে যারা নজর কেড়েছিলেন, তাদের মধ্যে অন্যতম দিব্যেন্দু পালিত।

১৯৫৫ সালে প্রথম গল্প ‘ছন্দপতন’ প্রকাশিত হয় আনন্দবাজার পত্রিকার রবিবাসরীতে। প্রথম উপন্যাস ‘সিন্ধু বারোয়াঁ’ প্রকাশিত হয় ১৯৫৯ সালে। ১৯৮৪ সালে পেয়েছেন আনন্দ পুরস্কার। ১৯৯০ সালে ‘ঢেউ’ উপন্যাসের জন্য পেয়েছেন বঙ্কিম পুরস্কার। ‘অনুভব’ উপন্যাসটির জন্য সাহিত্য অ্যাকাদেমি।

বিশিষ্ট দুই সাহিত্যিকের মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এছাড়াও বিভিন্ন কবি-সাহিত্যিক শোক জানিয়েছেন।