• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

সোমবার, ০৮ মার্চ ২০২১, ২৩ ফাল্গুন ১৪২৭ ২৩ রজব ১৪৪২

রংপুর কারমাইকেলে দুর্নীতি

একদিকে তদন্ত অন্যদিকে শিক্ষক অবস্থান কর্মসূচি

সংবাদ :
  • জেলা বার্তা পরিবেশক, রংপুর

| ঢাকা , মঙ্গলবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০১৮

রংপুর কারমাইকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক আবদুল লতিফ মিয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ক্ষমতার অপব্যাবহার এবং শিক্ষকদের সঙ্গে আশোভন আচরণের বিষয়ে তদন্ত করতে গতকাল মাউশির তিন সদস্যের তদন্ত টিম কলেজে এসে তদন্ত শুরু করেছে।

দুপুর ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত তদন্ত কার্যক্রম চালানোর পর কাল আবারও তদন্ত করবে বলে জানা গেছে। মাউশির পরিচালক (প্রশিক্ষণ) অধ্যাপক আবদুল মালেকের নেতৃত্বে তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত টিম তদন্ত করছে। অন্য সদস্যরা হলেন- মাউশির পরিচালক অধ্যাপক জাহাঙ্গীর আলম ও উপ পরিচালক এইচ আর নাছির হোসেন । এর আগে দুটি কারে করে তিন সদস্যের তদন্ত টিম আজ দুপুর ৩টার দিকে কলেজের প্রশাসনিক ভবনের সামনে আসলে আন্দোলনকারী শিক্ষকদের সমর্থনে সাধারণ শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের মুখে পড়েন তদন্ত কমিটির সদস্যরা। তারপরেও তারা গাড়ি থেকে নেমে সোজা কলেজের অধ্যক্ষের কক্ষে গিয়ে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেন। আজ কলেজের ১৮টি বিভাগের বিভাগীয় প্রধানদের সঙ্গে আলাদা আলাদাভাবে কথা বলেছে তদন্ত কমিটি এবং তাদের সাক্ষ্য গ্রহণ করে। তবে এ ব্যাপারে সাংবাদিকদের সঙ্গে কোন কথা বলতে রাজি হয়নি তদন্ত কমিটি। তবে ১১ দিন পর আজ দুপুরে অধ্যাক্ষ আবদুল লতিফ মিয়া তার কার্যালয়ে আসলেও তার কক্ষে তালা ঝোলানো থাকায় দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে ছিলেন। পরে তদন্ত কমিটি আসার পর তার ঘরের দরজা খুলে দেবার পর তিনি ভেতরে প্রবেশ করেন। এ ব্যাপারে কারমাইকেল কলেজের শিক্ষক পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম লিখন জানান তদন্ত কমিটি কলেজের ১৮টি বিভাগের বিভাগীয় প্রধানদের এক এক করে ডেকে তাদের কাছে তাদের বক্তব্য শোনেন এবং তা লিপিবদ্ধ করেন। তিনি আরও জানান তদন্ত কমিটি তাদের বলেছে শিক্ষকরা অভিযোগ করতে চাইলে প্রত্যেক শিক্ষককে আলাদা আলাদা কাগজে অভিযোগ লিখে স্বাক্ষরসহ তাদের কাছে জমা দিতে পারবে। তিনি বলেন ১৭৮ জন শিক্ষক সবাই আমরা আমাদের অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে সব অভিযোগ আলাদা আলাদা কাগজে জমা দেব। কাল সকাল সাড়ে ১০টায় আবারও তদন্ত কমিটি তদন্ত করতে আসবে তারা বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত তদন্ত করে ঢাকায় চলে যাবে বলে তাদের জানানো হয়েছে বলে জানান তিনি। এদিকে শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আখতার হোসেন চৌধুরী জানান আজও আমরা অধ্যাক্ষের অপসারণের দাবিতে কালো ব্যাজ ধারণ করে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছি। যতদিন পর্যন্ত তাকে অপসারণ করা হবে না ততদিন আমাদের কর্মসূচি চলবে বলে জানান তিনি। এ ব্যাপারে কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক আবদুল লতিফের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন তদন্ত টিম এসেছে তদন্ত করছে এর বাইরে আপাতত তার কোন বক্তব্য নেই বলে জানান তিনি। উল্লেখ্য দুর্নীতি ক্ষমতার অপব্যাবহার ও শিক্ষকদের সঙ্গে আশোভন আচরণের প্রতিবাদে এবং নিজেকে শিক্ষা মন্ত্রীর ভায়রার দাপট দেখিয়ে শিক্ষকদের হয়রানিসহ হুমকি-ধামকির প্রতিবাদে শিক্ষক পরিষদের উদ্যেগে ১১ দিন ধরে অধ্যাক্ষের অপসারণের দাবিতে লাগাতার শিক্ষকদের অবস্থান কর্মসূচি পালন করছে শিক্ষকরা।