• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২০, ২৬ আষাঢ় ১৪২৭, ১৮ জিলকদ ১৪৪১

১৩ জেলায়

এক কোটি ৮০ লাখ লোক ম্যালেরিয়া ঝুঁকিতে

    সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
  • | ঢাকা , শুক্রবার, ১৯ এপ্রিল ২০১৯

দেশের ১৩ জেলায় ম্যালেরিয়ার প্রাদুর্ভাব রয়েছে। এসব জেলার ৭১টি উপজেলার প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ মানুষ ম্যালেরিয়া রোগের ঝুঁকিতে রয়েছেন। এমনকি দেশের প্রায় ৯১ শতাংশ ম্যালেরিয়া রোগী এই এলাকা থেকেই আক্রান্ত হন। ঝুঁকিপূর্ণ এসব এলাকার মধ্যে আবার রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানÑ পার্বত্য এই তিন জেলায় ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার সর্বাধিক। গতকাল রাজধানীর মহাখলীস্থ স্বাস্থ্য অধিদফতরে ‘বিশ্ব ম্যালেরিয়া দিবস’ উপলক্ষে অনুষ্ঠিত গণমাধ্যমে অবহিতকরণ সভায় এমন তথ্য তুলে ধরেন বিশেষজ্ঞরা।

অধিদফতরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক অধ্যাপক ডা. সানিয়া তাহমিনার সভাপতিত্বে ও ম্যালেরিয়া নির্মূল কার্যক্রমের এপিডেমিওলজিস্ট ডা. মশিউর রহমান বিটুর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এমএ ফয়েজ, ব্র্যাকের কমিউনিকেবল ডিজিজ ও ওয়াশ কর্মসূচির পরিচালক ড. আকরামুল ইসলাম, ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশনের (ডব্লিউএইচও) সাবেক কর্মকর্তা ডা. এএম বাঙালী, ডব্লিউএইচওর রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার মেডিকেল অফিসার ডা. মায়া সেপাল, জাতীয় কনসালট্যান্ট অধ্যাপক বেনজীর আহমেদ, অধিদফতরের জাতীয় ম্যালেরিয়া নির্মূল ও অ্যাডিসবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির ডেপুটি প্রোগ্রাম ম্যানেজার ডা. এমএম আক্তারুজ্জামান প্রমুখ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু সচেতনতার মাধ্যমে এ রোগের প্রতিরোধ অনেকাংশে সম্ভব। তাই এ বিষয়ে এসব এলাকাসহ সারাদেশের মানুষকে মশা থেকে সাবধানতামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে ম্যালেরিয়ার প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। তারা বলেন, আমাদের দেশে ম্যালেরিয়ার বিভিন্ন প্রকারভেদের মধ্যে ফ্যালসিপেরাম ম্যালেরিয়ার সংখ্যাই বেশি। ভারত-মায়ানমারে বেশি ভাইভেক্স ম্যালেরিয়া। তবে দেশে রোহিঙ্গা ক্যাম্প ছাড়াও অন্যান্য জায়গা, বিশেষ করে ভারতের ত্রিপুরা, মিজোরাম ও মেঘালয় এলাকা থেকে এই ভাইভেক্স বা মারাত্মক ম্যালেরিয়া বাংলাদেশে ছড়াচ্ছে। তাই আমরা শিঘ্রই ভারতের সঙ্গে একটি বৈঠকে বসবÑ যাতে এই এলাকাগুলোয় ম্যালেরিয়া নির্মূল কার্যক্রম ভালোভাবে গ্রহণ করা হয়। তা না হলে আমাদের লক্ষ্য অনুসারে ২০৩০ সালের মধ্যে দেশ থেকে ম্যালেরিয়া নির্মূল করা সম্ভব হবে না।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বক্তারা বলেন, ২০১৪ সালে হঠাৎ ম্যালেরিয়ার প্রকোপ বেড়ে যাওয়ার পেছনে ভারী বর্ষণের অভাব দায়ী ছিল। ওই বছর বেশি বৃষ্টি হয়। কিন্তু ভারী বর্ষণ হয়নি। তাই মশা বেশি জন্মেছিল। অর্থাৎ এ রোগের ক্ষেত্রে প্রাকৃতিক পরিস্থিতিই বেশি দায়ী থাকে।

২৫ এপ্রিল বিশ্ব ম্যালেরিয়া দিবস সামনে রেখে স্বাস্থ্য অধিদফতর, ব্র্যাক ও অন্যান্য সহযোগী সংস্থা অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য বিষয় থাকছে- ‘আমিই করবো ম্যালেরিয়া নির্মুল’।