• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বুধবার, ০৫ আগস্ট ২০২০, ১৪ জিলহজ ১৪৪১, ২১ শ্রাবণ ১৪২৭

উৎসবমুখর পরিবেশে বিজিএমইএ’র ভোটগ্রহণ : রুবানা হকের প্যানেল জয়ী

সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

| ঢাকা , রোববার, ০৭ এপ্রিল ২০১৯

উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারকদের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএ’র। গতকাল সকাল ৮টায় সংগঠনটির পুরনো ভবন কারওয়ান বাজারের নুরুল কাদের অডিটোরিয়ামে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলে। বিকেল ৫টায় ভোট গণনা শুরু হয়। সর্বশেষ রাত পৌনে ১০টা পাপ্ত তথ্য মতে রুবানা হকের সম্মিলিত-ফোরাম প্যানেল জয়ী হয়েছে। এ নির্বাচনের মাধ্যমে আগামী দুই বছরের (২০১৯-২১) জন্য নেতা নির্বাচিত করবেন পোশাক মালিকরা। নির্বাচন সুষ্ঠু করতে সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করে বিজিএমইএ’র নির্বাচন পরিচালনা বোর্ড। নানা জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে দীর্ঘ প্রায় ছয় বছর পর বহুল কাঙ্ক্ষিত নির্বাচন হলো বিজিএমইএ’তে। ফলে এবার আর সমঝোতার নির্বাচন নয়, প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেই আসছে নতুন নেতৃত্ব।

নির্বাচনে পরিচালনা পর্ষদের ৩৫টি পরিচালক পদে ৪৪ জন প্রার্থী অংশ নিয়েছেন। এর মধ্যে চট্টগ্রাম অঞ্চলের ৯ জন প্রার্থী বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ায় ২৬ পদে ভোটগ্রহণ হয়। এর মধ্যে প্রার্থী সম্মিলিত পরিষদের ও ফোরামের ২৬ জন, স্বাধীনতা পরিষদের ১৮ জন। সম্মিলিত পরিষদ ও ফোরামের নেতৃত্ব দিচ্ছেন মোহাম্মদী গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রুবানা হক। তিনি ঢাকা উত্তর সিটির প্রয়াত মেয়র আনিসুল হকের সহধর্মিণী। অন্যদিকে স্বাধীনতা পরিষদের প্যানেল লিডার ডিজাইন অ্যান্ড সোর্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম।

বিজিএমইএ’র নির্বাচনী বোর্ডের দায়িত্বে থাকা মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এমসিসিআই) সভাপতি ব্যারিস্টার নিহাদ কবির বলেন, আনন্দঘন পরিবেশে ভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। ভোটাররা উৎসবের আমেজে ভোট প্রদান করছেন। কোন সমস্যা হয়নি।

ভোট দিতে আসা নিজাম উদ্দিন নামে এক গার্মেন্টস মালিক বলেন, দীর্ঘদিন পর বিজিএমইএ’র নির্বাচন হচ্ছে। ভোট দিতে এসে ভালোই লাগছে। ব্যস্ততার জন্য অনেকের সঙ্গে দেখা হয় না, ভোট উপলক্ষে সবার সঙ্গে দেখা হচ্ছে। প্রতিটি সংগঠনের নির্বাচন হওয়া জরুরি। কারণ নির্বাচনের মাধ্যমেই যোগ্য নেতৃত্ব বেছে নেয়া সম্ভব।

সম্মিলিত পরিষদ-ফোরামের প্রার্থীরা হলেন- রুবানা হক, এস এম মান্নান, ফয়সাল সামাদ, মোহাম্মদ নাছির, আসিফ ইব্রাহিম, আরশাদ জামাল, এম এ রহিম, কে এম রফিকুল ইসলাম, মো. শহীদুল হক, মশিউল আজম, ইনামুল হক খান, মাসুদ কাদের, ইকবাল হামিদ কোরাইশী, নাছির উদ্দিন, কামাল উদ্দিন, সাজ্জাদুর রহমান মৃধা, রেজওয়ান সেলিম, মুনির হোসেন, এ কে এম বদিউল আলম, মিরান আলী, মোহাম্মদ আবদুল মোমেন, মোশারফ হোসেন ঢালী, শিহাব উদ্দোজা চৌধুরী, মহিউদ্দিন রুবেল। এছাড়া শরীফ জহির ও নজরুল ইসলাম।

এ যৌথ প্যানেলের চট্টগ্রাম অঞ্চল থেকে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ীরা হলেন- মোহাম্মদ আবদুস সালাম, এ এম চৌধুরী, এ এম মাহবুব চৌধুরী, এনামুল আজিজ চৌধুরী, মোহাম্মদ আতিক, খন্দকার বেলায়েত হোসেন, অঞ্জন শেখর দাশ, মোহাম্মদ মুছা ও মোহাম্মদ মেরাজ-ই-মোস্তফা।

অন্যদিকে স্বাধীনতা পরিষদের প্রার্থীরা হলেন- জাহাঙ্গীর আলম, দেলোয়ার হোসেন, হুমায়ুন রশিদ, রফিক হাসান, সাইফুল ইসলাম, শওকত হোসেন, খন্দকার ফরিদুল আকবর, জাহাঙ্গীর কবির, জাহিদ হাসান, শরিফুল আলম চৌধুরী, কাজী আবদুস সোবহান, জহিরুল ইসলাম, কাজী মাহয্যাবিন মমতাজ, মাহমুদ হোসাইন, হোসেন সাব্বির মাহমুদ, আয়েশা আক্তার, মো. ওয়ালীউল্লাহ এবং ওমর নাজিম হেকমত।

২০১৫ সালে বিজিএমইএ’র নেতৃত্ব নির্বাচনের উদ্যোগ নেয়ার পর প্রতিদ্বন্দ্বী দুটি প্যানেল সম্মিলিত পরিষদ ও ফোরাম সমঝোতার মাধ্যমে বর্তমান সভাপতি সিদ্দিকুর রহমানকে সভাপতি করে একটি পরিচালনা পর্ষদ ঠিক করেছিল। এরপর থেকে আর নির্বাচন না হয়ে তিন ধাপে এ পরিচালনা পর্ষদের মেয়াদ বাড়িয়েছিল বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এরপর সিদ্দিকুর রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল গত বছরের ২১ সেপ্টেম্বর। তখন নির্বাচন না হওয়ায় মেয়াদ আরও ছয় মাসের জন্য বাড়ানো হয়েছিল।

এর আগে, গত ৫ জানুয়ারি ২০১৯-২১ সময়ে নির্বাচনের জন্য পরিচালনা বোর্ড গঠন করা হয়। গত নির্বাচনের মতো এবারও বিটিএমএ’র সাবেক সভাপতি জাহাঙ্গীর আলামিন নির্বাচনী বোর্ডের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। অপর দুই সদস্য হচ্ছেন- এমসিসিআই’র সভাপতি নিহাদ কবির ও চট্টগ্রামভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি এএসএম নাইম।