• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

শুক্রবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ১৫ রবিউস সানি ১৪৪১

উপকূলে জেলেদের চাল নিয়ে চেয়ারম্যানের চালবাজি

বরাদ্দের অর্ধেক দেয়ায় বিক্ষোভ চলছে

সংবাদ :
  • জেলা বার্তা পরিবেশক, বরিশাল

| ঢাকা , শনিবার, ১৩ এপ্রিল ২০১৯

বাঙালির বাংলা উৎসব পহেলা বৈশাখ সামনে যখন ভোজনবিলাসীরা চড়া দামে ইলিশ সংগ্রহে ব্যস্ত, তখন প্রণোদনার চালের ন্যায্য হিস্যার দাবিতে বিক্ষোভ করছেন উপকূলীয় এলাকার প্রান্তিকপর্যায়ের ইলিশ জেলেরা।

প্রতি বছরের মতো এবারও জেলেদের একই অভিযোগ। চাল বিতরণে নানা ছলচাতুরী করছেন ইউনিয়ন চেয়ারম্যানরা। পরিমাণে কম দেয়া, জেলে নয়- এমন পরিবারকে চাল দেয়ার অভিযোগ উঠেছে তাদের বিরুদ্ধে। ইউপি চেয়ারম্যানদের এ অনিয়মের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ ও চাল জব্দ করা হয়েছে বিভিন্ন এলাকায়। অভিযোগ রয়েছে, এবার চাল চুরিতে কৌশল বদল করেছেন ইউপি চেয়ারম্যানরা। প্রতিটি ইউনিয়নেই তালিকাভুক্ত মোট জেলের অর্ধেকেরও কম সংখ্যককে প্রণোদনা সুবিধাপ্রাপ্তির জন্য তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। চেয়ারম্যানরা তালিকার বাইরে থাকা জেলেদের চাল দেয়ার কথা বলে তালিকাভুক্ত জেলেদের ৪০ কেজির পরিবর্তে ১৫-২০ কেজি করে দিচ্ছেন।

বরিশাল মৎস্য অধিদফতরের কর্মকর্তা (ইলিশ) বিমল চন্দ্র দাস বলেন, প্রতি বছর ১ নভেম্বর থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত জাটকা (১০ ইঞ্চির কম সাইজের ইলিশ) নিধনে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। এছাড়া ইলিশের অভয়াশ্রম হিসেবে চিহ্নিত উপকূলীয় এলাকার ৪৩২ বর্গকিলোমিটার নদীতে ১ মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত টানা দুই মাস সব প্রজাতির মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা থাকে। এ সময় প্রণোদনা হিসেবে প্রতি মাসে ৪০ কেজি করে ৪ মাসে মোট ১৬০ কেজি চাল দেয়া হয় জেলেদের। মৎস্য মন্ত্রণালয়ের সুপারিশে ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রণালয় ভিজিএফ প্রকল্পের আওতায় ইউপি চেয়ারম্যানদের মাধ্যমে এই কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে।

বিমল দাস বলেন, চাল প্রদানের পুরোপুরি ক্ষমতা ইউপি চেয়ারম্যানদের। মৎস্য বিভাগ শুধু কার্যক্রমটি পর্যবেক্ষণের দায়িত্ব পালন করে। প্রতি বছরই চেয়ারম্যানদের বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের খবর তারা শোনেন, এবারও শুনছেন। মৎস্য বিভাগের আইনি পদক্ষেপ নেয়ার ক্ষমতা না থাকায় তারা এর সুরাহা করতে পারছেন না।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত বুধবার মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার জয়নগর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মনির হাওলাদারের বাড়ি থেকে ৯৫ বস্তা চাল পুলিশ জব্দ করে। জেলেদের অভিযোগ, তাদের জন্য বরাদ্দকৃত চাল কালোবাজারে বিক্রির উদ্দেশ্যে চেয়ারম্যান মনির বাড়িতে মজুদ করেছিলেন। চেয়ারম্যানের বিচার দাবিতে বুধ ও বৃহস্পতিবার স্থানীয় জেলেরা বিক্ষোভ করেন। তার স্থানীয় প্রতিপক্ষ গ্রুপ এ ঘটনাকে ভিন্ন খাতে নিতে জেলেদের উসকে দিচ্ছে। বৃহস্পতিবার সকালে পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার দাসপাড়া ইউনিয়নের মুসলিমপাড়া গ্রাম থেকে জব্দ করা হয় ৮ বস্তা চাল।

ইউনিয়ন ছাত্রলীগ সভাপতি আতিকুর রহমান মোহন জানান, প্রকৃত জেলেদের বাদ দিয়ে চেয়ারম্যান একেএম জাহাঙ্গীর হোসেন তার অনুসারী সচ্ছল ব্যক্তিদের মধ্যে চাল বিতরণের সময় সেগুলো জব্দ করা হয়। তবে চেয়ারম্যানের দাবি, তাকে হেয় করার জন্য ছাত্রলীগ নেতা আতিকুর নাটক সাজিয়েছেন। একই অভিযোগ জানিয়ে মেহেন্দীগঞ্জের চরএককরিয়া ইউনিয়নের জেলেরা ৯ এপ্রিল উপজেলা মৎস্য অফিসের সামনে বিক্ষোভ করেন।

ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী জেলে সমিতির কেন্দ্রীয় সভাপতি আনোয়ার হোসেন সিকদার বলেন, জেলেদের জন্য সরকারিভাবে বরাদ্দ হয় প্রতি মাসে ৪০ কেজি চাল। আগে প্রতি বছর জেলেদের মাসে ৩০ কেজির বেশি চাল দিতেন ইউপি চেয়ারম্যানরা। এবার প্রান্তিক জেলেরা তাকে জানিয়েছেন, ১৫-২০ কেজির বেশি চাল দিচ্ছেন না ইউপি চেয়ারম্যানরা। তার জানা মতে, সর্বোচ্চ চাল পেয়েছেন ভোলার রামদাসপুর ইউনিয়নের জেলেরাÑ ২৫ কেজি। তিনি জানান, চেয়ারম্যানরা চাল চুরিতে এবার নতুন কৌশল নিয়েছেন। যেসব কার্ডধারী জেলে প্রণোদনার জন্য তালিকাভুক্ত হননি, তাদেরও চাল দেয়ার কথা বলে তালিকাভুক্ত জেলেদের ১৫-২০ কেজি করে দেয়া হচ্ছে। বাকি চাল চেয়ারম্যানরা নিজেরা আত্মসাৎ করছেন বা নিজেদের দলীয় ব্যক্তিদের দিচ্ছেন। এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে আগামী ১৬ এপ্রিল সারাদেশে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দেয়ার কথা জানান জেলে সংগঠনের এ নেতা।

বরিশাল বিভাগীয় মৎস্য অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, বরিশাল বিভাগের ৬ জেলায় তালিকাভুক্ত জেলে আছেন ৩ লাখ ৫১ হাজার ৩০ জন। তাদের মধ্যে প্রণোদনার জন্য তালিকাভুক্ত করা হয়েছে ১ লাখ ২৯ হাজার ৬৭৮ জনকে।