• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

মঙ্গলবার, ১৫ অক্টোবর ২০১৯, ৩০ আশ্বিন ১৪২৬, ১৫ সফর ১৪৪১

উন্নয়নের সূচকে ঈর্ষণীয় সাফল্য এলেও সুশাসনে কাক্সিক্ষত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারেনি

দুদক কমিশনার

    সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
  • | ঢাকা , শুক্রবার, ১৯ এপ্রিল ২০১৯

দুদক কমিশনার ড. মো. মোজাম্মেল হক খান বলেছেন, বাংলাদেশ মাতৃমৃত্যু, শিশু মৃত্যু, দারিদ্র্য বিমোচন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিসহ উন্নয়নের বিভিন্ন সূচকে ঈর্ষণীয় সাফল্য লাভ করলেও দুর্নীতি কিংবা সুশাসনের অন্যান্য সূচকে কাক্সিক্ষত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারেনি। প্রতি বছর টিআইবি দুর্নীতির ধারণা সূচকে বাংলাদেশের যে অবস্থান প্রকাশ করে, তা মোটেই গৌরবের নয়। আমরা খাদ্য উৎপাদন, ক্রিকেট খেলা কিংবা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে ভালো তালিকার প্রথম দশটি দেশের মধ্যে থাকলেও দুর্নীতি দমনে কেন সেরা দশের তালিকায় আসতে পারছি না? আমরা কেন পর পর পাঁচবার দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলাম? এসব প্রশ্নের উত্তর অবশ্যই আমাদের দিতে হবে। গতকাল রাজধানীর উত্তরার মাইলস্টোন কলেজের ‘সততা সংঘ’ আয়োজিত শিক্ষক-শিক্ষার্থী সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

মোজাম্মেল হক খান বলেন, এক সময় সামাজিকভাবে বলা হতো চাকরিতে বেতন বাদে ‘উপরি’ কেমন? এক সময় উপরি আয়ের প্রতি অনেকের নজর ছিল। এখন আর সে অবস্থা নেই। বরং মানুষ এখন উপরির দিকে তাকাতে চায় না। অনেকেই মনে-প্রাণে এটাকে ঘৃণা করে। দুর্নীতি দমন কমিশনও উপরি গ্রহণের প্রথা ভাঙতে ফাঁদ মামলাসহ বিভিন্ন কৌশলগত কার্যক্রম গ্রহণ করছে। তারপরও আমাদের সমাজে দুর্নীতির ব্যাপকতা অস্বীকার করার উপায় নেই। তিনি বলেন বিশ্বমানের শিক্ষা, জাতিগতভাবে দুর্নীতির প্রতি শূন্য সহিষ্ণুতা, সৎ, দক্ষ ও সক্ষম সিভিল সার্ভিস তথা আমলাতন্ত্র ব্যতিরেকে দুর্নীতি দমন কিংবা সুশাসন নিশ্চিত করা কঠিন এবং কোন কোন ক্ষেত্রে প্রায় অসম্ভব বলে অনেকেই মনে করেন।

সম্প্রতি জাতীয় নির্বাচনের আগে বর্তমান সরকারের সর্বোচ্চ মহল থেকে জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস, মাদক এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে যে দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়েছিল, সরকার গঠনের পরও সেই অঙ্গীকারের ন্যূনতম বিচ্যূতি ঘটেনি। তাই আমরা দৃঢ়ভাবে বলতে পারি, দুর্নীতি দমনে সরকারের যে রাজনৈতিক অঙ্গীকার রয়েছে তা বাস্তবায়নে কমিশন বহুমাত্রিক এবং স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। আমরা সমন্বিতভাবে যদি দুর্নীতি ঘটার আগেই তা প্রতিরোধ করতে পারি, তাহলে এটি প্রতিকারমূলক ব্যবস্থার চেয়ে উত্তম হবে। তাই আসুন, আমরা সবাই দুর্নীতির বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান গ্রহণ করি। দুর্নীতির কোন ঘটনা ঘটছে, জানতে পারলেই কমিশনের হটলাইন ১০৬-এ জানিয়ে দিই। তাহলে দুর্নীতি ঘটার আগেই কমিশন অভিযান চালিয়ে তা অঙ্কুরেই বিনাশ করতে পারবে। তিনি বলেন, দুর্নীতি সংঘটিত হলে কমিশন প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। এমনকি দুর্নীতিবাজদের হাতে-নাতে ধরার জন্য দেশব্যাপী ফাঁদ পেতে ঘুষখোরদের গ্রেফতার করছে। এগুলো কমিশনের চলমান আইনি প্রক্রিয়ার অংশ। পাশাপাশি দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি, সততা সংঘ, সততা স্টোর স্থাপনের মাধ্যমে দেশব্যাপী দুর্নীতিবিরোধী গণজাগরণ সৃষ্টি করে দুর্নীতিবিরোধী সামাজিক আন্দোলনকে তীব্র থেকে তীব্রতর করার জন্য নিরলসভাবে কাজ করছে। দুদকের এই কার্যক্রমের সঙ্গে মাইলস্টোন কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা সম্পৃক্ত হওয়ায় তিনি তাদের ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন। তিনি তরুণ প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, একদিন তোমরাই দেশের নেতৃত্ব দিবে। তাই তোমাদের সততা, নৈতিকমূল্যবোধ হতে হবে কালোত্তীর্ণ মানদ-ে সর্বোচ্চ। তোমাদের সততা বিকশিত হয়ে পরিশুদ্ধ হবে সমাজ। আমাদের দৃষ্টিসীমায় এখন অন্ধকারের অমানিশা কেটে আলোয় উদ্ভাসিত হবে বাংলাদেশ।

সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন কলেজটির উপদেষ্টা কর্নেল (অব.) নুরুননবী, উত্তরা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি লে. কর্নেল (অব.) আবদুল খালেক, কলেজের অধ্যক্ষ শহীদুল ইসলাম প্রমুখ। সমাবেশে দুদক কমিশনার শিক্ষার্থীদের মাঝে দুর্নীতিবিরোধী বিভিন্ন সুবচন ও শ্লোগান সংবলিত খাতা, জ্যামিতি বক্স, ব্যাগ বিতরণ করেন। সমাবেশের আগে তিনি মাইলস্টোন কলেজে নতুন একটি সততা স্টোর-এর উদ্বোধন করেন।