• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

রবিবার, ১২ জুলাই ২০২০, ২৮ আষাঢ় ১৪২৭, ২০ জিলকদ ১৪৪১

উন্নয়ন সম্পর্কে ধারণা দিতেই উন্নয়ন মেলা

প্রধানমন্ত্রী

| ঢাকা , শুক্রবার, ১২ জানুয়ারী ২০১৮

image

গতকাল গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সারাদেশে উন্নয়ন মেলার উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সারাদেশে উন্নয়ন মেলার উদ্বোধনকালে বলেছেন, সরকার যে কাজগুলো করেছে এবং ভবিষ্যতে যে কাজগুলো করতে যাচ্ছে তা সম্পর্কে জনগণকে সম্যক ধারণা দিতেই এই মেলার আয়োজন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই মেলায় আজকে যারা সম্পৃক্ত রয়েছেন তাদের বলবো যে কাজগুলো আমরা করতে পেরেছি এবং যে কাজগুলো ভবিষ্যতে করার পরিকল্পনা নিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে সেগুলো সম্পর্কে যেমন জনগণকে সচেতন করা দরকার তেমনি আমাদের উন্নয়ন কর্মসূচিগুলো যেন সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হয় তার জন্য সবার সহযোগিতা একান্তভাবে দরকার।’

তিনি বলেন, ‘এই উন্নয়ন যেন অব্যাহত থাকে সেই লক্ষ্য নিয়েই এই উন্নয়ন মেলার সূচনা।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে গতকাল ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে একযোগে সব জেলা-উপজেলায় অনুষ্ঠিত উন্নয়ন মেলার উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির ভাষণে একথা বলেন। জাতীয় সংসদে ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বি মিয়া, এলজিআরডি মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন এবং তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক মো. আবুল কালাম আজাদ অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তৃতা করেন এবং প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমান ভিডিও কনফারেন্সটি সঞ্চালনা করেন। অনুষ্ঠানের শুরুতেই উন্নয়ন মেলা নিয়ে একটি ভিডিও তথ্যচিত্র পরিবেশিত হয়।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বরগুনা, ঝিনাইদহ, হবিগঞ্জ, গাইবান্ধা ও চাঁদপুর জেলার স্থানীয় জনগণের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। তার সরকার প্রতিটি গ্রামকে দারিদ্র্য মুক্ত করতে চায় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে বলেন, আজকের বাংলাদেশ তার দেয়া ঘোষণা মোতাবেক ডিজিটাল বাংলাদেশের রূপ পরিগ্রহ করেছে। বাংলাদেশের মানুষ আজকে সবধরণের সেবা পাচ্ছে। মোবাইল ফোন প্রত্যেকটি মানুষের হাতে পৌঁছে গেছে। প্রায় ৮ কোটি জনগণ ইন্টারনেট ব্যবহার করছে এবং প্রযুক্তি ব্যবহার করে মানুষের জীবনমানের এই উন্নয়নই তার সরকারের লক্ষ্য। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি দেশবাসীকে এটুকু বলব যে, উন্নয়ন মেলা যেটি তার সরকার করে যাচ্ছে, এই উন্নয়ন হচ্ছে জনগণের উন্নয়ন। গ্রামের মানুষ, তৃণমূলের মানুষের উন্নয়ন। এই উন্নয়ন হচ্ছে বাংলাদেশকে সমগ্র বিশ্বের দরবারে একটি সম্মানজনক অবস্থানে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে।

তিনি বলেন, ইনশাল্লাহ আমরা বাংলাদেশকে উন্নত-সমৃদ্ধ সোনার বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তুলতে সক্ষম হব। যে স্বপ্ন একদিন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দেখেছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার পর এই দেশকে গড়ে তোলার জন্য জাতির পিতা মাত্র সাড়ে ৩ বছর সময় পেয়েছিলেন।

এত স্বল্প সময়ে কোন যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশ গড়ে তোলা সম্ভব হয়েছিল কি না তার জানা নেই উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেই অসাধ্য সাধন করেছিলেন বঙ্গবন্ধু। তার মতো বলিষ্ঠ নেতৃত্ব ছিল বলেই এটা সম্ভব হয়েছিল।

বাংলাদেশ রাষ্ট্রে পরিণত করা এবং রাষ্ট্রীয় অবকাঠামো থেকে শুরু করে আইন তৈরি, নীতিমালা, বিধিমালা থেকে শুরু করে একটি রাষ্ট্রের যা যা প্রয়োজন তার সবই সেই স্বল্প সময়ে জাতির পিতা করে দিয়ে যান বলেও প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশ গড়ে তোলার পাশাপাশি জাতির পিতা যখন উন্নয়নের কাজ শুরু করেন যার সুফল দেশবাসী পেতে শুরু করে ঠিক সে সময়েই জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যা করা হয়।

জাতির পিতাকে হত্যার পরই এদেশে অবৈধভাবে সংবিধান লঙ্ঘন করে ক্ষমতা দখলের রাজনীতি শুরু হয় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা এই ক্ষমতা দখলকারী তারা ক্ষমতাকে নিষ্কন্টক করার জন্য একের পর এক ক্যু ঘটিয়ে হাজার হাজার মুক্তিযোদ্ধা-সামরিক অফিসার এবং সৈনিক হত্যা করেছে। কিন্তু দেশের সাধারণ মানুষ বঞ্চিত এবং শোষিত থেমে গেছে। তাদের ভাগ্যের কোন পরিবর্তন হয় নাই।

সরকার প্রধান বলেন, নিজেদের ভাগ্য গড়ায় ’৭৫ পরবর্তী শাসকগোষ্ঠী যতটা ব্যস্ত ছিলেন দেশের জনগণের ভাগ্য পরিবর্তনে তারা কিছুই করেননি। সেই সময়ে ১৯টি ক্যু হয় বলেও প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন।

দেশের প্রবৃদ্ধি এখন ৭ দশমিক ২৮ ভাগ এবং ডিসেম্বর মাসে ৫ দশমিক ৮৪ ভাগ মূল্যস্ফীতি ছিল উল্লেখ করে সরকার প্রধান বলেন, তার সরকারের উন্নয়নটা সার্বিকভাবে সব মানুষের জন্য। বিশেষ করে গ্রামের মানুষের জন্য।

বিভিন্ন জেলার স্থানীয় জনগণের সঙ্গে মতবিনিময়কালে চাঁদপুরের মৎস্যজীবী মানিক দেওয়ানের বক্তব্যের প্রেক্ষিতে শুধু ব্যবহারকারীই নয়, কারেন্ট জাল প্রস্তুুতকারক এবং বিক্রেতাদের বিরুদ্ধেও সরকার কঠোর ব্যবস্থা নেবে বলে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন।