• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

শুক্রবার, ১৬ এপ্রিল ২০২১, ৩ বৈশাখ ১৪২৮ ৩ রমজান ১৪৪২

ফেনীর নুসরাতকে পুড়িয়ে হত্যার দু’বছর পার

উচ্চ আদালতের চূড়ান্ত রায়ের অপেক্ষায় স্বজনরা

সংবাদ :
  • প্রতিনিধি, ফেনী

| ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ০৮ এপ্রিল ২০২১

image

ফেনীর আলোচিত সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাযিল মাদ্রাসার পরীক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফির গায়ে আগুন লাগিয়ে দেয়ার রোমহর্ষক ঘটনার দুই বছর পার হয়েছে। ২০১৯ সালের ৬ এপ্রিল পরীক্ষার আগমুহূর্তে মাদ্রাসা অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলার নির্দেশে মাদ্রাসার প্রশাসনিক ভবনের ছাদে নিয়ে নুসরাতের গায়ে আগুন ধরিয়ে দেয় দুর্বৃত্তরা। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০ এপ্রিল ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নুসরাতের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। সে বছরের ২৪ অক্টোবর ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশিদ মামলার রায়ে অধ্যক্ষসহ ১৬ আসামিকে মৃত্যুদ- দেন। ঘটনার দুই বছর পার হওয়ায় ও উচ্চ আদালতের রায় বিলম্বিত হওয়ায় মৃতের পরিবার আশঙ্কা প্রকাশ করছেন। নুসরাতের বড় ভাই ও মামলার বাদী মাহমুদুল হাসান নোমান জানান, আশা করছি নিম্নআদালতের দেয়া রায় উচ্চ আদালতেও বহাল থাকবে। তিনি দ্রুত রায় কার্যকর করার জন্য সরকারের প্রতি অনুরোধ জানান।

মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শাহ জাহান বলেন, ২০১৯ সালের ২৯ অক্টোবর আসামিদের মৃত্যুদ-াদেশ অনুমোদনের জন্য (ডেথ রেফারেন্স) মামলার যাবতীয় কার্যক্রম হাইকোর্টে পৌঁছে। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পেপারবুক (মামলার যাবতীয় নথি) ছাপানো শেষ করা হয়েছিল। শুনানির জন্য মামলাটি প্রধান বিচারপতি বরাবর উপস্থাপন করা হয়। আপিল অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনানির জন্য বেঞ্চ নির্ধারণ করেন প্রধান বিচারপতি। কিন্তু করোনা পরিস্থিতির কারণে শুনানি শুরু হতে দেরি হওয়ায় ওই বেঞ্চ বাতিল হয়ে গেছে। তিনি আশা করছেন, করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আবার বেঞ্চ গঠন করে মামলার শুনানি শুরু হবে।

এদিকে বেআইনিভাবে নুসরাতের আপত্তিকর ভিডিও ধারণ ও ইন্টারনেটে ছেড়ে দেয়ার অন্য মামলায় ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে সোনাগাজী থানার তৎকালীন ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনকে আট বছরের কারাদ- দিয়েছিলেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা করেছিলেন ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহাম্মদ আসসামছ জগলুল হোসেন। অন্যদিকে এ হত্যাকা-ের ঘটনার তদন্তে দায়িত্বে অবহেলা ও ওসির

পক্ষাবলম্বন প্রমাণ মেলায় সে বছরের ১২ মে ফেনীর তৎকালীন এসপি জাহাঙ্গীর আলম সরকারকে ফেনী থেকে সরিয়ে পুলিশ সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়। ফেনী ছাড়ার আগে এসপি জাহাঙ্গীর, স্থানীয় চার সাংবাদিককে আসামি করে নয়টি মিথ্যা মামলায় অভিযোগপত্র দিয়ে যায়।

ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল ২০১৯ সালে ২৭ মার্চ। সেদিন ওই মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে নুসরাতের শ্লীলতাহানি করে। এ ঘটনায় তার মা শিরিনা আক্তার বাদী হয়ে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা করলে পুলিশ অধ্যক্ষকে গ্রেপ্তার করে। মামলা তুলে না নেয়ায় ৬ এপ্রিল এইচএসসি সমমানের আলিম শ্রেণীর আরবি প্রথম পত্রের পরীক্ষার আগমুহূর্তে পরীক্ষাকেন্দ্রের ছাদে নিয়ে যায়। পরে নুসরাতের হাত-পা বেঁধে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেন বোরকা পরা পাঁচজন। ৮ এপ্রিল তার ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান ৮ জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করে থানায় মামলা করেন।

২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশিদ মামলার রায়ে নির্দেশদাতা অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ ১৬ আসামিকে মৃত্যুদ- দেন। পাশাপাশি প্রত্যেক আসামিকে এক লাখ টাকা করে অর্থদ- করা হয়। রায় দ্রুত কার্যকরের দাবি জানালেন নুসরাতের মা শিরিনা আক্তার। তিনি বলেন, ‘আজ দুই বছর আমি আমার মেয়ের মা ডাক শুনতে পাই না। রাতে ঘুম হয় না। মেয়ের আগুনে পোড়া শরীরটা চোখে ভাসে। মেয়ে আমার মৃত্যুযন্ত্রণায় ছটফট করছিল। এরপর তো মরেই গেল। আমার মেয়েকে জানোয়ারেরা হাত-পা বেঁধে আগুন দিয়ে পুড়ে মারল।’