• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০১ মহররম ১৪৪২, ০৩ আশ্বিন ১৪২৭

বাগেরহাট

ইউপি চেয়ারম্যান পেটালেন মাদ্রাসা শিক্ষককে

সংবাদ :
  • প্রতিনিধি, বাগেরহাট

| ঢাকা , শুক্রবার, ০৪ জানুয়ারী ২০১৯

বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার খোন্তাকাটা মদিনাতুল উলুম দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষক আলী আহমেদকে মারপিট করেছে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান জাকির হোসেন খান মহিউদ্দিন। বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার খোন্তাকাটা এলাকায় মাদ্রাসার প্রধান ফটকের সামনে এ ঘটনা ঘটে। শিক্ষক আলী আহমেদ মোড়েলগঞ্জ উপজেলার খাওলিয়া ইউনিয়নের আমতলী গ্রামের মৃত হরমুজ আলী গাজীর ছেলে। কিছুদিন আগে সে গোয়েন্দা পুলিশের হাতে আটক হয়েছিল। শিক্ষক আলী আহমেদ বলেন, প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবার সকালে বাড়ি থেকে মাদ্রাসায় আসি। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মাদ্রাসার গেটের সামনে দাঁড়ালে চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন ও তার ভাগ্নে মেহেদী এসে আমাকে বলে তুই ওপার থেকে এপারে এসে কিভাবে চাকরি করিস? এ বলেই আমাকে চরথাপ্পর ও কিল ঘুষি মারে এ সময় স্থানীয় লোকজন এসে জড়ো হলে চেয়ারম্যান গালাগালি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে স্থানীয় লোকজন আমাকে শরণখোলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করে। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে কানে বড় ধরনের সমস্যা হয়েছে বলে জানান চিকিৎসক এবং খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। শিক্ষক আলী আহমেদ আরও বলেন, কিছুদিন আগে পাশর্^বর্তী মোরেলগঞ্জ উপজেলার আমতলি গ্রামে আমার নিজের বাড়ি। একই এলাকার বাদশা নামে এক লোকের সাথে আমাদের জমিজমা নিয়ে বিরোধ রয়েছে। বাদশা ওই চেয়ারম্যানের কাছে নালিশ জানালে চেয়ারম্যান আমাকে অহেতুকভাবে এ মারধর করে। শরণখোলা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা অসিম কুমার সমাদ্দার বলেন, মাদ্রাসা শিক্ষক আলী আহমেদ আহত অবস্থায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসেছিলেন। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। মাদ্রাসা ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি হাসানুজ্জামান জমাদ্দার বলেন, একজন শিক্ষককে প্রকাশ্যে মারধর করার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। আমি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বিষয়টি অবহিত করেছি। নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। শরণখোলা থানার ওসি দিলিপ কুমার সরকার বলেন, আমি কোন অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা গ্রহণ করার আশ^াস দেন তিনি। এদিকে ইউপি চেয়ারম্যান জাকির হোসেন খান মহিউদ্দিন শিক্ষককে মারধরের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, একটি বিষয়ে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে তার নিকট অভিযোগ আসলে তিনি তাকে ডেকে পাঠান। কিন্তু ওই শিক্ষক আমার সাথে দেখা না করে উল্টো আমার বিরুদ্ধে অশ্লীল মন্তব্য করতে থাকে। এ জন্য তাকে একটু সাবধান করে দেয়া হয়েছে।