• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২০, ০১ শ্রাবণ ১৪২৭, ২৪ জিলকদ ১৪৪১

আ’লীগের জনপ্রিয়তা আরও বেড়েছে

প্রধানমন্ত্রী

সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

| ঢাকা , শনিবার, ২০ এপ্রিল ২০১৯

আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সাধারণত একটি দল যখন রাষ্ট্র পরিচালনায় থাকে তখন অনেক সময় ধীরে ধীরে সরকারের জনপ্রিয়তা হ্রাস পায়। তবে আল্লাহর রহমতে বিগত বছরগুলোতে রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ জনগণের আস্থা, বিশ্বাস অর্জন করতে পেরেছে। আওয়ামী লীগের জনপ্রিয়তা আরও বেড়েছে। গতকাল বিকেলে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের কার্যনির্বাহী সংসদ ও উপদেষ্টা পরিষদেও যৌথ সভার সূচনা বক্তব্যে শেখ হাসিনা এ কথা বলেন তিনি। সভায় আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদ ও উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

তৃণমূল থেকে দলকে ঢেলে সাজানো হবে : সভায় আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা তৃণমূল থেকে আওয়ামী লীগকে নতুন করে ঢেলে সাজানোর কথা বলেন। সদ্য অনুষ্ঠিত সভাপতিমন্ডলী ও ওয়ার্কিং কমিটির সভার প্রসঙ্গ তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, আমরা উপদেষ্টা পরিষদ, সভাপতিমন্ডলী ও কার্যকরী পরিষদের সমন্বয়ে ৮টি বিভাগে ৮টি কমিটি গঠন করেছি। এই কমিটির দায়িত্ব হবে তৃণমূল পর্যায় থেকে আমাদের সংগঠনগুলোকে ঢেলে সাজিয়ে নতুন করে গড়ে তোলা। কোথায় কমিটি আছে না আছে সেগুলো দেখা। সাংগঠনিকভাবে আওয়ামী লীগকে আরও মজবুত করে গড়ে তোলা। সেটাই আমাদের লক্ষ্য।

২০২০-২১ মুজিববর্ষ উদযাপন : মুজিববর্ষ পালনের কথা উল্লেখ করে বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমরা জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী উদ্যাপন করব। এজন্য আমরা বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়েছি। সরকারিভাবে কমিটি গঠন করেছি। দলের পক্ষ থেকেও আমরা পদক্ষেপ নিয়েছি। একটি কমিটিও করেছি। ২০২০ সাল থেকে ২০২১ সাল পযন্ত মুজিব বর্ষ হিসেবে উদ্যাপন করব ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদ্যাপন করব। সেই উপলক্ষে আমরা উপদেষ্টা পরিষদ ও কার্যযকরী পরিষদ একসঙ্গে বসেছি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, দলের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধির কারণে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সব শ্রেণী-পেশার মানুষ এমনকি ব্যবসায়ী সম্প্রদায় ঐক্যবদ্ধ হয়ে আওয়ামী লীগকে সমর্থন করেছে। কৃষক, শ্রমিক, শিক্ষক, ছাত্র- সবচেয়ে বড় কথা যারা প্রথমবারের মতো ভোটার, নবীন ভোটার, সবাই আওয়ামী লীগ সরকারকে আবারও চেয়েছে। তাদের সেবা করার জন্য আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়েছে। যেটা অতীতে কখনো দেখা যায়নি।

মনোনয়ন বাণিজ্যের কারণে বিএনপির ভরাডুবি : নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াতের ভরাডুবির কারণ হিসেবে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, নির্বাচনকে তারা (বিএনপি-জামায়াত) মনে করেছে ব্যবসা। টিকিট বেচে তারা কিছু পয়সা কামাই করে নিয়েছে কিন্তু নির্বাচনের প্রতি তাদের খুব একটা নজর ছিল না। জাতীয়-আন্তর্জাতিকভাবে যখন সার্ভে (জরিপ) করা হয়েছিল, সেই সার্ভেতে তখন থেকে স্পষ্ট যে আওয়ামী লীগকে জনগণ চায়। জনগণ আওয়ামী লীগকে ভোট দেবে এবং আওয়ামী লীগ আবার ক্ষমতায় আসবে। বাণিজ্য করার ওপর তারা গুরুত্ব দিয়েছে। যার জন্য তাদের এই হাল।

জাতির পিতার অবদানের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, যুদ্ধবিধ্বস্ত স্বাধীন দেশটা যখন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে উন্নয়নের পথে যাত্রা শুরু করে তখনই ১৫ আগস্টের নির্মম ঘটনা ঘটে। নির্মমভাবে জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যা করা হয়। ১৫ আগস্ট-পরবর্তী ২১ বছরের কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, এরপর জাতির জীবনে নেমে আসে অমানিশার অন্ধকার। এ সময় মানুষের কোন অগ্রগতি হয়নি। কেবলমাত্র আওয়ামী লীগ যখন ক্ষমতায় আসে তখনই এ দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন হতে শুরু করে।

আওয়ামী লীগ সরকারের উন্নয়ন প্রসঙ্গে টানা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ’৯৬ সালে প্রথম ক্ষমতায় আসে আওয়ামী লীগ, এরপর ২০০৮ সালে নির্বাচনে আবারও বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করে এখন পর্যন্ত রাষ্ট্র পরিচালনা করছে। বাংলাদেশ আজ ক্ষুধামুক্ত, বাংলাদেশ আজ দারিদ্র্যমুক্ত হবার পথে। দারিদ্র্যের হার আমরা প্রায় ৪০ ভাগ থেকে ২১ ভাগে নামিয়ে এনেছি। তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে অর্থনৈতিক উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। উন্নয়নের ছোঁয়া আজ গ্রামপর্যায় পর্যন্ত পৌঁছে গেছে। আজ গ্রামের মানুষ দারিদ্র্যমুক্ত হচ্ছে, মানুষের আর্থিক সচ্ছলতা বাড়ছে। এটাই জাতির জনকের স্বপ্ন ছিল, যেটা জাতির পিতা চেয়েছিলেন যে বাংলাদেশ হবে ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলাদেশ।

বিএনপি-জামায়াত আমলের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন- দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ-এগুলোই ছিল তাদের কাজ। আজ দেশের মানুষ অন্তত শান্তি পাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এবার ব্যাপকভাবে নববর্ষ উদ্যাপন হয়েছে। শ্রেণী-পেশা নির্বিশেষে সবাই এই উৎসবটা করেছে। আমরা কিন্তু নববর্ষ ভাতাও দিচ্ছি। প্রধানমন্ত্রী এ সময় বাংলাদেশকে ক্ষুধা, দারিদ্র্যমুক্ত, উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করেন।